আজ : শুক্রবার, ২৬শে মে, ২০১৭ ইং | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পাউরুটিতেও লবণের মাত্রা বেশি!

সময় : ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৬ মে, ২০১৭


অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। খাবারে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ গ্রহণ হৃদরোগের অন্যতম কারণ। তবে ঢাকার খাবারে লবণ গ্রহণের পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত নিরাপদ লবণের মাত্রার চেয়ে বেশি। এমনকি ঢাকায় বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ব্রান্ডের পাউরুটিতেও লবণের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর উদ্যোগে পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের রাজধানী ঢাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য ওঠে এসেছে।

সোমবার বিএসএমএমইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের নীচতলায় শহীদ ডা. মিলন হলে ‘লবণ খাওয়ার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে বিশেষ করে লবণও যে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা জানান, বাংলাদেশে মোট অসুস্থ মানুষের ৬১ শতাংশ হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ ইত্যাদি অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে হৃদরোগ ১৭ শতাংশ, ক্যান্সার ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগ ১৮ শতাংশ। প্রকৃতপক্ষে, খাদ্যদ্রব্যে অতিরিক্ত লবণ থাকায় ও খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার কারণে হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

সেমিনারে জানানো হয়, বাজারে বিক্রি হওয়া ১০টি ব্র্যান্ডের পাউরুটির অধিকাংশের নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ পাওয়া গেছে। বেশি লবণ খাওয়া ক্ষতিকর জেনেও মানুষ তা খাচ্ছে।

গবেষকেরা বলেন, তৈরি খাবারে কী পরিমাণ লবণ আছে তা মানুষকে জানানো দরকার। প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ উচ্চরক্তচাপের কারণ। আর উচ্চরক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। দেশে অন্যান্য অসংক্রামক রোগের সঙ্গে হৃদরোগের প্রকোপ ও এই রোগে মৃত্যুর হার বাড়ছে। বাংলাদেশে ১৫ শতাংশ মানুষ উচ্চরক্তচাপে ভুগছে। আর ৫৯ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক ব্যাধি।

পাউরুটিতে লবণের পরিমাণ শনাক্ত করার গবেষণাটি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ডা. মোহাম্মদ রাশেদুল আলম। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬০টি খুচরা দোকান থেকে ১০টি ব্র্যান্ডের পাউরুটির নমুনা নিয়ে লবণের মাত্রা পরীক্ষা করেছেন তিনি।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাতটি ব্র্যান্ডের পাউরুটিতে লবণের পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ১০০ গ্রাম পাউরুটিতে লবণের সহনীয় পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪৫০ মিলিগ্রাম। তবে সংগৃহীত পাউরুটির নমুনায় লবণ মাত্রা প্রতি ১০০ গ্রামে গড়ে ৫০৩ মিলিগ্রাম।

সেমনিারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, চিকিৎসাসেবা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত গবেষণায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের সহায়তা করা হবে। তবে গবেষণায় নতুন কিছু থাকতে হবে। যেকোনো গবেষণা অবশ্যই পাবলিকেশন হতে হবে। গবেষণার গুরুত্ব উপলব্ধি করেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্মাণাধীন কনভেনশন সেন্টারের লাইব্রেরিসহ ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সেন্টারের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।

প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো গবেষণার ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। বেশি সংখ্যক মানুষের মাঝে গবেষণা পরিচালিত হলে তার উপকারিতাও অধিক হবে।

প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ লবণ খাওয়া না খাওয়া, বেশি লবণ খাওয়া ও এর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল।

বিএসএমএমইউ’র পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান

Top