আজ : বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ডিম চুরির অপবাদে সৎমেয়েকে হত্যা

সময় : ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২৩ মার্চ, ২০১৭


দুটি কোয়েল পাখির ডিমের জন্য প্রাণ গেল মিতু(১১) নামের এক শিশুর। ডিম চুরির অভিযোগ এনে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাসনাবাদের শেওপাড়া গ্রামে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সৎ মা ফরজানাকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নরসিংদীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযুক্তকে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলা ও ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মিতুকে ডিম কিনে আনতে পাশের বাড়িতে পাঠান সৎমা ফারজানা। ওই বাড়ি থেকে মিতু ২টি কোয়েলের ডিম ‘চুরি’ করে নিয়ে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিতুকে বকাঝকা করে সৎমা ফারজানা। ওইদিন সন্ধ্যায় এ নিয়ে আবারও মিতুকে মারধর করার সময় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরলে শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় মিতুর। মৃত্যুর পর মিতুর লাশ প্রথমে বাড়ির রান্নাঘরে এরপর রাতের আঁধারে পার্শ্ববর্তী কলাবাগানে ফেলে রাখে। এদিকে মিতুকে চারদিকে খুঁজতে থাকে তার বাবা ও প্রতিবেশীরা। পরদিন বৃহস্পতিবারও মিতুর কোনো সন্ধান না পেয়ে রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে খবর আসে মিতুর মরদেহ বাড়ির পাশে কলাকবাগানে পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন মিতুর বাবা ইমান উদ্দিন। মামলার পর পুলিশ সন্দেহজনকভাবে সৎমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সৎমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি আমরা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মৃত্যুর ঘটনা পুলিশকে জানান। মারধর করার সময় মিতু তার চুল টানে। একারণেই তিনি মিতুর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরেন। অনেকক্ষণ ধরে চেপে ধরার ফলেই মিতুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান সৎমা ফারজান। বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে জেলহাজতে পাঠান আদালত।

Top