আজ : বৃহস্পতিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৯ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ইউটিউব থেকে আয়ের উপায়

সময় : ৪:৩৩ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১২ এপ্রিল, ২০১৭


বেশির ভাগ মানুষ ইউটিউব ব্যবহার করে সম্পূর্ণ মজার খোরাক হিসেবে। কেউ ব্যবহার করে নিজের বিভিন্ন ক্রিয়েটিভিটি প্রদর্শন করে রাতারাতি খ্যাতি পাওয়ার জন্য। আবার কেউ এটি ব্যবহার করে নিজের এবং বন্ধুবান্ধবদের একান্ত কিছু স্মৃতি সারাজীবন ধরে রাখার জন্য। কিংবা কেউ হয়তো বিদেশে থাকা প্রিয়জনের কাছে নিজেদের বিশেষ আয়োজন বা মুহূর্ত পৌঁছে দেয় ইউটিউব এ আপলোড করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে।

কিন্তু যে সকল মানুষ প্রতিনিয়ত ইউটিউব ব্যবহার করে শুধু শখের বসে তারা জানেই না যে আপনার আপলোড করা এই ভিডিওগুলো অনায়াসে হতে পারে আপনার আয়ের উৎস। খুব সহজ সাধারণ কিছু নিয়ম অনুসরণ করে অনলাইনের আয়ের যেকোনো ক্ষেত্র থেকে অনেক দ্রুত আয় করা যায় ইউটিউব থেকে। শুধু জানতে হয় আয়ের সঠিক পথ। তো চলুন দেখে নেই কি কি ভাবে আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন:

ইউটিউব থেকে আয় করার ৫ উপায়

অ্যাডসেন্স দিয়ে: এটাই ইউটিউব থেকে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বড় মাধ্যম। আমরা সকলেই জানি যে ইউটিউব হচ্ছে গুগলের একটি সেবা। আবার গুগল অ্যাডসেন্সও গুগলের। তাই ইউটিউবের ব্যাপারে গুগলের প্রাধান্য অনেক। এমনকি আপনি মাত্র কয়েকটা ছোট ছোট ভিডিও দিয়েই একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এপ্রুভ করাতে পারবেন। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার জন্য ইউটিউব হচ্ছে অন্যতম সহজ একটি পদ্ধতি। সেরা আর্নাররা শুধুমাত্র ইউটিউব অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে মাসে কয়েক লক্ষ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকেন!

নিজের পণ্য বিক্রি করে: ধরুন আপনার নিজের একটা ফ্যাশন হাউস আছে। এখন আপনি যদি নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডজ সম্পর্কে কিছু ভিডিও তৈরি করেন এবং সাথে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কিছুটা রিভিও যুক্ত করে আপলোড করেন তবে ইউটিউব হতে পারে আপনার নিজের পণ্য মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এখন আপনি বলতে পারেন যে এভাবে কত জনই বা কিনতে পারে। কিন্তু আপনি জানেন কি ইউটিউব এ আপনি কি পরিমাণ ভিসিটর পেতে পারেন? যেকোনো বিষয়ের উপর ভিডিওগুলোর ভিউ থেকে আপনি সহজেই তা বুঝতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে ওয়েব সার্চের তাবৎ ক্রয়যোগ্য (অর্থাৎ যে কীওয়ার্ডগুলো দিয়ে মানুষ কোন প্রোডাক্ট কেনার জন্যই সার্চ করে) সার্চের বেশির ভাগটাই ইউটিউবে হয়। মানে কেউ কোন পণ্য কেনার জন্য মন স্থির করলে সেই পণ্য সম্পর্কে জানতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউটিউব ভিডিওই দেখে থাকে।

অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্টের রিভিউ করে: এটি ইউটিউব ব্যবহারের আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম। এই ক্ষেত্রে মানুষ আমাজন বা অন্য কোন অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কের পণ্যের অ্যাফিলিয়েশন করে থাকে। সাধারণত নিজের অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক ভিডিওর ডেসক্রিপশনে দিয়ে দেয়া হয় এবং ভিডিও তে সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিও প্রদান করা হয়। সেই ভিডিও থাকাকালীন কেউ যদি ঐ লিঙ্কের মাধ্যমে গিয়ে কোন পণ্য ক্রয় করে থাকে তবে অ্যাফিলিয়েটর কমিশন পায়। এইভাবে অ্যাফিলিয়েশন করলে খুবই কম খরচে বা বিনা খরচে আপনি সহজেই মাস গেলে অনেক টাকা কামিয়ে নিতে পারবেন।

ইউটিউবের পার্টনার হোন: বর্তমানে পৃথিবী ব্যাপী প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ইউটিউব পার্টনার আছেন। পার্টনাররা ভাড়ার ভিত্তিতে ভিডিও ওভারলে করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে এবং আয় ইউটিউবের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়। তাদের অনেক সময় ব্রান্ডদের এন্টারটেইনার বা ভিডিও মার্কেটার হিসেবে হায়ার করাও হয়। অনেক সময় একটা ব্রান্ডের জন্য বিশেষ ভিডিও তৈরি করেও এরা অনেক টাকা উপার্জন করে।

আপনার ভিডিওর ডেসক্রিপশনে লিঙ্ক বিক্রি করুন: এটা অনেক মজার একটা আয়। ধরুন যেকোনো বিষয়ের উপর আপনার একটা ভিডিও ইউটিউব এ প্রথম দিকে আছে। এই মুহূর্তে এই ধরনের প্রোডাক্ট যাদের আছে আপনি চাইলেই তাদের কাছে এককালীন অথবা দীর্ঘমেয়াদী শর্তে একটা লিঙ্ক বিক্রি করতে পারেন যা আপনার ভিডিওর ডেসক্রিপশনে থাকে। কয়েকটা ভিডিও তে এসইও করেই আপনি এভাবে লিঙ্ক বিক্রি শুরু করতে পারেন।

তবে এই ক্ষেত্রে ভিডিও তে অবশ্যই ভালো মানের ভিসিটর থাকতে হবে আর এভাবে লিঙ্ক দিয়ে আপনি আপনার নিজের ওয়েবসাইট বা ওয়েব ব্লগেও প্রচুর পরিমাণ ট্রাফিক আনতে পারেন।

এই ধরনের আরও বেশ কিছু উপায় আছে ইউটিউব থেকে আয় করার। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে কাজ করার মানসিকতা। নিয়মিত কাজ করলে যেকোন উপায়েই আপনি আয় করতে পারবেন। কিংবা আপনি নিজেও আরও আরও উপায় খুঁজে পাবেন আয় করার।

Top