আজ : শনিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৭ ইং | ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অব্যাহত প্রশ্নফাঁস উদ্বেগজনক: এর নিরসন দরকার

সময় : ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ০৯ মার্চ, ২০১৭


অব্যাহত প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ও তার নিরসনের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবী-সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব-নাগরিক। ‘শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলন’-এর আহ্বায়ক রাখাল রাহা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বিবৃতিটি প্রদান করা হয়েছে।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক হাশেম খান, সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনূর রশীদ, অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, অধ্যাপক আবুল বারকাত, অধ্যাপক এম এম আকাশ, সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।

এছাড়া বিদেশে অবস্থানের কারণে ইমেইলের মাধ্যমে সম্মতি প্রদান করেছেন সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ। আর স্বাস্থ্যগত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যাপক আনিসুজ্জামানও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিদাতারা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে বলে আমরা পত্রপত্রিকা ও প্রচারমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোও আমরা আগ্রহের সাথে লক্ষ করছি। কিন্তু আমরা অতি উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি, সরকার কর্তৃক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও প্রশ্নফাঁস হয়েছে এমন খবর থামছে না। চলমান এসএসসি পরীক্ষায়ও বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় এসেছে। এগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো তা আমরা এখনও জানতে পারিনি।

তারা সরকারের সরকারের শিক্ষা-কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এগুলোর সঠিকভাবে তদন্ত করা হোক। প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হলে পরীক্ষাগুলো পুনরায় গ্রহণ করা হোক। একইসাথে প্রশ্নফাঁসের মতো অসৎ প্রক্রিয়ার সাথে, উচ্চ থেকে নিম্ন স্তর পর্যন্ত, যারাই জড়িত থাক তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। তা না হলে এটা শিক্ষাঙ্গনে ভয়াবহ দুর্যোগ ডেকে আনবে। জাতির এই ক্ষতি আমরা কখনো কাটিয়ে উঠতে পারব না।

প্রশ্নফাঁসের প্রসঙ্গ ছাড়া বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, পাশাপাশি পরীক্ষা-কক্ষ পরিদর্শনে শৈথিল্য এবং উত্তরপত্রের অতি শিথিল মূল্যায়নের বিষয়েও বেশ কয়েক বছর ধরে কথা হচ্ছে। আমরা অবশ্যই চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা কৃতকার্য হোক। কিন্তু পরীক্ষাগ্রহণে বা উত্তরপত্র মূল্যায়নে শৈথিল্য দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কৃতকার্য করা হলে সেই ফল তাদের জীবনে সত্যিকারের কোনো সাফল্য আনতে পারবে না।

তারা মনে করেন, আমরা শুধু বস্তুগত সম্পদে নয়, একইসাথে শিক্ষা-দীক্ষায়, শিল্প-সাহিত্যে ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে সম্পদশালী একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। আমাদের সেই স্বপ্ন সরকারের স্বপ্ন থেকে পৃথক নয় বলেই মনে করি। সে বিবেচনা থেকেই আমাদের প্রত্যাশা সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং তার স্বপ্ন, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাবেন।

Top