আজ : বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং | ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের পদক্ষেপে বাংলাদেশীরা আতঙ্কে

সময় : ৫:২১ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৪ মার্চ, ২০১৭


ক্তরাষ্ট্রের নয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিভাবন বিরোধী পদক্ষেপগুলোর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসীরা আতঙ্কে রয়েছে। তাদের সংখ্যা সোয়া লাখ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে বসবাসরত অভিবাসীরা কত অপরাধ সংঘটিত করছে প্রতি সপ্তাহে তার খতিয়ান প্রকাশ করতে। এই নির্দেশে আরো বলা হয়েছে বেআইনি বসবাসকারী অভিবাসীদের সংঘটিত অপরাধের যারা শিকার হচ্ছে, তাদের সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করতে।

১৯৩০-এর দশকে জার্মানিতে হিটলার যে প্রক্রিয়ায় জার্মানির অধিবাসী ইহুদিদের বিরুদ্ধে জার্মানির জনসাধারণের মনে দারুণ বিরূপভাব ও ক্রোধ সৃষ্টি করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকায় বসবাসকারী বেআইনি অভিবাসীদের নাম করে অভিবাসী জন-অংশের প্রতিই (শ্বেতাঙ্গ) আমেরিকানদের মনে সেই রূপ বিরূপভাব এবং ক্রোধ সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নিয়েছেন!

এই পদক্ষেপটির নাম হচ্ছে VOICE (Victims of Immigration Crime Engagement), এই নামে একটি সরকারি দফতর সৃষ্টি করা যে দফতরের এক মাত্র কাজ হবে, প্রতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে (বেআইনিসহ) বসবাসকারী অভিবাসীরা কত অপরাধ সংঘটিত করছে তার খতিয়ান প্রকাশ করা।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দফতর স্থাপন করার কথা উল্লেখ করেছিলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে এই তথ্যটি তেমন প্রাধান্য দিয়ে প্রকাশ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক ক্লডিয়া কুনজ তার প্রণীত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন কিভাবে নাৎসি একনায়ক হিটলার ইহুদিদের প্রতি জার্মানদের মনে দারুণ ঘৃণা এবং ক্রোধভাব সৃষ্টি করে ব্যাপকভাবে ইহুদি নিধনের প্রতি জার্মান জনসাধারণের উদাসীন ও নিরপেক্ষ থাকার মনোভাব সৃষ্টি করেছিলেন।

হিটলারের প্রক্রিয়াগুলোর অন্যতম ছিল নানাভাবে ইহুদিদের সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলার প্রতি হুমকিরূপে ফুটিয়ে তোলা। ১৯৩০ সালে নাৎসিদের পরিচালিত একটি সংবাদপত্র প্রতি সপ্তাহে ইহুদিদের সংঘটিত বলে কথিত অপরাধগুলোর তালিকা প্রকাশ করতে শুরু করে। যদিও সে সময়ে জার্মানিতে ইহুদিরা ছিল সব চেয়ে নিরীহ এবং আইন মান্যকারী জন-অংশ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেকটা সেই পদ্ধতির অনুসরণে অভিবাসীদের দিয়ে সংঘটিত অপরাধগুলোর সাপ্তাহিক খতিয়ান প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও একাধিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে (বেআইনিভাবেসহ) বসবাসকারী অভিবাসীরা জন্মগতভাবে আমেরিকানদের তুলনায় অনেক বেশি নিরীহ এবং আইনশৃঙ্খলা মান্যকারী জন-অংশ।

অভিবাসনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করছে। তারা বলছেন, একটি বিশেষ এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে এমন বিরূপ চেহারায় ফুটিয়ে তোলার প্রক্রিয়া দেশে একটি আতঙ্কের আবহাওয়া সৃষ্টি করবে যার ফরে লাখ লাখ নিরীহ অভিবাসী এবং বেআইনিভাবে বসবাসকারী বৈষম্য এবং সহিংসতার শিকার হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই বেআইনি অভিবাসীদের প্রতি তার চরম ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন এই বলে ‘মেক্সিকো হতে অপরাধী এবং ধর্ষণকারীরা অভিবাসীরা হয়ে এ দেশে আসছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক কোটি ১৫ লাখ বেআইনি অভিবাসীকে বহিষ্কার করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ স্কোয়াডের সদস্যরা যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে যে কাউকেই সন্দেহ হলে পাকড়াও করতে পারবে। এ জন্য ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা আরো দশ হাজার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এই নির্দেশ শুধু বেআইনী অভিবাসীদের নয়, আইনগতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের, যাদের মধ্যে বহু বাংলাদেশীও রয়েছে। তাদের জীবনেও দারুণ উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। কারণ বেআইনি অভিবাসীরা প্রায় সবাই আইনগতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীর পরিবারের সদস্য অথবা আত্মীয় পরিজন। এক কোটি পনেরো লাখ বেআইনি অভিবাসীদের মধ্যে শতকরা একজনও যদি বাংলাদেশী হয় তাহলে অন্তত সোয়া লাখ বাংলাদেশীর জীবনে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে! বাস্তবে এসব বাংলাদেশীর সংখ্যা অনেক বেশিও হতে পারে!

Top