আজ : শনিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কোন আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়াই কেন এই সাংবাদিকতা?

সময় : ১২:১৭ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৪ মার্চ, ২০১৭


গতরাতে বাবলু’র স্ত্রী রোমেনা ফোন করে জানালো ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ঠাই হয়নি আমাদের প্রিয় সহকর্মী অনুজ সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর। তাকে পাঠানো হয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিউটটে। যেখানে হাতে কলমে অপারেশনের চিকিৎসা শিখতে নবীন ডাক্তারদের হাতে রোগীদের পরীক্ষামূলক মৃত্যুর হিমঘরে খুব দ্রুত পৌছে দেওয়া হয়। ৯ মার্চ বাবলু যেদিন হাসপাতালে ভর্তি হলো সেদিন গিয়ে দেখলাম মোট তিনজন সাংবাদিক হাসপাতালের বেডে কাতরাইতেছে। এরমধ্যে তরুন সাংবাদিক ফোরামের সেক্রেটারী মারুফ হাসপাতালের চার তলার সিড়ি বেয়ে বাবলুকে দেখেই উচ্চ রক্তচাপে সুয়ে পড়লো। অপর জন মতবাদের আরিফ। খবরের খোজে মোটর বাইক নিয়ে দূঘর্টনা কবলিত হয়ে নিজেই সে খবর হয়ে দেড়মাস ধরে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। তার চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা করেছেন তা নিয়ে একটি পত্রিকার ৩২ পৃষ্টায় পত্রিকায় সব লেখা সম্ভব নয়। শেবাচিমে সাংবাদিকদের চিকিৎসা করা হয় না। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানান যুক্তি রয়েছে। আরিফকে অপারেশন ছাড়াই ভাঙ্গা পা নিয়ে হাসপাতালে সুয়ে ডাক্তারদের পা ধরতে হয়েছে। তার কথায় স্পষ্ট যে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসা করানোর মত ব্যায় ভার বহন করা দুরহ ব্যাপার হয়েছিল। যে কারনে তার পা খানা থাকুক আর নাই থাকুক সে শেবাচিম ছাড়েনি। আর চরম আর্থিক সংকটের মাঝেই অনেকটা অনিশ্চয়তাকে সাথী করে বাবলুকে নিয়ে তার স্ত্রী রোমেনা গতকাল ঢাকামুখী হতে বাধ্য হলেন। হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে তার সাংবাদিক স্বামীকে ফেরত দেওয়া হলো। চিকিৎসার ব্যায় ভার কি ভাবে বহন করা হবে তা নিয়ে রোমেনার কপালে দু:শ্চিন্তার রেখা স্পষ্ট । আমরা যারা আজ একের পর এক খবরের পিছনে ছুটে নগর দাবড়ে বেড়াচ্ছি তাদের ভাবনায় নেই আগামী কাল বাবলু কিংবা আরিফের মত চিৎ হয়ে হাসপাতালের বারান্ধায় গেলে আমাদের স্ত্রী কিংবা পরিবার চিকিৎসার ব্যায় ভার বহনের জন্য ভিক্ষার থালা নিয়ে কার কাছে দাড়াবে। অগ্রজ সাংবাদিক শওকত মিলটন বলতেন -আমরা হাসন রাজার লোক। আমাদের নিজেদের ঘর বাড়ি থাকতে নেই। অন্যের বাড়ি ঘর তৈরীতেই যেন আমাদের সুখ। অথচ নিজেদের স্ত্রী -সন্তানদের জন্য মাথা গোজার ঠাই করার কোন ভাবনা আমাদের ভাবায় না। আমরা ভাবি না আমাদের চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর পথে পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। কোন প্রকার আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়াই আমরা লাইন দিয়ে ঢুকছি সাংবাদিকতায়। নিজের জীবনের সাথে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে সাথী করছি স্ত্রী সন্তান সহ পরিবারের অপর সদস্যদের। নিজের জীবন এবং বংশ ধরদের রেখে যাই চরম অনিশ্চয়তার মাঝে।

Top