আজ : রবিবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং | ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুর বোচাগঞ্জের জোড়া খুনের রহস্য খুঁজে পায়নি পুলিশ

সময় : ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৪ মার্চ, ২০১৭


দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে কথিত পীর ও তার গৃহপরিচালিকা দুবৃর্ত্তের হাতে নিহতের পর

লাশ দুটি দিমেক হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের পর দাফন করা হলেও পুলিশ জোড়া খুনের

এখনও পর্যন্ত কোন রহস্য খুঁজে পায়নি পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে

কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসি

বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ আমির আলী জোড়া খুনের লাশের ময়না তদন্ত করেন । ময়না

তদন্ত শেষে তাদেরকে বোচাগঞ্জের নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরে সমাহিত করা হয়েছে ।

প্রাথমিক ভাবে ময়না তদন্তে শেষে ডাঃ আমির আলী জানায় , পীর ফরহাদ হোসেন

চৌধুরীর দেহে একাধিক গুলির চিহ্ন ও গায়ের ছুরিঘাতের চিহ্ন রয়েছে । গৃহ

পরিচালিকার গায়ে গুলি ও ছুড়িঘাতেরও চিহ্ন রয়েছে । আলামত ঢাকার ফরেন্সি বিভাগে

পাঠানো হয়েছে কয়েকদিনের মধ্যে পূনাঙ্গ রিপোট পাওয়া যাবে ।

রংপুর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির , বোচাগঞ্জে কথিত পীর ফরহাদ

হোসেন চৌধুরীরর কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফ পরিদর্শন করে বলেছেন , খুনের ধরন

দেখে মনে হচ্ছে পর্ব পরিকল্পিত ভাবে দুজনকে খুন করা হয়েছে । পুলিশের বিভিন্ন

সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে । প্রকৃত খুনিকে অবশ্য পুলিশ খুঁজে বের করবে ।

বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান,

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। ঘটনাটির বিষয়ে

বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। সোমবার রাতেই লাশ উদ্ধার করে

দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত কথিত পীর বোচাগঞ্জ উপজেলার আটগাও ইউনিয়নের দৌলা গ্রামের আমিনুল হক

চৌধুরীর ছেলে কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফের পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী

দিনাজপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। নিহত রুপালী বেগম (২৮) উপজেলার

মাধবপুর গ্রামের হসের আলীর মেয়ে এবং শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, এই ঘটনায় কোনও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা

রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি শত্রুতামূলকভাবে তাদের হত্যা করা

হয়েছে কিনা সেটাও দেখছে পুলিশ।

এদিকে, এলাকাবাসী জানান, ২০১০ সালে কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা

করেন ফরহাদ হোসেন। এরপর তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসেন। তিনি নিজেকে পীর বলে

দাবি করতে শুরু করেন। দরবার শরীফে অসংখ্য মুরিদ ও ভক্ত নিয়মিত মাহফিল ও ধর্মীয় আলাপ-

আলোচনা করতেন, যারা সবাই ফরহাদ হোসেন চৌধুরীকে বাবা বলে ডাকতেন। ঘটনার

তিনদিন আগে নিহত রূপালী বেগমের বিয়ে হয় সিরাজগঞ্জ থেকে আগত সিরাজুল

ইসলাম নামে এক কথিত মুরিদের সঙ্গে। তবে ঘটনার পর থেকে সিরাজুল নিখোঁজ

রয়েছে।

দরবার শরীফের খাদেম সাইদুর রহমান ও মুরিদ জনি আলম জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে

দরবার শরীফে এসে তারা দেখেন বাবা ফরহাদ হোসেন চৌধুরী বিছানায় শুয়ে আছেন।

এরপর তাকে ডাকতে গিয়ে বিছানায় এবং শরীরে রক্তের চিহ্ন দেখে তারা নিশ্চিত হন যে, কে

বা কারা তাকে হত্যা করে পালিয়েছে।

নিহত ফরহাদ হাসান চৌধুরীর স্বজন ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার মালেক হোসেন জানান,

সন্ধ্যার দিকে কয়েকজনকে মোটরসাইকেল যোগে চলাফেরা করতে দেখেছেন তারা। তবে

বিষয়টিতে তেমন কোনও গুরুত্ব দেননি। হয়তো তারা এই জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত

থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, সোমবার রাত ৮টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা এলাকায় কথিত পীর ফরহাদ

হাসান চৌধুরী ও তার গৃহপরিচালিকা রুুপালী বেগমকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করে

দুর্বৃত্তরা।

Top