আজ : শুক্রবার, ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং | ৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অনিশ্চয়তায় মুখে ৫০ মেডিকেল শিক্ষার্থী ভবিষ্যত

সময় : ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৯ মে, ২০১৭


প্রশাসনিক নানা জটিলতার মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধীভুক্ত শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৫০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে আগামী ২০ মে থেকে ওই শিক্ষার্থীদের প্রথম প্রভিশনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।

জানা যায়, কলেজে পরিদর্শন শেষে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সেখানে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে এই অনিয়ম রাবি কলেজ পরিদর্শকের নজরে আসার পর ২০১৬ সালে ওই সেশনের কার্যক্রম স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

কিন্তু সদুত্তর না পাওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এর মধ্যে আগামী ২০ মে প্রথম বর্ষ প্রভিশনাল পরীক্ষা বাবদ ওই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি ও ফরম পূরণের টাকা আদায় করে কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ৭ মে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক আব্দুস সোবহান নিয়োগ পেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার অনুমোদন চেয়ে নতুন করে আবেদন করেন।

ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক দফতর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভায় বসে। কিন্তু সেখানে পরীক্ষা স্থগিত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ মে) ওই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্যাম্পাসে এসে কলেজ পরিদর্শককে অনুরোধ জানান। এসময় পা জড়িয়ে ধরেও পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি চান অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ অনিময় করলে তার মাশুল আমাদের ছেলেমেয়েদের দিতে হবে কেন? তাদের প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের কারণে তো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে পারে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও রাবি কলেজ পরিদর্শক দফতর কীভাবে তাদের ঝামেলা সমাধান করবে, সেটা তাদের বিষয়, কিন্তু আমরা আমাদের সন্তানদের পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি চাই।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি ও পরীক্ষার ফি বাবদ টাকা নেয়া হয়েছে। আমাদের শিক্ষাবর্ষ স্থগিত করা হয়েছে, সেটা আমরা জানতাম না। তাহলে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আমরা কেন ভুক্তভোগী হবো?

জানতে চাইলে কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষাবর্ষের অধীভুক্তি নবায়ণ করেননি। তাই ওই শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম বন্ধ আছে। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করে পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি নিতে আবেদন জানায়। তাই গতকাল মিটিং-এ মানবিক দিকটি ভেবে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তবে এখনই সম্ভব নয়। কারণ কর্তৃপক্ষ অধিভুক্তি নবায়ন করবে, তারপর ওই শিক্ষাবর্ষ চালু করা হবে। সেটা ছয় মাসের আগে সম্ভব নয়।

এই বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি দাবি করেন। তারা বলেন, আমাদের কী দোষ, আমরা কেন ছয় মাস জটে পড়বো, কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল আমরা কেন দিবো, আর ছয় মাস পর পরীক্ষা তার কী গ্যারান্টি আছে।

এ বিষয়ে শাহ মখদুম কলেজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনিরুজ্জামান স্বাধীন বলেন, মাঝখানে দুইমাস রাবিতে ভিসি না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে খুব দ্রত এ সমস্যার সমাধান করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগেও অনুমোদন ছাড়াই কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করার অভিযোগ ওঠে এই কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। যার কারণে তাদের ২৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কলেজের সভাপতি তানোর-গোদাগাড়ি আসনের সাংসদ ওমর ফারুক তৎকালীন উপাচার্যের কার্যালয়ে এসে হুমকি-ধামকি দিয়ে যায়। পরে সিন্ডিকেট কলেজের অনুমোদন স্থগিত করেন। শেষমেষ ক্ষমা চেয়ে চিঠি দেয়ার পুনরায় কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করে কলেজটি। পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস ও ১ বছরের ইন্টার্নশিপ ডিগ্রি কোর্স চালু আছে এই কলেজে। রাজশাহী মহানগরের খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় এই ক্যাম্পাস।

Top