আজ : বুধবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার বহু প্রতীক্ষিত আগমন

সময় : ১:১৬ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৮ আগস্ট, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

অবশেষে সব আয়োজন সম্পন্ন। শুক্রবার রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে স্টিভেন স্মিথরা ঢাকায় পা রাখবেন। প্রায় এক যুগ পর আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। দলটা অস্ট্রেলিয়া বলেই প্রতীক্ষাটা এমনিতে বেশি। কিন্তু এই সিরিজ নিয়ে গেল দুবছরের নানান টানাপোড়নে প্রতীক্ষাটা হয়েছে তীব্র। এবার আর কোন সংশয় নেই। সত্যিই আসছে অস্ট্রেলিয়া। প্রতীক্ষাটা শুরু বোধহয় ২০১১ সাল থেকেই। সেবার বিশ্বকাপের পর পরই বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে খেলেছিলো মাইকেল ক্লার্কের দল। বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্ট খেলা তখন যেন তাদের কাছে সময় নষ্ট করার সামিল। পরে কোন এক সময় এসে দুই টেস্ট খেলব, দিয়েছিলো এমন সান্ত্বনা। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে কত গাইগুই।
বোর্ড কর্তাদের অনেক দূতিয়ালির পর ২০১৫ সালে এসে রাজি হয় কুলীন দলটি। ঠিক হয় অক্টোবর-নভেম্বরে দুই টেস্ট খেলতে আসবে তারা। চূড়ান্ত হয় সূচি। ঘোষণা হয় দল। সব প্রস্তুতি নিয়ে আটঘাট বেধে মাঠে তখন বাংলাদেশ। বিমানে উঠার আগেই হঠাৎ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সফর বাতিল করে দেয় তারা। গণমাধ্যম জুড়ে তোলপাড়। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাষ্ট্রপ্রধান মানের নিরাপত্তার ওয়াদাও করা হয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়ে দেয় কিছুই করার নেই তাদের। সরকারের গ্রিন সিগন্যাল নেই।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঘোর অন্ধকার। নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তানের মতো অচ্যুত হওয়ার শঙ্কা। সে শঙ্কা পরে বাড়িয়ে দিয়েছিলো হোলি আর্টিজেনের জঙ্গি হামলা। তবে সব তুড়ি মেরে উড়িয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা সিরিজ হয়েছে, এশিয়া কাপ হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করে নিরাপত্তার শঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। তবে যুব বিশ্বকাপে ওই নিরাপত্তার অজুহাতেই দল পাঠায়নি অস্ট্রেলিয়া। যদিও বিশ্বকাপ প্রাক বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলতে অস্ট্রেলিয়া ফুটবল দল একদিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিলো।
অস্ট্রেলিয়ার সব নিরাপত্তার শঙ্কা অবশ্য দূর হয়ে যায় গেল অক্টোবরে ইংল্যাড সিরিজে। ইংলিশদের সেবার ইতিহাসের সেরা নিরাপত্তা দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। তখন অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিজ চোখে এসে দেখে গেছেন তা। এবার যখন সিরিজের সূচি চূড়ান্ত হলো তখন আর নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারল একাধিক সফরে সন্তুষ্ট হয়ে দিয়েছেন গ্রিন সিগন্যাল। সব যখন সম্পন্ন তখন আবার দেখা দিল নতুন সংকট। বেতন-ভাতা নিয়ে আন্দোলনে গেলেন স্মিথ-ওয়ার্নাররা। তা এমনই অবস্থা দাঁড়ালো যে বোর্ড আর ক্রিকেটাররা একদম মুখোমুখি। কেউ ছাড় দিবে না। দাবি না মানলে বাংলাদেশ সফর বাতিলের হুমকিও দিয়ে বসলেন ক্রিকেটাররা। আবার দেশের ক্রিকেটে দুশ্চিন্তা। নিরাপত্তার সমস্যাও নেই, তবু ফসকে যাবে ব্যাগি গ্রিন ক্যাপধারীদের সফর?
কয়েকদিন সবাইকে টান টান উত্তেজনায় রেখে দাবি মেনে নিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। হাসতে হাসতে অনুশীলনে ফিরে গেলেন স্মিথরা। ব্যাটে বলে শান দিয়ে বাক্স পেটরা গুছিয়ে হয়ে গেলেন তৈরি। আর কোন সংশয় নেই। সাদা পোশাকে ২০১১ সালে না খেলার তাচ্ছিল্যের জবাব দিতে পুরোদমে তৈরি মুশফিকুর রহিমরা। ঘরের মাঠে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারানোর সুখস্মৃতি তরতাজাই। বেশ কবছর উপমহাদেশে সাফল্য নেই অস্ট্রেলিয়ার। নেই আগের সেই প্রতাপশালী ঝাঁজ। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বিশ্লেষকদেরও ধারনা ব্যাটে বলে বাংলাদেশে কঠিন সময় পার করতে হবে স্মিথদের। তবে সব শেষেও সংশয় একটা কিন্তু আছেই। তাতে কারো কোন হাতও নেই। ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা পেরিয়ে গেলেও এখনো যে আকাশের মুখ ভারি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বৃষ্টি হতে পারে আরও কয়েকদিন। ক্রিকেট সমর্থকদের তাই নতুন প্রতীক্ষার পালা, রোদ্দুরের প্রতীক্ষা।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top