আজ : শনিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অটোবাইকের দৌরাত্মে যানজটে অতিষ্ঠ চাঁদপুর শহরবাসী

সময় : ৫:১০ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৬ আগস্ট, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

চাঁদপুরে ব্যাটারি চালিত অটোবাইকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে অটোবাইকের দৌরাত্মে তীব্র জানজটের শহরে পরিণত হয়েছে চাঁদাপুর শহর। বর্তমানে চাঁদপুর পৌরসভার নিবন্ধিত অটোবাইকের সংখ্যা মাত্র ২হাজার। কিন্তু বাস্তবে রয়েছে ৪থেকে ৫হাজার এর ফলেই প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকছে। বিশেষ করে শহরের শপথ চত্বর, পালবাজার মোড় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রতিদিন মারাত্তক যানজট লেগেই থাকে। অবৈধ অটোবাইকের কারণে এই যানজট কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারীরা ও সাধারণ যাত্রীরা। পৌরসভা কতৃপক্ষ বলছে এখন আর নতুন করে কোন অটোবাইকের নিবন্ধন লাইসেন্স দেয়া হচ্ছেনা। তবে যাদের পূর্বের নিবন্ধন রয়েছে তাদের প্রতি বছর নতুন করে নিবন্ধন লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। কতৃপক্ষ আরো জানান, অটোবাইক নামানো থেকে মানুষকে নিরুতসাহিত করার জন্য নবায়ন ফি বৃদ্ধি করেছে পৌর কতৃপক্ষ। গত অর্থ বছরে নবায়ন ফি বাবদ নেয়া হত ৯হাজার টাকা,চলতি অর্থ বছরে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৭হাজার টাকা যা গত বছরের চাইতে দ্বিগুন। শহরে পেডেল রিস্কার সংখ্যাও অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। ১৪-১৫ অর্থ বছরে পৌরসভার নিবন্ধিত পেডেল চালিত রিস্কার সংখ্যা ছিল ৫হাজার ২শ’। সেখান থেকে গত অর্থ বছর পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে ২হাজার ৫শ’। চলতি অর্থ বছরে এর সংখ্যা কমে দাড়িয়েছে মাত্র ১হাজার ৫শ”তে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে দীর্ঘ সময় অটোবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিস্কা থামিয়ে রাখা, রাস্তার মাঝ খানে দাড় করিয়ে যাত্রীদের উঠা-নামা করানো। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এসব কাজ করেই চলেছে অনভিগ্য চালকরা। এসব অটোবাইক চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই কোনো প্রশিক্ষণ। যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা । অনেকটা নিরুপায় হয়েই এসব গাড়িতে জিবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। ড্রাইভিং লাইসেন্স নিচ্ছেন না কেন জানতে চাইলে, ক’জন অটোবাইক চালক জানান, অটোবাইক চালাতে কোনো প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগে না। অল্প দিনে শেখা ও চালানো যায়। এছাড়া তাদের কাছে কেউ কোনো দিন ড্রাইভিং লাইসেন্স চায়নি। শহরের কালীবাড়ি থেকে ওয়্যারলেস মোড় পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অটোবাইক চলাচল করে। এর মধ্যে ছায়াবাণী মোড়, চেয়ারম্যান ঘাট, চিত্রলেখা মোড়, কলেজ গেইট, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোবাইকের জন্য প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট এবং দুর্ঘটনা ঘটে। একাধিক যাত্রী সাধারণের সাথে কথা বলে জানা যায়, অটোবাইক চালকদের কোন প্রশিক্ষণ নেই। সে কারণে তারা যত্রতত্র অটোবাইক পারকিং আর নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া মাঝ রাস্তায় গাড়ি ঘুরানোর কারণে যানজট লেগেই থাকে। রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানজট নিরশনে কাজ করা ট্রাফিক পুলিশরা জানান, অটোবাইকগুলোর চালকদের অধিকাংশ ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন। পৌর কর্তৃপক্ষ অটোবাইকের অনেক বেশি নিবন্ধন লাইসেন্স দেয়া এবং এর সাথে অবৈধ অটোবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার জন্য যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তারা আরও জানান অটোবাইকের মালিকরা ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী কিশোরদের দিয়ে অটোবাইক চালানোর জন্য মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। এসব বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিলে আমরাও সহযোগিতা করবো। তা হলে শহরের যানজট কিছুটা হলেও কমে আসবে। তবে অটোবাইক চালকদের দাবি, শহরের কোথাও অটোবাইকের নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় যানজটের সৃস্টি হচ্ছে। তাদের নির্ধারিত স্ট্যান্ড করে দিলে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। স্থানীয় পৌরবাসী জানায়, চাঁদপুর শহরে প্রতিনিয়ত নতুন অটোবাইক বিক্রি ও অবৈধভাবে নামানো হচ্ছে। কিন্তু চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা শিশু ড্রাইভার দিয়ে চালানোর কারনে যানজটের সৃস্টিসহ দুর্ঘটনাও ঘটে চলছে প্রতিনিয়ত। পুরনো সড়ক গুলো প্রসস্থ করন এবং শহরথেকে শহরের বাইরে যাওয়া আসার নতুন সড়ক তৈরী না করা হলে আগামীতে শহরে পায়ে হেটে চলা-চলে নাগরীকদের কস্টসাধ্য হয়ে দাড়াবে।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top