আজ : সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জোয়ারের তান্ডব বিলীন হচ্ছে কুয়াকাটা সৈকতের গাছপালা, দোকান

সময় : ৮:২২ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১১ আগস্ট, ২০১৭


বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তান্ডবে কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমিসহ গাছপালা স্থাপনা দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পুর্ণিমার প্রভাবে তিনদিনের অস্বাভাবিক জোয়ারে উত্তাল ঢেউয়ে অন্তত ৩০ ফুট প্রস্থ সৈকত সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। সৈকত ঘেঁষা অন্তত ৪০ টি ক্ষুদে দোকান অর্ধশত অস্থায়ী স্থাপনা ভেঙ্গে গেছে। সৈকতে যাওয়ার সড়কসহ বিদ্যুতের খুটিও উপড়ে গেছে। শত শত নারিকেল ঝাউ, কড়াই, গেওয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উপরে গেছে। যেন প্রকৃতির রুদ্ররোষে পড়েছে কুয়াকাটার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের স্পটগুলো। জাতীয় উদ্যানের অধীন কুয়াকাটা ইকোপার্কের পুকুরসহ শত শত গাছপালা বাগান এবং পর্যটকের বসার নির্মিত পাকা বেঞ্চি উত্তাল ঢেউয়ে ভেঙ্গে গেছে। তিনদিনের ছয়দফা অস্বাভাবিক জোয়ারে যেন লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। সৈকত পাড়ে দাঁড়িয়ে জোয়ারের সময় ঢেউয়ের তান্ডবে বিলীন হওয়ার দৃশ্য দেখে পর্যটকসহ স্থানীয় দোকানিরা হতবাক হয়ে যান। বেড়িবাঁধের বাইরে আরও দুই শতাধিক দোকানি তাদের ব্যবসার ভবিষ্যত নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় পড়েছেন। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে অস্বাভাবিক জোয়ারে ঢেউয়ের তান্ডবে বেড়িবাঁধ নিয়েও শঙ্কায় পড়েছেন বাঁধের অভ্যন্তরের মানুষ। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কুয়াকাটায় লগ্নিকারক হোটেলসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীরা। মিরাবাড়ি, মাঝিবাড়ি ও খাজুরা পয়েন্টে ভেঙ্গে যাওয়া ঝুঁকিপুর্ণ বাঁধ রক্ষায় জিও টেক্সটাইল ব্যাগ দিয়ে ঢেউয়ের ঝাপটা ঠেকানের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু তা নিয়েও স্থানীয়রা শঙ্কায় রয়েছেন। বেড়িবাঁধের বাইরের ব্যবসায়ীরা উত্তাল ঢেউয়ের প্রবল ঝাপটা ঠেকতে নিজেদের উদ্যোগে জিও টেক্সটাইল ব্যাগে বালু বোঝাই করে দিয়েছেন। সৈকতের শুন্য পয়েন্টের পশ্চিম দিকে এমন চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ক্রমশ প্রবল হচ্ছে তাঁদের ভাঙ্গন শঙ্কা। আবদুল হামেদ (৭০) জানান, ঝিনুকের ছোট্ট দোকান ছিল সাগরপাড়ে। আরও পনের দিন আগে অমাবস্যার জোতে জোয়ারের তান্ডবে ভেঙ্গে গেছে। মালামালও সব রক্ষা করতে পারেন নি। এখন সাতজনের সংসারের উপার্জনোক্ষম এ মানুষটি বেকার। ডেইলি কাম করতে গিয়ে হাত ভেঙ্গে বাসায় উপোস কিংবা অর্ধাহারে হামেদের পরিবারে কাটছে দিনাতিপাত। কুয়াকাটা ইলিশ পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংস্কৃতিক সংগঠক রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, বাঁধের এক কিমি ভিতের পর্যটকের বিনোদন কেন্দ্রীক ব্যবসার পসরা সাজিয়ে এখন রয়েছেন বাঁধ ভাঙ্গা জলোচ্ছ্বাস আতঙ্কে। কুয়াকাটা হোটেল মোটল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব শরীফ জানান, শীঘ্রই কুয়াকাটার সকল উন্নয়নের আগে বীচ রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু করা প্রয়োজন। নইলে সকল উন্নয়ন ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্র রক্ষায় এটি করা জরুরি প্রয়োজন। কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা জানান, এই মুহুর্তে আগে বীচ রক্ষার কাজ শুরু করা প্রয়োজন। নইলে কুয়াকাটার উন্নয়ন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, কুয়াকাটা বীচ রক্ষা প্রকল্পের পেপার ওয়ার্ক দ্রুত এগিয়ে চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সবকিছু অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ণ স্পটগুলোতে বেড়িবাঁধ রক্ষায় জরুরি মেরামত কাজ চলছে।

Top