আজ : শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উত্তম ‘প্রতীক’ বঙ্গবন্ধু : সাগর সামস্

সময় : ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১১ মার্চ, ২০১৭


নিজস্ব প্রতিবেদক : এখনো আমরা বঙ্গবন্ধুকে চিনতে, জানতে এবং বুঝতে পারিনি। তাঁর যে সুমহান মর্যাদা তা আমরা দিতে পারিনি। বঙ্গবন্ধুকে আমরা এতো বেশি দলীয়করণ করে ফেলেছি যে, সুযোগ থাকাসত্তে¡ও আমরা বঙ্গবন্ধুর যথাযথ মর্যাদা দিতে পারছি না। আমরা একটা শ্রেণি না বুঝে অহেতুক বঙ্গবন্ধুর সাথে দুশমনি করছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাসত্তে¡ও বঙ্গবন্ধুর যথাযথ মর্যাদা জাতীয়ভাবে ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারছে না। এর কারণ, বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগ তাঁদের দলের নেতা বানিয়ে ফেলেছে। সমালোচনার ভয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ¯েøাগানকে জাতীয় ¯েøাগান সাংবিধানিকভাবে হিসেবে ঘোষণা করতে পারছে না।

শুক্রবার সকালে বরিশালের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নূর আলম খান বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক কর্মী নিয়ে বাংলাদেশ মানবতাবাদী দলে যোগদান সংক্রান্ত মত-বিনিময়কালে মুঠোফোনে দলের মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশটি বিপুল সম্ভাবনাময় একটি দেশ। আমাদের রয়েছে অফুরন্ত খনিজসম্পদ। এ সম্পদ ভোগ করতে হলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হলে ৩টি বিষয় একান্ত আবশ্যক হয়। বিষয় তিনটি হলো :
এক. জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, দুই. জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক নেতার নেতৃত্ব এবং তিন. জাতীয় ¯েøাগান।
এ ক্ষেত্রে আমরা বেছে নিয়েছি বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু হলেন, আমাদের ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতীক’ এবং ‘জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক নেতা’ এবং ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ¯েøাগান হলো আমাদের জাতীয় ¯েøাগান। জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য এর চেয়ে উত্তম ‘প্রতীক, যোগ্য নেতা এবং উত্তম ¯েøাগান আমাদের সম্মুখে আর নেই। এ জন্যই বঙ্গবন্ধুকে অবলম্বন করে আমরা তাঁর দ্বিতীয় কর্মসূচি ‘অর্থনৈতিক মুক্তি’ আর্জনের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল (বিএইচপি) আত্মপ্রকাশ করেছে।
সুফি সামস্ আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে দলীয়করণ করা ছাড়া আওয়ামী লীগেরও করার কিছু ছিল না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বিগত ৪৫ বছর যাবত যে নির্মম-নিষ্ঠুর মিথ্যা অপপ্রচার আর জঘন্য প্রপাগান্ডা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছড়ানো হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি যে অবজ্ঞা এবং অবহেলা করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছে, পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণপর্যন্ত বাঁজাতে দেওয়া হয়নি। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ এগিয়ে আসেনি। একমাত্র আওয়ামী লীগ এর প্রতিবাদ করেছে, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এসব করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে অতিমাত্রায় দলীয়করণ করে ফেলেছে। বিগত তিন যুগের বেশি সময় ধরে একটি জেনারেশন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডা শুনে আসছেন। তাঁরা মিথ্যাকেই সত্য বলে বিশ্বাস করে ফেলেছেন। এভাবেই জাতীয় বিভক্তি পাকাপোক্ত করা হয়েছে। এ অভিশপ্ত জাতীয় বিভক্তির কবল থেকে জাতিকে উদ্ধার করাই হলো এখন আমাদের প্রধান কর্ম এবং রাজনীতি।
যেসব দল ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ¯েøাগান’ দেয় না, কিন্তু স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিবলে নিজেদেরকে দাবি করেন তাদের সম্পর্কে ড. সামস্ বলেন, ‘এসব দল জাতির বিভক্তিকে পাকাপোক্ত করার জন্য এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির দল বলে দাবি করেন। তাঁরা এসব বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। মূলত: তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল নয়। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়। তাঁরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতেন, তাহলে তাঁরা ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ¯েøাগান দিতেন।
এ সময় নূর আলম খান বলেন, আশির দশকে আমরা যখন রাজনীতি করেছি তখন পুরো একটা গ্রামে আওয়ামী লীগ করার মতো একটি লোক পাইনি। এখন আমরা অনেক এগিয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এগুতে পারিনি। রাজনৈতিক মাঠে লড়াই-সংগ্রাম করে, পুলিশের পিটুনি খেয়ে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া খেয়ে জীবন অতিবাহিত করেছি। কিন্তু কোনো পদ-পদবী পাইনি। জবাবে সুফি সামস্ বলেন, রাজনৈতিক পদ-পদবী এখন টাকায় বিক্রি হয়। যেমন আওয়ামী লীগের নেতা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু। তিনি জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে যে অবদান রেখেছেন তার তুলনা হয় না।

কিন্তু তাঁর স্থলে এমপি হয়েছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। এসবই টাকার তেলেসমাতী খেলা।
৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে নূর আলী খান বলেন, রেসকোর্স মাঠে উপস্থিত হয়ে যাঁরা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেছেন, তাঁরা বলেন, ‘আমরা ৭ মার্চের ভাষণ শুনলে আমাদের মনে হয় যে, বঙ্গবন্ধু যেন এখন ভাষণ দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু এখনও যেন বলছেন যে, তোমরা শত্রæর মোকাবেলা করো।

Top