আজ : বৃহস্পতিবার, ২৪শে মে, ২০১৭ ইং | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

তথ্য প্রযুক্তির সফল ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সম্বিলিত উদ্যোগ নিতে হবে

সময় : ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৮ মে, ২০১৭


ঢাকা : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দিন বদলের ধারাকে সচল এবং আরো বেগবান করতে সকল পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সফল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সম্বিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশ্ব টেলিযোগযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণমানুষের সংঘবদ্ধ প্রয়াসেই কেবল পারে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও অসম্প্রদায়িক, সুখী, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ষোল কোটি মানুষের এই দেশে রাষ্ট্রীয়, সমাজ ও ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দেয়ার জন্য শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকার সারা দেশে যে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ও তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক সরকারি সেবার ক্ষেত্র উন্মুক্ত করেছে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য প্রয়োজন যথাযথ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসমুহের ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমনি বৈশ্বিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের একটি সুসংহত অবস্থান তৈরি হবে। বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবনী অর্থনীতির যে নতুন ধারা সৃষ্টি হয়েছে তার সাথে তাল মেলাতে হলে দেশের প্রতিটি এলাকায় তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
আবদুল হামিদ বলেন, সম্প্রতি তথ্য প্রযুক্তিতে উন্নত দেশসহ বিশ্বের ১৫০টি দেশে একযোগে সাইবার হামলা বিশ্ববাসীকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। হ্যাকারদের কবল থেকে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে মুক্ত রাখতে তথ্য-প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে।
তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি মুখ্য নিয়ামক হল সকলের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করা। প্রযুুক্তি বিকাশের ফলে একদিকে যেমন উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে তেমনি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের অনিষ্ট সাধনে এর অপব্যবহারও বেড়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশী বিভিন্ন ভাবধারা জনগণ বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করছে। আমাদের প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে অত্যন্ত সক্রিয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সচেতনতা সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করতে হবে। নিজস্ব সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ হতে হবে।
রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে ‘সোনার বাংলায়’ রূপান্তরিত করার যে স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি ও ক্রমবর্ধমান সফলতা অর্জনের পটভূমিতে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে ‘আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) এর সদস্য পদ লাভ করে। ব্যবসা-বাণিজ্য বিস্তার, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রসার ও গবেষণার আওতা সম্প্রসারণসহ জাতীয় অগ্রযাত্রায় গতি সঞ্চারণের স্বার্থে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকা বেতবুনিয়ায় ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন উপগ্রহ ভূকেন্দ্র স্থাপন করেন। এই উপগ্রহ ভূকেন্দ্রের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের সাথে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের যোগাযোগ এক সুদূরপ্রসারী ভিত্তি রচিত হয়।
তিনি বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ মহাশূন্যে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দ্বারপ্রান্তে। দেশের সর্বপ্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর জন্য ইতোমধ্যেই অরবিটাল স্লট অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ স্যাটেলাইট নির্মাণ সম্পন্ন করে তা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে। পাশাপাশি গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের কাজও পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে। এ স্যাটেলাইট দেশের টেলিযোগাযোগসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দুর্গম ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এলাকায় জনমানুষকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত করার পথ খুলে দেবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি স্মারক ডাক টিকিট অবমুক্ত করেন। এছাড়া তিনি আইসিটি বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

Top