আজ : শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কমছে এনজিও ঋণে সুদহার

সময় : ৭:৪০ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২৬ এপ্রিল, ২০১৭


এবি সিদ্দীক: বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার(এনজিও) ঋণে সুদহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদকে প্রধান করে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মালেক বলেন, শিগগিরই এ কমিটি বৈঠকে বসবে।

সুদহার সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রণালয়, পিকেএসএফ, এমআরএ, এনজিওগুলোর জোট সিডিএফ’র প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদারোপ করে বড় এনজিও। অভিযোগ আছে, স্থানীয় অনেক এনজিও ইচ্ছামতো সুদ আরোপ করে থাকে। প্রান্তিক পর্যায়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুদহার গিয়ে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশ। এমআরএ পরিচালক বলেন, এনজিওগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনলে সুদহার কমে যাবে।

এনজিওগুলো’র ঋণের প্রধান উৎস সরকারি সংস্থা পিকেএসএফ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা’র চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ ঋণের যোগান দেয় এই সংস্থা। তাদের দেয়া ঋণের সুদহার ৪.৫ থেকে ৭.৫ শতাংশের মধ্যে থাকে। তবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেয়া ঋণের সুদ হার ১২ শতাংশ।

তবে, সিডিএফের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আওয়াল এই প্রসঙ্গে বলেন, সুদের হার বাড়লে ঝুঁকি বাড়বে। এখন ঋণ আদায়ের হার প্রায় ১০০ শতাংশ। সুদহার কমালে তা আর থাকবে না।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে কোনো ধরণের আর্থিক লেনদেন কেউ করে না, এনজিওগুলো সেখানে যায়। এতে যাতায়াত ব্যয় যেমন রয়েছে, পাশাপাশি লোকবলও প্রয়োজন। তাই এনজিও ঋণে সুদহার বাড়তি। তবে, সেবা ব্যয়সহ আনুসাঙ্গিক খরচ সামনে এনে অনেকেই বাড়তি সুদ আরোপ করে। এক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্সের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী বিবার্তাকে বলেন, এটা খুব ভালো উদ্যোগ। কারণ, বর্তমানে আগের চেয়ে এনজিওর কাজের পরিধি বেড়েছে। তাদের সার্মথ্য ও দক্ষতাও বেড়েছে। এখন বড় বড় এনজিওগুলো ১০ লাখ পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের ব্যবস্থাপনা ব্যয় কম হচ্ছে। আর ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে। এজন্য সুদহার যত কমানো সম্ভব হবে, তত এসব প্রতিষ্ঠান সামাজিক কার্যক্রমে অবদান রাখতে পারবে।

Top