আজ : শুক্রবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৫ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা কাশিমপুর কারাগার, ভিতরে তিন এ্যাম্বুলেন্স

সময় : ৮:০৯ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১২ এপ্রিল, ২০১৭


গাজীপুর থেকে আলমগীর হোসেন : যে কোনো সময় কার্যকর হতে পারে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও তার সহযোগী জঙ্গি শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসির রায়। ইতোমধ্যে লাশ বহনের জন্য সন্ধা ৬টা ৪০ মিনিটে কারাগারের ভিতরে দুইটি এ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এর আগে ফায়ার সার্ভিসের একটি এ্যাম্বুলেন্স ভিতরে প্রবেশ করেছে। রায় কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।

রায়কে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে কাশিমপুর কারাগারের সড়কে এবং আশপাশের এলাকায় নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। সেই সঙ্গে রয়েছে কমিউিনিটি পুলিশের সদস্যরা। কারাগারের সামনে মূল কারা ফটকে বাড়ানো হয়েছে অতিরিক্ত কারারক্ষীর সংখ্যা। কারা ফটকের সামনে রাখা হয়েছে একটি সশস্ত্র পুলিশ বহনকারী গাড়ি (এটিপি)। বন্ধ রয়েছে সকল দোকান। বসানো হয়েছে তিনটি নিরাপত্তা চেকপোষ্ট। পাশাপাশি অবস্থান নিয়েছেন র‌্যাব সদস্যরা। তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন জানান, শুধু কাশিমপুর এলাকা নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরো গাজীপুর জেলায় নেয়া হয়েছে। এজন্য টঙ্গী, স্টেশন রোড, বোর্ড বাজার, ভোগড়া বাইপাস মোড়, চান্দনা চৌরাস্তা, গাজীপুর শহর, রাজেন্দ্রপুর, কোনাবাড়ি, চন্দ্রা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এসব এলাকায় সর্বাত্মক সতর্কতা বজায় রাখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কাশিমপুর কারাগারে প্রবেশের প্রধান সড়কের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

কারাগারের মূল ফটক থেকে অন্তত ২০০ গজ দূরে গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য স্থান করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যম কর্মী কারাগারের সামনে গিয়ে উপস্থিত হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও তার সহযোগী জঙ্গি শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করতে প্রস্তুত কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার। বিকেল ৪টার দিকে ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুল ইসলাম কারাগারে প্রবেশ করেছেন।

কারা সূত্রে জানা যায়, ফাঁসি কার্যকর করার জন্য প্রধান জল্লাদ রাজু ও তার দুই সহযোগীকে বাছাই করা হয়েছে। সহযোগীরা হচ্ছেন- যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি শরিফুল ইসলাম ও ইকবাল হোসেন। কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের ইমাম মাওলানা হেলাল উদ্দিনকে আসামিদের তওবা পড়ানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকরের জন্য ইতোমধ্যে মহড়া সম্পন্ন হয়েছে।

দুপুরে কারা চিকিৎসক মিজানুর রহমান মৃত্যুদন্ড দন্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছেন। সন্ধ্যার পর আরেক দফা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছেন। সন্ধ্যার মধ্যে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা সিভিল সার্জন কারাগারে এসে পৌঁছাবেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

রাতেই তাদের ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে-এমনটা নিশ্চিত করেছেন পুলিশের একটি সূত্র। তবে জেলা প্রশাসন বা কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে কিছু বলেননি। কারা ফটকের সামনে সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত রয়েছেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে আছেন। তার ফাঁসির রায় কার্যকরে আইনি সবগুলো ধাপ শেষ। এখন রায় কার্যকরের অপেক্ষা।

বুধবার দুই দফায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে মুফতি হান্নানের। এরইমধ্যে তার নিজ গ্রাম গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খনন করা হয়েছে। এছাড়া দাফনের আনুষাঙ্গিক সব কিছু প্রস্তুত রয়েছে। সেই সাথে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে সকালে মুফতি হান্নানের বড় ভাই আলি উজ্জামান মুন্সি, তার স্ত্রী জাকিয়া পারভিন রুমা, বড় মেয়ে নিশি খানম ও ছোট মেয়ে নাজরিন খানম সাক্ষাত করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে মুফতি হান্নানের দুই ভাই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা বন্দি মহিবুল্লাহ ও গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের বন্দি আনিস মুফতি হান্নানের সঙ্গে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে সাক্ষাৎ করেন। তবে বুধবার সন্ধা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত অপর জঙ্গি শরীফ শাহেদুল বিপুলের পরিবারের কোনো সদস্য কারাগারে আসেননি।

Top