আজ : সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এমপি এনামেই ডুবছে সাভার আ. লীগ

সময় : ৮:৫২ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৮ আগস্ট, ২০১৭


http://bdbarta24.net/

‘যেদিন আমার ছোট ভাইকে ক্রসফায়ারে মারা হয়, সেদিন এনাম ভাইকে বার্তা দিয়ে লিখেছিলাম, এভাবে আমার ভাইটিকে হত্যা করা হলো! অপরাধ করলে তো তার বিচার হতে পারত। জবাবে তিনি (সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান) লেখেন, আমি এসব নোংরা রাজনীতি করি না। তোমার ভাইয়ের হত্যার ব্যাপারে পুলিশকে গিয়ে বলো।’

অবাক হয়েছি, সম্প্রতি পত্রিকা দেখে। এমপি এনামুর দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেছেন, ‘তিনি নাকি (এনামুর) পাঁচজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছেন। আরও ১৪ জনকে লিস্টে রেখেছেন।’ অবাক হয়েছি, তিনি এমপি হওয়ার পর সাভারে যে পাঁচজনকে ক্রসফায়ারে মারা হলো, তার মধ্যে আমার ভাইও আছে।পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ভাইকে হারিয়ে দ্রোহের আগুন দগদগ করে জ্বলছে সাভারের মাসুদ আলম লিটনের বুকে। সে আগুন চাপা দিয়ে রাখছেন বছর ধরে। মুখ খোলার সাহসও নেই তার।

গত বছরের ১ অক্টোবর ক্রসফায়ারে মারা যান লিটনের ছোট ভাই শাহ আলম নয়ন। নয়ন সাভার যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে সাভার শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি, মামলাও ছিল কয়েকটি।

সম্প্রতি একটি দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাভারের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান বলেন, “সাভারে অনেক ক্যাডার আর মাস্তান ছিল। এখন সব পানি হয়ে গেছে। কারও ‘টু’ শব্দ করার সাহস নেই। পাঁচজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি, আরও ১৪ জনের লিস্ট করেছি। এখন সব ঠাণ্ডা। লিস্ট করার পর যে দু-একজন ছিল তারা আমার পা ধরে বলেছে, আমাকে জানে মাইরেন না। আমরা ভালো হয়ে যাব।”

যদিও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এনামের ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

ক্রসফায়ার নিয়ে তার ওই বক্তব্য প্রকাশের পর সমালোচনার ঝড় বইছে দলে এবং দলের বাইরে। বিব্রত হয়েছে সরকারও।

তবে ক্রসফায়ার নিয়ে দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য এনামুর রহমান জাগো নিউজের কাছে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

একক কর্তৃত্বের অভিযোগ

১৯৮৬ সালের কথা। নরসিংদী জেলার রায়পুরায় জন্ম নেয়া ডা. এনামুর রহমান সাভার হাসপাতালে আরএমও হিসেবে যোগ দেন। সাভার হাসপাতালে যোগ দিয়েই চিকিৎসা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। সে সময় সাভারে একটি ওষুধের দোকান দিয়ে সেখানেই রোগী দেখার চেম্বার খোলেন। হাসপাতালে দায়িত্ব অবহেলার কারণে ১৯৯০ সালে তাকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়ায় বদলি করা হয়। বদলির পর ব্যবসায় ভাটা পড়তে থাকে। সিদ্ধান্ত নেন চাকরি ছাড়ার। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দলটির নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। সাভারের মুক্তির মোড়ে প্রতিষ্ঠা করেন এনাম ক্লিনিক। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

সজ্জন, বিনয়ী আর সেবা প্রদানের লেবাস ধারণ করে ডা. এনাম সাভারের মাঠে-প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে অল্পদিনের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলেন এনাম ক্লিনিক। বিএনপি সরকারের আমলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমানের আনুকূল্য পেয়ে কপাল খোলে তার। ২০০১ সালের পর বিএনপি সরকার অনুমোদন দেয় এনাম মেডিকেল কলেজ’র। ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে রাতারাতি।

সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর এনাম মেডিকেল কলেজের সহায়তা আহতদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে। এতেই ভাগ্যদেবী আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয় ডা. এনামের দুয়ারে। আর রানা প্লাজার মালিক রানার সঙ্গে সখ্যতা থাকায় কপাল পোড়ে সাভারের আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের। গা ঢাকা দেন মুরাদ জং। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের টিকিট পেয়ে যান ডা. এনাম।

ওই নির্বাচনে জিততে ভোটারদের কাছে যেতে হয়নি এনামকে। মুরাদ জং এলাকায় না থাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি তাকে। কেন্দ্র থেকে টিকিট পেয়েই ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করেন তিনি। নেতাকর্মীদেরও সহায়তার প্রয়োজন পড়েনি তার।

প্রয়োজন পড়ে না এখনও। টাকার বিনিময়ে সবকিছু ম্যানেজ করেন তিনি। টাকায় না হলে প্রশাসন আর মামলা দিয়ে সামলে নেন ডা. এনাম। তার দেয়া মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না দলীয় নেতাকর্মীরাও। সম্প্রতি এনামের বাড়িতেই সাভার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দারের গায়ে হাত তোলেন এনাম গ্রুপের লোকেরা। আলী হায়দার বিচার চাইলেও থোড়াই কেয়ার করেননি সাভারের এ সংসদ সদস্য।স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া সাহায্য, অনুদান, টিআর, কাবিখার অর্থ বরাদ্দ- সবকিছু এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন ডা. এনাম। তিনি তার বিশ্বস্ত সহযোগী শামীম আর ব্যবসায়ী রঞ্জিত সাহা মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সাভারের সবকিছু তারাই নিয়ন্ত্রণ করেন। সাধারণের কাছে কিছুই পৌঁছে না বলে অভিযোগ তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাভার এলাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন এনামের ছোট স্ত্রী ডা. ফরিদা আক্তারের ভাই। ‘আপাই (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আমার সব’- মূলত এমন ঘোষণা দিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে রেখেছেন তিনি। কৌশলগত অবস্থান নিয়ে জনগণ থেকেও দূরে সরে আছেন আলোচিত এ সংসদ সদস্য। তার কর্তৃত্বে কেউ বাগড়া দিলে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। সম্প্রতি একটি দৈনিকে ক্রসফায়ার ইস্যু নিয়ে দেয়া বক্তব্যে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাভার উপজেলার তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ কবির জাগো নিউজের কাছে অভিযোগ করেন, তার (এনাম) কারণেই স্থানীয় আওয়ামী লীগে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেও নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে পারছি না। কেন্দ্রও সব জানে। অরাজনৈতিক ব্যক্তি দিয়ে রাজনীতি হয় না- এর প্রমাণ সাভারের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান।

দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সবকিছু আত্মকেন্দ্রিক করার বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় এমপি ডা. এনামের। তিনি বলেন, ‘আামার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগই মিথ্যা। কোনোটিই প্রমাণ করতে পারবে না কেউ। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বচ্ছ রাজনীতি করে আসছি। এখানে সবকিছুই নিয়মের মধ্যে থেকে করা হচ্ছে।’

টেন্ডারবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর কোনো ভাই টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত নন। ঠিকাদাররা বিধি অনুযায়ী কাজ পেয়ে থাকেন এবং স্ব-স্ব দফতর তা মনিটরিং করে থাকে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি হয়ত কাজের মানের দিকে নজর রাখি।’

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ

প্রচার রয়েছে, কোটি টাকার বিনিময়ে সম্প্রতি নিজের একটি নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছেন ডা. এনাম। অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্য হওয়ার পর ওই মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সম্পর্কের রসায়নে পানি অধিক ঘোলা হলে ইতি টানতে চান এনাম। আর তাতেই বিপত্তি ঘটে।

ডা. এনামের নারী কেলেঙ্কারির ওই ঘটনা এখন আর রটনা না। ঘটনা হিসেবেই তা আজ সাভারের মানুষের মুখে মুখে। জামাল উদ্দিন নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন, ‘এমপি সাহেবের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা এখন সবারই জানা। শুধু এটিই নয়, তার বিরুদ্ধে আরও অনেক কেলেঙ্কারি রয়েছে। এ নিয়ে লজ্জায় পড়তে হচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের।’

তবে ফরহাদ নামের অপর এক কর্মী বলেন, ‘ঘটনা আমারও শুনেছি। তবে ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তার প্রতি এমপি সাহেবের দুর্বলতার কথা জেনে ওই নারীই হয়ত ফাঁদ পেতে থাকতে পারেন।’

ডা. এনামের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ বেশ পুরনো। কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বিয়েও করেছেন একাধিক। একাধিক স্ত্রীও মেইনটেইন করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এনাম মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া এক নেপালি ছাত্রীর সঙ্গেও অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে তার।

তবে নারী কেলেঙ্কারির সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. এনাম। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি যে মেয়েকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে, সে মেয়ে আমার ছেলের বান্ধবী। ফেসবুকে এসব মিথ্যা বিষয়ে প্রচার করে আমাকে হেয় করার ষড়যন্ত্র চলছে। মূলত ষড়যন্ত্রকারীরাই আমার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’এনাম মেডিকেলে ভর্তি মানেই গলাকাটা ফি!

রানা প্লাজা ধসের সময় বিশেষ অনুগ্রহ আর দায়িত্বশীল পরিচয় দেয় এনাম মেডিকেল কলেজ। সে সময় মেডিকেলটির কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। রানা প্লাজা ধসে আহতদের সেবা দিয়ে যে ক্রেডিট পান তাতেই জাতীয় সংসদের সদস্য বনে যান ডা. এনাম।

সংসদ সদস্য হওয়ার পর চিকিৎসা ব্যবসায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও সাভারবাসীর কাছে আগে থেকেই বিষফোঁড়া হিসেবে পরিচিত পায় মেডিকেলটি।

অভিযোগ রয়েছে, সেবার নামে প্রতি রোগীর কাছ থেকে কয়েক গুণ অর্থ আদায় করে থাকেন মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। ডা. এনাম নিজে ইউনাইটেড হসপিটালে নিয়মিত চিকিৎসা নিলেও তার এনাম মেডিকেলে রোগী আনতে পেতেছেন নানা ফাঁদ। সাভার এবং এর আশপাশের এলাকায় শত শত দালাল নিয়োগ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ অসুস্থ হলেই তারা ফুসলিয়ে এনাম মেডিকেলে নিয়ে আসেন। রোগীর কাছ থেকে গলাটাকা ফি আদায় করে সেই অর্থের ২৫ ভাগ দালালদের দিয়ে থাকেন মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংসদ সদস্য হওয়ার পর এনাম মেডিকেলের ফি বাড়ানো হয়। নাম প্রকাশ না করে সাভারের শিমুলিয়ার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এমপি হওয়ার পর দলীয় বা গরিব মানুষরা কমিশন চাইতে পারেন বলে চিকিৎসার ফি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন তিনি। ১০ হাজার টাকা হলে ২০ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয়া হয়। কেউ ছাড় চাইলে বড়জোর পাঁচ হাজার টাকা মওকুফ করা হয়। এতে ব্যবসাও হলো, রাজনীতিও হলো।’

অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ডা. এনাম। তিনি ‘সংসদ সদস্য হওয়ার পর জনগণের প্রতি দায় আরও বেড়েছে। অন্যান্য হাসপাতলের চেয়ে এক টাকাও এখানে বেশি আদায় করা হয় না। বরং সেবার মনোভাব নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের ছাড় দেয়া হয়।’ হাসপাতালে রোগী আনার ক্ষেত্রে কোনো দালালও নিয়োগ দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।‘প্রার্থী হলেও এজেন্ট মিলবে না’

বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত ঢাকা-১৯ (সাভার) সংসদীয় আসনটি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দখলে নেয়। তৌহিদ জং মুরাদ সংসদ সদস্য হয়ে দলকে চাঙা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই মুরাদ জংয়ের ইমেজ সংকটে পড়তে থাকে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের লবি মেইনটেইন না করায় খানিকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি।

অন্যদিকে রানা প্লাজা ধসে রাজনীতির হাওয়া আরও প্রতিকূলে যায় মুরাদ জংয়ের। সে হাওয়া এখনও বিপরীতমুখী। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর মুরাদ জং এলাকায় যান না বললেই চলে। প্রতি শুক্রবার নিজ গ্রামে গিয়ে জুমার নামাজ পড়ে ফের চলে আসেন ঢাকায়। তবে অনুসারীরা এখনও তার পথ চেয়ে বসে আছেন। সাভার শাখা আওয়ামী লীগ এখনও মুরাদ জংয়ের গ্রুপের ওপর ভর করে চলে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ কবিরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এ সংসদীয় আসনের অপর একটি অংশ। ফিরোজ কবির জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তিনি জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

সরেজমিন সাভার ঘুরে এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসছে নির্বাচনে মুরাদ জং, ফিরোজ কবির ও ফারুক তুহিন নিজ নিজ শক্তি সঞ্চারে দল ভারী করছেন। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে ডা. এনামকে মনোনয়ন দিলেও তিনি ওই তিন নেতার কারও কাছ থেকে অনুকম্পা পাবেন না। হয়তো বহিষ্কারের ভয়ে মুখে সমর্থন জানালেও মাঠ কার্যক্রমে নৌকা প্রতীকের ভরাডুবি হবে- এমন বিশ্লেষণ সাধারণ ভোটারদের।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ কবিরের বিশ্লেষণ, ‘সাভার আওয়ামী লীগের অবস্থা এখন ভালো নেই। এমপি ডা. এনামের কারণেই এ অবস্থা। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে তার সঙ্গে সাভার আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্তা ছিল না।’

‘ডা. এনামকে প্রার্থী করলে ভোটকেন্দ্রে দেয়ার মতো এজেন্টও খুঁজে পাওয়া যাবে না’- এমনটি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘একজন জনবিচ্ছিন্ন নেতাকে ফের মনোনয়ন দিলে এখানকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হতাশ হবেন। জনবিচ্ছিন্ন ও দুর্নীতির কারণে মুরাদ জংয়ের বিরুদ্ধেও জনগণের অনাস্থা রয়েছে। আসছে নির্বাচনে তাদের প্রার্থী করলে সাভারে বিরোধীপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করা আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।’

অবশ্য পৌর আওয়ামী লীগ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যকার দূরেত্বের কথা সংসদ সদস্য ডা. এনামও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিভাজন কমিয়ে আনতে আমরা বারবার চেষ্টা করেছি। তবে এখন যেকোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচি একসঙ্গেই পালন করে থাকে সাভার আওয়ামী লীগ।’

‘আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন’- উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে যাকে প্রার্থী করবেন, আমি তার পক্ষেই সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব। কারও বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

Top