আজ : বৃহস্পতিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০১৭ ইং | ২রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় প্রবাসী হত্যায় নারীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

সময় : ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২২ মার্চ, ২০১৭


মুক্তিপণ দাবিতে প্রবাসী শামসুল হুদা (৩৮) হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। বুধবার এ আদেশ দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক নূর নাহার বেগম শিউলী। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মানিকপুর গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে পলাতক আসামি শিপন মজুমদার ওরফে রিপন (২২), একই উপজেলার আটগ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সাহাবুদ্দিন (২২) এবং নগরীর চাঁনপুর বউ বাজার এলাকার মো. খোকন মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা ওরফে সালমা (২৬)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রবাসী শামসুল হুদার কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার লতিফ শিকদার গ্রামের মৃত পেয়ার আহম্মেদের ছেলে শামসুল হুদা প্রকাশ শামসুর বড়ভাই মো. জসিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকার করায় ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর বেলা দেড়টার সময় কুমিল্লা হাউজিং স্টেট এলাকায় বিবর্তন নামক বিল্ডিংয়ের ৫ম তলায় প্রবাসী শামসুল হুদা প্রকাশে শামসুকে গ্রিলের সাথে হাত-পা বেঁধে পুরো মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে জবাই করে হত্যা করে।
এ ঘটনায় ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মৃত শামসুল হুদার বড়ভাই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জসিম উদ্দিন মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে প্রথমে নগরীর চাঁনপুর বউ বাজার এলাকার মো. খোকন মিয়ার স্ত্রীকে তাসলিমা ওরফে সালমাকে আটক করে। পরবর্তীতে তাসলিমার দেখানো মতে, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম মিয়ার বাজার বাসমতি খাবার হোটেল থেকে অপর দুই আসামি একই জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মনিকপুর গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে শিপন মজুমদার ওরফে রিপন ও একই উপজেলার আটগ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সাহাবুদ্দিনকে আটক করেন কোতয়ালী থানা পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ২০১৪ সনের ১০ মে আসামি শিপন মজুমদার, সাহাবুদ্দিন ও তাসলিমার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারে এলে ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি শিপন মজুমদার (পলাতক), আসামি সাহাবুদ্দিন ও তাসলিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দা রেখা এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ইকরামুল হক ও অ্যাডভোকেট নাইমা সুলতানা মুন্নী।

Top