আজ : সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এ মাসের মধ্যেই ৫৭ ধারা বাতিল ও সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে

সময় : ১০:৪৬ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৬ আগস্ট, ২০১৭


আইসিটি আইনে ৫৭ ধারাসহ গণমাধ্যমবিরোধী সব কালাকানুন বাতিল, রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি নিয়ে অবিলম্বে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন, বন্ধ গণমাধ্যম অনতিবিলম্বে খুলে দেয়া, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক নির্যাতন, নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধের দাবীতে আজ (রোববার) ঢাকাসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের ‘রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি’ পালিত হয়েছে। কর্মসূচীতে সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ আগস্ট মাসের মধ্যে ৫৭ ধারা বাতিল ও এই কালো আইনে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। শুধু তথ্য মন্ত্রী নয়, তাকে নিয়োগকারিদেরও বিদায় নিতে হবে। বর্তমান সরকারকে গণমাধ্যমের শত্রু সরকার হিসেবে অভিহিত করে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এতে সভাপতিত্বি করেন বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদ। প্রধান অতিথি ছিলেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক ও দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বর্তমান মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজে’র সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসিন, বিএফইউজের সাবেক সহসভাপতি নূরুল আমীন রোকন, এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স এর সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিএফইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ডিইউজে’র সহসভাপতি খুরশিদ আলম, দিগন্ত টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক জিয়াউল কবীর সুমন, সাংবাদিক নেতা আবুল কালাম মানিক, এরফানুল হক নাহিদ, শাহজাহান সাজু, শাখাওয়াত ইবনে মইন চৌধুরী, ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর, এইচ এম আল-আমিন, জসিম মেহেদী, বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।
এদিকে রাজশাহী, খুলনা, যশোর, বগুড়া, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, কুমিল্লা, দিনাজপুরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে বিএফইউজে’র অঙ্গ ইউনিয়নগুলো একই সময়ে অনুরূপ কর্মসূচী পালন করেছে।
ঢাকার অবস্থান কর্মসূচিতে মাহমুদুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও কালো আইন বাতিলের জন্য আবেদন-নিবেদন করে কোন লাভ হবে। গণতন্ত্র না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকে না। ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে ফ্যাসীবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। তার পরই ৫৭ ধারাসহ সব কালাকানুন বাতিল করা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় প্রথম ২০১২ সালে মামলা হয়েছিল আমার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় আমি তিন বছরের বেশী জেল খেটে এসেছি। প্রেসে তালা দিয়ে আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৫ বছরেও মামলায় চার্জশীট দিতে পারেনি পুলিশ। কারণ আমরা যে স্কাইপ সংলাপ প্রকাশ করেছি তা সঠিক ছিল।

Top