আজ : শুক্রবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৫ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জঙ্গি রিপনের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতে স্বজনরা

সময় : ৭:৫৫ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১২ এপ্রিল, ২০১৭


সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদের অন্যতম জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের স্বজনরা তার সাথে শেষ দেখা করছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে ১টি মাইক্রোবাস ও একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে স্বজনরা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. সগির মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জঙ্গি রিপনের মা, বাবাসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয় স্বজন ও শিশুরা তার সাথে দেখা করতে ৭টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন।
এদিকে হরকাতুল জিহাদের অন্যতম শীর্ষ জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি উপলক্ষে আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এ আসামির ফাঁসি কার্যকরের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০ জন জল্লাদকে।
গত সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতির কাছে করা রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। এরপর তা রিপনকে পড়ে শোনানো হয়। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে কারাগারে রিপনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন তার বাবা আবু ইউসুফ, মা আজিজুন্নেছা, ভাই নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী।
২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল মাজার প্রাঙ্গণে সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন। এছাড়া হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া। এ ঘটনায় আহত হন আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন।
এ মামলার রায়ে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রায়ে হরকাতুল জিহাদের প্রধান মুফতি হান্নান, সাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলওয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এই রায় আপিলেও বহাল থাকে।
আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। এরপর প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন দন্ডপ্রাপ্তরা। কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাদের আবেদন খারিজ করে দেন।

Top