আজ : শনিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

আমেরিকান প্রবাসী হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার

সময় : ৬:১১ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৯ জুন, ২০১৭


গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর আমেরিকান প্রবাসী মনোয়ার বেগম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ জানতে পারে যে টঙ্গী থানাধীন মধ্য আরিচপুর এলাকার চাঞ্চল্যকর আমেরিকান প্রবাসী মিসেস মনোয়ারা বেগম হত্যার মূল আসামি ওই এলাকায় অবস্থান করছে।

এ সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে আভিযানিক দলটি ওইস্থানে অভিযান চালিয়ে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার হিরাপুর গ্রামের নূরুল হকের ছেলে মো. সোহেল মিয়াকে (২৬) গ্রেফতার করে। তিনি টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকার মো. আবুল বাশার এর বাাড়ির ভাড়াটিয়া।

র‌্যাব আরও জানায়, কেয়ারটেকার তাজনাহার বেগম হলেও দাপট দেখিয়ে ভাড়াটিয়াদের নিয়ন্ত্রণ করতেন তার ছেলে সোহেল। সোহেল সব সময় ফেন্সিডিল এবং ইয়াবা সেবন করতেন। ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ঠিকমত একাউন্টে জমা দিতেন না। এ টাকা তিনি নেশার কাজে ব্যয় করতো যা নিয়ে মিসেস মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে প্রায় সোহেলের কথা কাটাকাটি হতো।

খুন হওয়ার তিনদিন আগে দ্বিতীয় ছেলের বিবাহ উপলক্ষে স্বামী ও তিন সন্তানসহ দেশে এসে সোহেলের কাছে বাড়ি ভাড়ার টাকার হিসাব চাইলে সে হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নিজেকে বাড়ির মালিক বলে দাবি করে। এ নিয়ে সোহেলের সঙ্গে মনোয়ারা বেগমের তর্ক হয়। ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক বেলা ১২টার দিকে সোহেল মনোয়ারা বেগমকে জানায়, কে বা কারা বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য বাসা দেখতে এসেছে। মনোয়ারা বেগম নিজেই ভাড়াটিয়াকে বাসা দেখানোর জন্য ৩য় তালার ফ্লাটে নিয়ে যান। আসতে বিলম্ব হওয়ায় ভিকটিমের ছোট মেয়ে ইয়াসমিন মাকে ডাকার জন্য উপরে যায়। সেখানে রক্তাত অবস্থায় মাকে দেখে চিৎকার করতে থাকে। চিৎকার শুনে ভিকটিমের স্বামী আবুল বাশার ও অন্যান্য লোকজনসহ সেখানে গিয়ে দেখতে পায় সোহেল আহত মনোয়ারা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিয়ে বসে আছে। সে সময় সোহেলকে ভীত ও উদ্ধ্যত মনে হয়।

পরবর্তী তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভিকটিমের স্বামী আবুল বাশার বাদী হয়ে টঙ্গী মডেল থানায় সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় র‌্যাব সোহেলকে থানায় হস্তান্তর করেছে।

Top