আজ : রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল

সময় : ৪:৫৭ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১২ আগস্ট, ২০১৭


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছে। এমনকি তারা এমন সব মন্তব্য করেছে যে মন্তব্য শুধু অশালীনই নয়, তা আদালত অবমাননার শামিল। বৃহস্পতিবার একজন মন্ত্রী যিনি নিজে হাইকোর্ট দ্বারা সাজাপ্রাপ্ত, তার মন্ত্রিত্ব থাকা উচিৎ নয়, তিনি আবার প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করেছেন। খুব চিৎকার করে কথা বলছেন।’

শুক্রবার এক দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের আশু আরোগ্য কামনায় এই দোয়া মাহফিল হয়।

এ সময় আওয়ামী লীগ পেছনের দরজা দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাদুল কাদেরের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা বরাবরই দেখেছি, বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসার জন্য এই দলটি (আওয়ামী লীগ) পেছন দরজা দিয়ে চেষ্টা চালায়। এবারও তারা জনগণকে ভুল বুঝিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে।’

ফখরুল বলেন, ‘তারা (সরকার) মনে করেছে আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত একটি একতরফা একদলীয় নির্বাচন করে তারা ক্ষমতায় আসবে। আমরা আবারও বলছি, ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটি ২০১৮ সালে হবে না। এদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।’

গত ৮ জুলাই পূর্ব লন্ডনের মুরফিল্ড চক্ষু হাসপাতালে খালেদা জিয়ার ডান চোখে সফল অস্ত্রোপচার হয়। খালেদা জিয়ার চোখে সফল অস্ত্রোপচারের পরবর্তী অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি এখন সুস্থ আছেন। আমরা আজ ও কাল কেন্দ্রীয়ভাবে ২ দিন সারাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় আমাদের দেশনেত্রীর দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা জানাতে কর্মসূচি নিয়েছি।’

খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার পরে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল অনেক নাটক সাজিয়েছে। তারা দেশনেত্রীর এই লন্ডন সফরকে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এমনকি ষড়যন্ত্রের সফর বলেও আখ্যায়িত করেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমি বলতে চাই, আগে নিজের মুখের দিকে তাকান। নিজেদের চেহারা আয়নাতে দেখুন। আপনারা যেসমস্ত কথা বলছেন, কোথায় নিয়ে গেছেন রাষ্ট্রকে, কোথায় নিয়ে গেছেন দেশকে। সত্য কথা বেরিয়ে এসেছে আপিল বিভাগের রায়ের মধ্য দিয়ে। আপনারা দানবের মতো সব কিছুকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন, গণতন্ত্র ধ্বংস করছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধবংস করছেন, মানুষের মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বলেছেন, আমরা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই এবং নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় আমরা সেই নির্বাচন চাই।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। অতি দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন। তিনি যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে একটি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে সহায়ক সরকারের অধীনে এই সরকারকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করবো।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদেরকে কোনও কাজই করতে দেয়া হবে না; আমাদেরকে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো প্রয়োগ করতে দেয়া হবে না; আমাদেরকে আমাদের দলের আর্দশ প্রচার করার জন্য কোনও সুযোগ দেয়া হবে না; কোথাও সভা করতে দেয়া হবে না; কোথাও সমিতি করতে দেয়া হবে না; কোথাও র‌্যালি করতে দেয়া হবে না। এমনকি এই যে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মতো প্রোগ্রাম করতেও সব জায়গায় বাধা দিচ্ছে।’

ফখরুল বলেন,‘ শুধু ক্ষমতাসীনরাই হেলিকপ্টারে করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সকলের জন্য সমান্তরাল ভূমি তৈরি করতে হবে। তাহলেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা নির্বাচনে যাওয়ার পথ খুঁজে পাবো।’

দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক শাহ নেসারুল হকসহ মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

Top