আজ : রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ইরাকে আইএসের বড় পরাজয়, মসুল মুক্ত

সময় : ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ৩০ জুন, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

তিন বছর আগে উত্তর ইরাকে প্রায় ৮০০ জিহাদি যোদ্ধার উত্থান বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে পড়ে। তখন ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল দখল করে তারা কথিত “ইসলামিক স্টেট” এর জন্ম ঘোষণা করেছিল। তৃতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে তাদের ঘোষিত সেই ‘খিলাফত’ এর মৃত্যু ঘটলো ইরাকি বাহিনীর হাতে। শহরটির ঐতিহাসিক আল নূরি মসজিদ থেকে কথিত খিলাফতের সূচনা করেছিল জঙ্গি সংগঠন আইএস। আট মাস লড়াই শেষে সেই মসজিদে পুনর্দখল প্রতিষ্ঠা করে ইরাকি সেনাবাহিনী। সেইসাথে ইরাকের মাটিতে পতন হল ইসলামিক স্টেটের (আইএস) খিলাফতের।
মসুল ছিল আইএস নিয়ন্ত্রিত শহরের মধ্যে সবচেয়ে বড় শহর। এক সময়কার ১৫ লাখ মানুষের আবাসস্থল মসুলকে আইএস মুক্ত করতে গতবছরের অক্টোবর থেকে লড়াই শুরু হয়। গত সপ্তাহে ইরাকি প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন,মসুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই সোমবারে ইরাকি বাহিনী নুরি মসজিদের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে যায়। দুইদিন পর আর ৮৫০ বছরের পুরোনো মসজিদটি দখলে নিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে এ বড় জয় পেল। এর মাধ্যমে ইরাকে আইএসের আধিপত্য শেষ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরাকের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র শহরটির দখল নিয়ে এর কয়েক লাখ অধিবাসীকে জিম্মি করে রেখেছিল আইএস। জনসংখ্যার বিপুল অংশ পালিয়ে গেলেও জিম্মিদের উপর নেমে আসে সীমাহীন নির্যাতন। এদের কয়েকজন বিবিসিকে জানাচ্ছেন, “আমরা কোথাও যেতে পারতাম না, কিছুই করতাম না। তারা সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছিল। তাদের ভয়ে কোথাও যেতে পারতাম না।”
তারা আরো জানান, “দুই মাসের জন্য খাওয়ার কোন পরিস্কার পানি ছিল না। আমরা ক্ষুধার্ত ছিলাম। আমাদের জীবন বিপন্ন হয়ে গিয়েছিল।”
ইতিমধ্যে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বোমা হামলায় কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। প্রায় ৯ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিবিসি জানাচ্ছে, গ্রীষ্মের তাপদাহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। জেনারেল ইয়াহিয়া রাসুল রাষ্ট্রীয় টিভিকে বলেছেন, “তাদের (আইএস) কল্পিত রাষ্ট্রের পতন ঘটেছে।২০১৪ সালের জুন মাসে সিরিয়ায় আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চল ও ইরাকের মধ্যাঞ্চলের বিশাল এলাকা দখল করে কথিত খিলাফতের ঘোষণা দেন আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদী। সেইসাথে ইরাকের মসুল শহরও তাদের নিয়ন্ত্রণ চলে যায়। কয়েক দফা যুদ্ধ প্রচেষ্টার পর সর্বশেষ গত এক মাসের চরম লড়াইয়ে অবশেষে শহরটির পুনর্দখল নেয় মার্কিনসমর্থিত ইরাকি বাহিনী।
এখন টাইগ্রিস নদীর পশ্চিমে এক কিলোমিটারেরও কম অংশ আইএসের দখলে রয়েছে। প্রায় ৩০০ জঙ্গি সেটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কয়েকদিনের মধ্যে এ যুদ্ধ শেষ হবে।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top