আজ : শনিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অক্ষয়ের ছবি প্রসঙ্গে যা বললেন তসলিমা

সময় : ১২:৪৩ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৪ আগস্ট, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

২০১৯ সালের মধ্যে দেশকে স্বচ্ছ করে তুলতে বদ্ধপরিকর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অন্যতম অংশ হল শৌচালয় নির্মাণ। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও যাতে শৌচালয় তৈরি ও তা ব্যবহার করেন, তার জন্য বিভিন্নভাবে প্রচার চালাচ্ছে মোদি সরকার।

আর প্রধানমন্ত্রীর সেই ভাবনাকেই যেন বড়পর্দায় আরো বড় করে ফুটিয়ে তুলেছেন অক্ষয় কুমার। তার নতুন ছবি ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’ ছবিতে। ইতোমধ্যেই ছবিটি দেখে ফেলেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ছবির বিষয়বস্তু পছন্দ হলেও সমাজকে বার্তা দেওয়ার পদ্ধতিটি একেবারেই মনে ধরেনি তার।
ভারতের সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, বিতর্কিত লেখিকা চিরকালই সামাজিক নানা বিষয়ে, অসাম্যে প্রতিবাদের সুর ছড়িয়েছেন। বরাবরই রাখঢাক করে কথা বলতে অভ্যস্ত নন। তাই ছবি নিয়ে নিজের ভাল-মন্দ মতামত সরাসরি ফেসবুকেই পোস্ট করেছেন তিনি। তার মতে বলিউডি নাচ-গান আর অ্যাকশন নিয়ে তৈরি ছবির থেকে এ ধরনের সমাজশিক্ষা মূলক ছবি বানানোর সিদ্ধান্ত ঢের ভাল। কিন্তু ছবিতে একটি বিশেষ কারণে শৌচালয় তৈরিতে জোর দেওয়া হয়েছে। কারণটি নারীদের সম্মান। খোলা স্থানে কোনো নারী বিবস্ত্র হয়ে শৌচকর্ম করবেন, তা একেবারেই শোভনীয় নয়। ছবিতে এ কথাই ঘুরে ফিরে এসেছে।
আর এখানেই আপত্তি তুলেছেন তসলিমা। তার প্রশ্ন, শুধুই কি নারীর সম্মান বাঁচানোর জন্য শৌচাগার বানানোর দরকার? পুরুষদের ক্ষেত্রে কি এর প্রয়োজনীয়তা নেই? সুস্থ শরীর ও সমাজকে পরিচ্ছন্ন রাখতেও তো শৌচালয় গড়ে তোলা জরুরি। কিন্তু সে সব দিকগুলো ছবিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বারবার একটিই কারণ তুলে ধরা হয়েছে। যা পছন্দ হয়নি তসলিমার।
ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘জনসংখ্যার অর্ধেকের চেয়ে বেশি লোক যে দেশে মাঠে জঙ্গলে পেচ্ছাব পায়খানা করে, সে দেশে টয়লেট ব্যবহার করার পক্ষে একখানা চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে! সাধু উদ্যোগ। চলচ্চিত্রে চেষ্টা করা হয়েছে টয়লেট ব্যবহার করার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার। তবে ছবিটিতে মূলত যা বলা হয়েছে তা হলো, মেয়েরা পাবলিকের সামনে ন্যাংটো হয়ে পেচ্ছাব পায়খানা করতে বসে, এটা অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। মেয়েদের লজ্জা নিবারণ করতেই টয়লেটের প্রয়োজন অনুভব করে কিছু মানুষ। কিন্তু টয়লেট যে একই রকম জরুরি পুরুষের জন্য সে কথা বলা হয় না। এটি যে সবার স্বাস্থ্যের জন্য দরকার তাও বলা হয় না। মানুষ তো মাঠে ঘাটে পায়খানা করে পরিবেশকে দূষিত করছে, সে ব্যাপারে কিছু শিখলো না। এই শিক্ষাটাই যদি দেওয়া না হয়, তবে এই সিনেমাকে শিক্ষামূলকই বা বলি কী করে!’

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top