আজ : বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র স্বাক্ষর জাঁলিয়াতি ইউএনও’র মামলা দায়ের

সময় : ৭:৫৮ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২০ মে, ২০১৭


সকল নিউজ আপডেট পেতে লাইক বাটনে ক্লিক করুন

জাঁল জাঁলিয়াতি করতে গিয়ে শেষ পর্যায়ে নিজের মাকে বীরঙ্গনা সাজিয়ে আগৈলঝাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি, জামুকার অন্যতম সদস্য ও দক্ষিনাঞ্চলীয় মুজিব বাহিনীর প্রধান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র স্বাক্ষর জাল করে তাঁর হাতেই ধরা পরলেন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরীর মেশিন হিসেবে পরিচিতি আনিচুজ্জামান ওরফে লেলিন তালুকদার। এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর স্বাক্ষর জালিয়াতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভূয়া কাগজপত্র তৈরীর অভিযোগে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি ও থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে আগৈলঝাড়ায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো সভাকক্ষে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য, জামুকার সদস্য -এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে আগৈলঝাড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভা চলছিল।
ওই সভায় উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের সুজনকাঠী গ্রামের আ. খালেক তালুকদারের ছেলে ও হিজলা খাদ্য পরিদর্শক আনিচুজ্জামান ওরফে লেলিন তালুকদার নিজের মা মমতাজ বেগমকে ভূয়া বীরঙ্গনা বানিয়ে কাগজপত্র দাখিল করে। দাখিল করা ওই ভূয়া কাগজে লেলিন তার নিজের বাবা খালেক তালুকদারের স্ত্রীর পরিচয় না দিয়ে তার নানা পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের মৃত ইসমাইল সরদারের মেয়ে হিসেবে পরিচয় দেয় তার মা মমতাজ বেগমকে। এছাড়াও লেলিন উপজেলার চেঙ্গুটিয়া গ্রামের মৃত মোক্তার হোসেন তালুকদারের ছেলে তার খালাতো ভাই শহিদ তালুকদার, পশ্চিম গোয়াইল গ্রামের মৃত. ইয়াসিন সিকদারের ছেলে সেকেন্দার আলী শিকদারকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র ভূয়া স্বাক্ষর করা সুপারিশপত্রসহ মন্ত্রনালয়ের তৈরী করা বিভিন্ন ভূয়া কাগজপত্র তিন জনের স্বúক্ষে দাখিল করে। বাছাই কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বাছাই কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তার নিজের স্বাক্ষর জাল হিসেবে সনাক্ত করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ওই সভা থেকে আনিচুজ্জামান ওরফে লেলিন তালুকদারসহ মুক্তিযোদ্ধা নামধারী ভুয়া লোকজন কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এমপি হাসানাত কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমনকে জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। সূত্র মতে, যাচাই বাছাই কমিটির কাছে লেলিনের দাখিল করা ভূয়া কাগপত্রের মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র, গৈলা ইউনিয়নের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আ. কাদের সরদারে নাম স্বাক্ষরিত ভূয়া সনদপত্র, এছাড়াও বিভিন্ন কমান্ডারের ভূয়া সনদপত্র। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এর একাধিক বিস্বস্ত সূত্র জানায়, কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডারসহ বেশ কয়েকজন ডাক সাইটে নেতার আশ্রয় ও প্রচ্ছন্ন মদদে লেলিন দীর্ঘ দিন যাবত মুক্তিযোদ্ধা হতে চাওয়া লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভূয়া কাগজপত্র সরবরাহ করে আসছে। লেলিন চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে উপজেলা ও জেলা পর্যায়েরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও স্বরাস্ট্র ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। জাঁল জাঁলিয়াতির এই ব্যবসা করে লেলিন অল্প দিনেই আর্থিকভাবে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। ওই সূত্র আরও জানায়, মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য সরকারের কাছে এই উপজেলায় আবেদনকারীদের মধ্যে বাদ পড়া অর্ধেকের বেশীই লেলিনের ভূয়া তৈরী করা কাগজপত্রের লোকজন। বরিশালের সকল উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ব্যাক্তির মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে লেলিন এই সকল ভূয়া কাগজপত্র সরবরাহ করে আসছে। এমপি হাসানাতের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব গাজী তারিক সালমন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লেলিন তালুকদারসহ চার জনের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার নং-৫ (১৮-৫-২০১৭)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আ. সালাম মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, মামলার আসামীদের গ্রেফতারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top