আজ : বুধবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

চাকরি হারাচ্ছেন চিকুনগুনিয়া আক্রান্তরা

সময় : ৫:১৯ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৭ জুলাই, ২০১৭


ভয়াবহ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রত্যেক দিনই হাসপাতালগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। রাজধানীর এমন কোনো পরিবার নেই, যেখানে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত অন্তত একজনের সন্ধান পাওয়া যাবে না। নানান শ্রেণি-পেশার কোটি কোটি মানুষের এই নগরীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন বস্তিবাসীরা। তাদের মধ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে এসেছে চিকুনগুনিয়া। রোববার রাজধানীর কড়াইল বস্তি ঘুরে চিকনগুনিয়ার ভয়াবহ চিত্র তুলে এনেছেন পরিবর্তন ডটকমকের প্রতিবেদক এম কবীর।

অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীর গা-ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কড়াইল বস্তি। প্রায় ১৭০ একর আয়তনের এই বিশাল বস্তিতে অন্তত সাড়ে ৭ লাখ মানুষের বসবাস। বস্তির ছোট্ট খুপড়ির প্রায় প্রতিটি ঘরের বাসিন্দারা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। কোনো কোনো ঘরের একাধিক সদস্য ধুঁকছেন ভয়াবহ এই রোগে।

চিকুনগুনিয়ার জ্বর শেষে শরীরে প্রচণ্ড ব্যাথায় দীর্ঘদিন পরও অনেকে শয্যাশায়ী। চলাফেরায় সমস্যার কারণে কাজেও যেতে পারছেন না কেউ কেউ। রোগা শরীরের ওপর কর্ম হারিয়ে আরেক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন কড়াইল বস্তির নিম্নআয়ের অনেক মানুষ। বাসাবাড়িতে কাজ করা অনেকেই দীর্ঘদিন যেতে না পেরে হারাচ্ছেন কাজ।
ঘরে ঘরে চিকুনগুনিয়া

কড়াই বস্তি ঘুরে দেখা যায়, একই পরিবারের অনেকেই চিকুনগুনিয়ায় ভুগছেন। ৩ থেকে ৭ দিন জ্বর থেকে সেরে উঠেও শারীরিক প্রচণ্ড ব্যথার যন্ত্রণায় ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছেন না। আবার অনেকেই অসুস্থ শরীর নিয়েই চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য যাচ্ছেন অফিসে। এতো কষ্টের মাঝেও পরিবারের কাজ সামলাচ্ছেন তারা।

মা নূর নাহারের সঙ্গে কড়াইল বস্তিতে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন নুরুল আমিন (২৮)। বস্তিতেই কেটেছে তার শৈশবের সুন্দর দিনগুলো। বস্তিতেই স্ত্রী তানিয়ার সঙ্গে পেতেছেন সংসার।

স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। বৃদ্ধ মা এখনো মানুষের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
নুরুল আমিন জানান, এক মাস আগে হঠাৎ করেই জ্বর আসে তার মা নূর নাহারের। একদিন দু’দিন পার হলে জ্বর না থামায় বস্তির সাধারণ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা। তিনি প্যারাসিটামল দিয়ে পাঠিয়ে দেন।

তিনি জানান, ঈদের আগে হঠাৎ করেই তার মা নূর নাহারের খুব জ্বর আসে। রাত ৯টায় মহাখালীর একটি হাসপাতালে নেন তারা। সেখানে চিকিৎসক দেখানোর পর জানতে পারেন তার মায়ের চিকুনগুনিয়া রোগ। দু’তিনদিন পর জ্বর কমলেও এক মাস বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না তিনি।

এরই মধ্যে একই রোগে আক্রান্ত হন নুরুল আমিন নিজে এবং তার স্ত্রী।

কাজ হারালেন বৃদ্ধা নূর নাহার

নুরুল আমিনের মা অসুস্থতার কারণে আগে যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেখানে গিয়ে দেখলেন অন্য একজন কাজ শুরু করেছেন। বাড়ির মালিক তার অনুপস্থিতিতে আরেকজনকে নিয়েছেন। তিনি কর্মহীন হয়ে পড়লেন।
এখন তার ছেলে ও বউ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে তারাও কারখানায় কাজে যেতে পারছেন না। ছেলে সুস্থ হলেও শরীরে ব্যথা থাকার কারণে হাঁটা-চলা করতে পারেন না। একটু হাঁটলেই হাঁপাতে থাকেন।

ছেলে নুরুল আমিন ও বউ তানিয়ার এই অবস্থায় কারখানায় গিয়ে কাজ করাটাও সম্ভব নয়। তারপরও নুরুল আমিন অফিসে গিয়েছিলেন কাজ করার জন্য। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
নুরুল আমিন জানান, এক সপ্তাহ আগ থেকেই চিকুনগুনিয়া জ্বরে ভুগছেন। জ্বর সেরে গেলেও শরীরের অন্যান্য উপশমগুলো ভাল হচ্ছে না। যেমন শরীর ব্যথা, হাঁটা-চলা করতে না পারা, মাথা ঘুরানো, শরীর ঝিমঝিম করা এগুলো ছাড়ছেই না।
তারা সুস্থ হলেও দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে ওই কারখানায় নতুন লোক নেওয়া হবে বলে তারা আভাস পেয়েছেন। চিকুনগুনিয়ার পর এখন তারা চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন।

Top