আজ : সোমবার, ২৫শে জুন, ২০১৭ ইং | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

তারুণ্যের উদ্যমে এগোচ্ছে ই-কমার্স

সময় : ৫:৩৭ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৪ জুন, ২০১৭


সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের ই-কমার্স খাত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এ ব্যবসা এখন বেশ জনপ্রিয়। ঘরে বসেই ক্রেতারা তাদের চাহিদা মতো যেকোনো পণ্য পাচ্ছেন খুব সহজে। রাস্তায় যানজট, হুড়াহুড়ি, দৈনন্দিন ব্যস্তজীবনে শপিংমলে গিয়ে কেনাকাটার পরিবর্তে এখন অনেকেই তার প্রয়োজনীয় পণ্য অনলাইনে সংগ্রহে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

ফলে স্মার্ট ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন শপিং। ব্যস্ততা যত বাড়ছে ততই জনপ্রিয় হচ্ছে ই-কমার্স। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মাধ্যমটি এখন আর শখের পর্যায়ে নেই, ধীরে ধীরে জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

দেশের বৃহৎ তরুণ প্রজন্মের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বায়নের কল্যাণে এখন হাতের মুঠোয় পৃথিবী। বিশ্বের অন্যান্য দেশে ই-কমার্স ব্যবসা বেশ জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে কেবল আলোচিত হতে শুরু করেছে খাতটি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। তবে আগামীতে ই-কমার্স কেনা-বেচার প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

বর্তমানের তরুণ প্রজন্মকে ই-কমার্স দিয়েছে স্বাবলম্বী ও বেকারত্বমুক্ত বাংলাদেশের নতুন প্রেক্ষাপট রচনার সুযোগ। ই-কমার্স প্রযুক্তিনির্ভর উপায়ে তরুণদের সামনে খুলে দিয়েছে অফুরন্ত কাজের সুযোগ। এখন তরুণদের অনেকেই ই-কমার্সের মধ্যে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সম্ভাবনা খোঁজার চেষ্টা করছেন। এ কারণে তরুণ প্রজন্মের অনেকে স্বাধীন পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অনলাইনে বিকিকিনি।

তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে গত কয়েক বছরে দেশে অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্স ব্যবসার বিশাল একটি বাজার গড়ে উঠেছে। উদ্যোক্তার পাশাপাশি এ খাতের ক্রেতাদের সিংহভাগই তরুণ প্রজন্মের। তারুণ্যের উদ্যমে সম্ভাবনার পথে এগোচ্ছে ই-কমার্সই-কমার্স নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে অনলাইনে যারা কেনাকাটা করেন, তাদের ৯০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেনাকাটা করেন ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীরা।

এ খাতের সম্ভাবনা নিয়ে জাগো নিউজের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) প্রেসিডেন্ট রাজীব আহমেদ বলেন, এ মুহূর্তে ই-কমার্সে জড়িত এমন এক হাজার ওয়েবসাইট আর আট হাজার ফেসবুক পেজ আছে। এখানে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজারের মতো পণ্যের ডেলিভারি হয়, যা প্রতি মাসে দাঁড়ায় আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখের মতো। ই-কমার্সে বর্তমানে তরুণ উদ্যোক্তার সংখ্যাই বেশি। এসব তরুণ ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজেদের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

‘ই-কমার্স এমন একটা সেক্টর, যেখানে ২৪ ঘণ্টা ব্যবসা হতে পারে। আমাদের অনেক অর্ডার আসে রাত ১২টার পর। কারণ মানুষ দিনে কাজ করেন রাতে রিলাক্সে ফেসবুক বা ওয়েবসাইট ভিজিট করেন। এখানে ক্রেতা-বিক্রেতার সিংহভাগই তরুণ প্রজন্মের’ যোগ করেন তিনি।

রাজীব আহমেদ আরও বলেন, মূল কথা টাকা যত হাত বদলাবে, জিডিপি তত বাড়বে। এটা অর্থনীতির বেসিক ব্যাপার। এ কারণে অর্থনীতির চাকা ২৪ ঘণ্টাই ঘুরাবে ই-কমার্স। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে এ খাত।

‘এ সেল বিডি’ নামক একটি অনলাইন শপ গড়ে তুলেছেন আতিকুর রহমান নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, স্নাতক শেষের আগেই এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। আমি নিজেও একজন তরুণ, আমার ক্রেতাদের সিংহভাগই তরুণ। সব মিলিয়ে বর্তমানে আমার এ ই-ব্যবসা ভালো চলছে। আমার অন্য বন্ধুরা যখন পড়ালেখা শেষ করে চাকরি খুঁজছে তখন আমি নিজের প্রতিষ্ঠান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, অন্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি।

Top