আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

তদন্তে অভিযোগের সিংহভাগ প্রমান পাওয়া গেছে মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

সময় : ৬:১৯ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২০ মে, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

পিরোজপুর ব্যুরোঃ

পিরোজপুরের সর্ব দক্ষিণের বৃহৎ জনপদ মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের

প্রথমবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা আশরাফুর রহমানের

বিরুদ্ধে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীসহ (এডিপি) বিভিন্ন অনিয়ম ও

স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ জনসম্মুখে বেরিয়ে আসায় সেখানে তোলপাড় সৃষ্টি

হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ওই উপজেলার ১১টি ইউপির মধ্যে আট ইউপির

নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের ভাইস চেয়ারম্যান

মাকসুদা আক্তার লিখিত একটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন

কর্তৃপক্ষের গোচরীভ ূত করায় অবশেষে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।

অভিযোগে জানাযায়, ওই উপজেলার ১১ ইউপির চেয়ারম্যানের মধ্যে ৮জন

চেয়ারম্যানই উক্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুরের বিরুদ্ধে

বিধিবহির্ভূতভাবে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মতামতের কোন তোয়াক্কা

না করে একতরফাভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দ ও উপজেলা

উন্নয়ন রাজস্ব তহবিলের অর্থ সেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে

বন্টন করাসহ আটটি অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ সম্বলিত একটি লিখিত

অভিযোগ পত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব লুৎফুন নাহার বিষয়টি

সরেজমিনে তদন্তের জন্য পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক

(ডিডিএলজি) মো. কাজী তোফায়েল হোসেনের ওপর দায়িত্ব অর্পন করেন।

জানাযায়, উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান উন্নয়ন তহবিলের অর্থ

বাছাই কমিটির কোন সভা আহবান না করে সম্পূর্ন তার একক ক্ষমতাবলে ইউপি

চেয়ারম্যানদের কোনধরনের প্রকল্প গ্রহন না করে মনগড়াভাবে তার আত্মীয়-স্বজনদের

মধ্যে প্রকল্প তৈরী করে তা বাস্তবায়ন করেন। এছাড়া প্রকল্প গ্রহনে খাতওয়ারী বন্টন,

জনসংখ্যা-আয়তন অনুসারে বিভাজন উপেক্ষা করে তার ইচ্ছেমত বিভাজন করেছেন।

এছাড়া, দরপত্রের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে দুই লক্ষ টাকার নিচের প্রকল্প

জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের নির্দেশ থাকলেও ছোট ছোট প্রকল্প

একীভূত করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তা প্যাকেজ আকারে দরপত্র আহবান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করে ১% হারে

হিস্যা সরকারী পরিপত্র মোতাবেক জনসংখ্যা ও আয়তন অনুযায়ী বিভাজন না করে

উপজেলা চেয়ারম্যনের খামখেয়ালীমত নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী

কর্মকর্তা তা ব্যায় করেন। উপজেলা ভূমি উন্নয়ন করের ২% অর্থ উপজেলা কমিটির

মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উপস্থাপন ছাড়াই সেগুলো ইচ্ছেমত ব্যায় করেন।

লিখিত অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানরা আরও জানান, উপজেলা পরিষদের

কাবিখা ও টিআর-এর কর্তনকৃত অর্থ চাল ও গম হতে প্রকল্প গ্রহনে উপজেলা

সমন্বয় কমিটির সভায় উপস্থাপন ছাড়াই নিজের পছন্দমত ব্যক্তিকে বরাদ্দ দিয়ে দেন।

উপজেলা পরিষদের অতিদরিদ্রদের কর্মসূচির আওতায় নন ওয়েজ কষ্ট-এর বরাদ্দকৃত অর্থ ও

ত্রাণসামগ্রী জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা না করে বিধি ভঙ্গ করে ইচ্ছেমত

বন্টন ও বিতরন করেন। এদিকে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ডিডিএলজি কর্মকর্তা

তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত

অভিযোগের সত্যতার প্রমান পাওয়া গেছে।

এ ব্যপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের সাথে সেল সাংবাদিকবৃন্দ

তার(চেয়ারম্যানের)ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি দেশের বাইরে থাকায়

কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যন মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বাদশা

সরকারী অর্থ ও অভিযোগকৃত সকল কাজ বিধিমোতাবেক খরচ ও বন্টন করা হয়েছে

দাবী করে সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা চেয়াম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ

উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও ভিত্তিহীন।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top