আজ : সোমবার, ২৯শে মে, ২০১৭ ইং | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

আগরতলায় অন্ধপ্রদেশের মাছের বাজার ধরতে ফরমালিন ষড়যন্ত্র!

সময় : ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৪ মার্চ, ২০১৭


ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি॥

আগরতলায় অন্ধপ্রদেশের মাছের বাজার ধরতেই এখন ’ফরমালিন ষড়যন্ত্র’ শুরু

হয়েছে বলে বাংলাদেশের ব্যবসায়িরা অভিযোগ করেছেন। বাংলাদেশের

ব্যবসায়িরা বলছেন, এখান থেকে যে মাছ রপ্তানি হয় এর বেশিরভাগই স্থানীয়

বাজার থেকে সংগৃহীত ও পরীক্ষা করে সার্টিফিকেট পাওয়া। যে কারণে এসব

মাছে ফরমালিন মেশানোর সুযোগ নেই। শুধুমাত্র অন্ধ্রপ্রদেশের মাছের বাজার

ধরতে বাংলাদেশি মাছ নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন এখানকার

ব্যবসায়িরা।

এদিকে শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক

অ্যাসোসিয়েশনের সভায় মাছ রপ্তানি দ্রুত চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনার প্রেক্ষিতে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহাবের

নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আগরতলায় গিয়ে সেখানকার ব্যবসায়িসহ

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে কথা রয়েছে।

অপরদিকে আরেকটি সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চাইছে

বাংলাদেশ থেকে আসা মাছ এখন থেকে তাঁরা নিজেরা পরীক্ষা করতে। এ জন্য

ফরমালিন সনাক্তকরণ যন্ত্র আনতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একটি আলোচনা হয়েছে

বলেও জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগরতলার বাজার থেকে ৪০টি মাছ নমুনা

হিসেবে সংগ্রহ করে ১১টিতে ফরমালিন পায় সে দেশের একটি সংস্থা। এ

অবস্থায় গত ৬ মার্চ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে মাছ

আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় ভারতীয়রা। ফলে আজ রবিবারও এ

বন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানি হয় নি। যে কারণে বাংলাদেশের মাছ ব্যবসায়িরা

লোকসানের মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় পর্যায় থেকে মাছ সরবরাহকারি মোঃ ইসমাইল বলেন, বাংলাদেশ থেকে

যেসব মাছ ভারতে যায় সেগুলোর বেশির ভাগই আখাউড়া ও এর আশপাশ থেকে

সংগৃহীত। ভোর থেকে প্রক্রিয়াজাত করে এগুলো ভারতে পাঠানো হয়, যা

কিছুক্ষণের মধ্যেই সেদেশের বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। যে কারণে এসব মাছে

ফরমালিন দেয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই।

মাছ রপ্তানির সিএন্ডএফ এজেন্ট এর কাজ করা মো. আব্বাস উদ্দিন ভূঁইয়া

বলেন, ফরমালিনে বিষয়টি একটি চক্রান্তই বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে।

আমাদের মাছ তো পরীক্ষার পর ভারতে যায়। তাহলে এতে ফরমালিন থাকে কি করে।

এখন শুনেছি ভারতীয়রা ফরমালিনের মেশিন আনবে। ওই পর্যন্ত মনে হয় আমরা

মাছ রপ্তানি করতে পারছি না। তবে বাংলাদেশে যে সার্টিফিকেট দেয়া হয়

সেটি দেখিয়ে মাছ নেয়া যায় কিনা সে চেষ্টা করা হচ্ছে।

আখাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, বন্দর দিয়ে রপ্তানি

হওয়া মাছ পরীক্ষা করে সার্টিফিকেট দেয়া হয়। এসব মাছে ফরমালিনের

অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। আর ফরমালিন পাওয়া গেলে তো সার্টিফিকেট

দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।

Top