আজ : শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুর বিরলের পূর্ণভবা নদীর উপর রাবার ড্যাম দুই হাজার পরিবারের আর্শিবাদ

সময় : ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১১ মার্চ, ২০১৭


সুলতান মাহমুদ , দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুর বিরলের ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের মাগুরাবান ধন্যসাহার ঘাট পুর্ণভবা নদীর উপর রাবার

ড্যাম নির্মিত হওয়ায় পর থেকে কৃষকদের সেচ সুবিধা দিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি

পেয়েছে । উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য। রাবার ড্রামের উজানে

জলাধার সৃষ্টি হওয়ায় মাছ চাষের সুযোগ হয়েছে । যে সকল জমি পুর্বে পানির অভাবে

পতিত হয়ে থাকতো রাবার ড্যামটি নির্মান করার পর সে জমিতে পানির অভাব দুর

হয়েছে। সোনালী ফসলে ভরে গেছে নদীর দুই প্রান্তের মাঠ । স্থানটি নিরিবিলি ও

প্রাকৃতিক সোন্দর্যে ভরপুর। তাই এটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হওয়ায়

প্রত্যেকদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিরে মুখরিত হয়ে উঠছে।

এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করলে সরকার পাবে বিপুল অংকের রাজস্ব।

বিরল উপজেলার রাবার ড্যামটি ২০১৬ সালের প্রথম দিকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে

দিনাজপুর এলজিইডি এই নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করে। বহুল প্রত্যাশিত ৯০ মিটার

এই দীর্ঘ রাবার ড্যাম ও ব্রীজ পুর্ণভবা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়। এই রাবার ড্যামটি

নির্মানের ফলে যেমন দুর হয়েছে কৃষকদের সেচের পানির অভাব, সেই সাথে প্রচুর

পরিমানে মাছের অভাব দুর হয়েছে ।

শুধু বিরলের কৃষকরা নয় বরং পার্শের উপজেলা কাহারোল, ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জ সহ অন্যান

জেলার কৃষক ও জেলেরা সুবিধা ভোগ করছে। এখন বহু জেলে ও তার পরিবাররা মাছ ধরে

বাজারে বিক্রি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে এবং মাছ বিক্রির অতিরিক্ত টাকা দিয়ে

শিশু-কিশোরদের লেখা পড়া চালিয়ে থাকে। এখন আর নদীর তীরবতী এলাকার মানুষের পুর্বের

মত অভাব নেই । আর এই সবটুকু কাজই স্থানীয় সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর

পরিশ্রমের ফসল।

শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে এ অঞ্চলের কৃষকদের আবাদ করতে কষ্ট হতো। পানির অভাবে

পতিত থাকতো শত শত হেক্টর জমি। ফলে কৃষকদের গৃহে থাকত হাহাকার। তারা দুইবেলা

দু-মুঠো অন্ন যোগার করতে পরের জমিতে শ্রম বিক্রি করতো। অর্থের অভাবে কৃষক

পরিবারের শিশু-যুবকরা লেখা পড়া করতে পারতো না। সব সময় অভাব অনটোনের মধো দিয়ে

দিন কাটতো। এই এলাকার কৃষকদের করুন অবস্থা দেখে স্থানীয় এমপি খালিদ মাহমুদ

এদের মুখে হাসি ফোটাতে নানা পরিকল্পনা নিয়েছিল এবং তা প্রধান মšী¿ শেখ

হাসিনার নিকট উপস্থাপন করেছিলেন। প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনা উক্ত এলাকার কৃষকদের

কথা ভেবে তাই বরাদ্দ দিয়েছিলেন রাবার ড্যাম তৈরীর অর্থ। সেই অর্থ দিয়ে বিরল-

বোচাগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য নির্মান করলেন রাবার ড্যাম।

সুবিধা ভোগী কৃষক আনিছুর রহমান জানায় , রাবার ড্রাম নির্মান হওয়ার পর থেকে

পানির স্থর উপরে উঠে এসেছে । তাই নদীর পানি সহজেই সেচ কাজে ব্যবহার করতে পারি

। এতে করে জমিতে ভাল ফসল পাওয়া যাচ্ছে ।

মৎসজীবি আক্কাস আলী জানায় , রাবার ড্যাম নির্মামের আগে পূর্ণভবা নদীতে পানি

পাওয়া যেত না । এখন রাবার ড্যাম নির্মান হওয়ায় এখন সারা বছর নদীতে পানি পাওয়া

যায় । তাই নদীতে এখন দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন প্রকার মাছ পাওয়া যায় । সেই মাছ

ধরে বাজারে বিক্রি করে মৎসজীবি পেশা টিকিয়ে রাখতে পারছি সেই সাথে আর্থিক

ভাবে স্বচ্ছলতা এসেছে ।

দিনাজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, রাবার ড্যাম থেকে

সেচ সুবিধা নিতে কৃষকদের দিতে হচ্ছে না কোন অতিরিক্ত খরচ। এতে কৃষকরা

আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে

৯০ মিটার দীর্ঘ এই রাবার ড্যাম নির্মিত হয়েছে। ড্যামটি বিরল ও কাহারোল উপজেলার

বাসিন্দাদের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। বিরল ও কাহারোল উপজেলার ইউনিয়নের হাজার

হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। উপকৃত হয়েছে দুই উপজেলার প্রায়

দুই হাজার কৃষক পরিবার। খরা মৌসুমে এই রাবার ড্যাম প্রকল্পের আওতায় সেচ সুবিধা

বৃদ্ধির মাধ্যমে বছরে বোরো ধানের অতিরিক্ত উৎপাদন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন বৃদ্ধি

পাচ্ছে। এতে বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এই এলাকার

কৃষকরা। এছাড়াও এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পানিতে মাছ চাষের

সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

Top