আজ : রবিবার, ২৪শে জুন, ২০১৭ ইং | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

চাই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা

সময় : ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২২ মার্চ, ২০১৭


পানি ও বর্জ্য পানি’ প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস। পানিসম্পদের সর্বাধিক গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি সারাবিশ্বে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হচ্ছে। চলমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বর্জ্য পানিকে একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে মনে করা হয়। বর্জ্য পানির নিরাপদ ব্যবস্থাপনা মানবস্বাস্থ্য, পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানের জন্য একটি সঠিক বিনিয়োগ বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা। সত্যি বলতে কি পানি এখন ভাবনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখল দূষণে নদীগুলো মৃতপ্রায়। ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। এছাড়া শহরগুলোতে ওয়াসার পানি সরবরাহ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। গ্রীষ্মকাল এলেই দেখা দেয় তীব্র পানি সংকট। এ অবস্থা উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রয়োজন মিটাতে রাজধানীর ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালে তা আরও নিচে নেমে যাওয়ায় পানি সংকট বেড়ে যায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের মতে, রাজধানীতে প্রতিবছর ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ২ থেকে ৩ মিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা না হলে ৫ বছর পরে প্রতিবছর ১০ মিটার করে পানির স্তর নিচে নেমে যাবে। অথচ সত্তরের দশকে যেখানে ভূ-গর্ভস্থ পানিতল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এক মিটারেরও কম গভীরতায় ছিল, বর্তমানে তা সর্বোচ্চ ৭০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে।

একদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির অধিক ব্যবহার, অন্যদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে পানির স্তর দিনদিন ভয়াবহ হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। শুষ্ক মওসুমে নদীনালা খালবিল, পুকুরে পানি থাকে না। ফলে পরিবেশের উপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। একই কারণে বিল্ডিং বা স্থাপনার ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। তা থেকে পরিত্রাণে সুপেয় পানি হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নদীনালা, খালবিলের পানি সংরক্ষণ করে তা সেচসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার উপর জোর দেয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

পানি সংকট দূর করতে ভূউপরিস্থ পানির উৎস সৃষ্টি করতে হবে। নদী-নালা-খালবিল দখল-দূষণমুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানির মানোন্নয়ন ও শোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করা গেলে পানি সংকট অনেকটাই দূর হয়ে যাবে। ওয়াসাকে এ ব্যাপারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত সেবামূলক এই সংস্থাটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করুক সেটাই দেখতে চায় দেশের মানুষ।

Top