আজ : শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করুন

সময় : ৫:৫২ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২০ মে, ২০১৭


এটা খুবই দুঃখজনক যে প্রশ্ন ফাঁসের মত গুরুতর অপরাধের ঘটনা ঘটেই চলেছে। নানা রকম উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে চাকরির প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হচ্ছে। সবশেষ গতকাল অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। এ কারণে সকালে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বিকেলের পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

গতকাল শুক্রবার অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগের বাছাইপর্বের (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা ছিল। ২৬২টি পদের বিপরীতে দুই লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী থাকায় সকাল বিকেল দুই ভাগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সকাল ভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আরেক ভাগের পরীক্ষা ছিল বিকেল সাড়ে তিনটায়। কর্তৃপক্ষ প্রথমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করে। পরে বেলা একটায় সিদ্ধান্ত জানায়, বিকেলের পরীক্ষা আর হবে না।

সকালের পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সাথে পরীক্ষার প্রশ্ন হুবহু মিলে যায়। এরপরও পরীক্ষা নেয়া হয়। পরে অভিযোগের মুখে বিকেলের পরীক্ষা নেয়া না হলেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নে অনুষ্ঠিত সকালের পরীক্ষা বাতিল না করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্ব পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগ।

প্রশ্ন হচ্ছে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে যদি বিকেলের পরীক্ষা বাতিল করা হয় তাহলে সকালের পরীক্ষা কেন বাতিল করা হবে না। প্রশ্ন ফাঁসের অকাট্য প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। এরপরও এ ধরনের একপেশি সিদ্ধান্ত কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। গত ২১ এপ্রিল ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অভিযোগের পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উল্টো আবার ঘটলো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। এর একটা বিহিত জরুরি।

প্রশ্ন ফাঁস রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বেকারত্বের এই দেশে একজন পরীক্ষার্থী কত অপেক্ষায় থাকে পরীক্ষা দিয়ে চাকরির প্রত্যাশায়। কিন্তু সেই প্রশ্ন যদি ফাঁস হয়ে যায় এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। এতে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে। তাদের মনোবল নষ্ট হয়ে যায়। অভিভাবকরাও হতাশায় ভোগেন। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের মত জঘন্য এবং গর্হিত অপরাধের সাথে যারা জড়িত তাদের কোনো শাস্তি হয়। অজ্ঞাত কারণে তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। দিনের পর দিন এভাবে চলতে পারে না। অগ্রণী ব্যাংকের শুক্রবারের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করতে হবে। প্রশ্ন ফাঁসের সাথে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রশ্ন ফাঁসের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।

Top