আজ : রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন

সময় : ৮:১৩ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১১ আগস্ট, ২০১৭


জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসছে। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে নানা মেরুকরণও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আগে থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। অন্তত কেন্দ্রীয়ভাবে দলটি গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। টানা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় থাকার পর নানা সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা। দুই দফায় যাঁরা ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তাঁদের জন্যও আগামী নির্বাচন বড় ধরনের পরীক্ষা। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলেও বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের রাজনীতি দুঃসময় অতিক্রম করছে। তার বড় কারণ, রাজনীতিতে অর্থ ও পেশিশক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব। দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে, ক্ষেত্র বিশেষে আদর্শ, জনকল্যাণ, আত্মত্যাগ ও নৈতিকতা যেন রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। রাজনীতি হয়ে উঠছে বিত্তবৈভব অর্জনের হাতিয়ার। সমষ্টির কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তির উদরপূর্তিই যেন আজকের দিনে রাজনীতির মূলধারা হয়ে উঠেছে।

মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও এ ধারার বাইরে নয়। সবাই নয়, তবে দলের এমন অনেক সংসদ সদস্য আছেন, যাঁদের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে দলের ভাবমূর্তি। এমন অনেক সংসদ সদস্য পাওয়া যাবে, যাঁরা গত দুই দফায় দলের জন্য কোনো সুনাম অর্জন করতে পারেননি; বরং তাঁদের অপকর্মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দল। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অনেক দিন থেকেই বলে আসছেন, বিতর্কিতদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না। রাজনীতিকে যাঁরা ব্যক্তিগত বিত্তবৈভবের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তাঁদের পরিশুদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তাতে কোনো কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না।

স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের আশা অনেক বেশি। গত দুই দফায় সরকারের অর্জন একেবারে কম নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দেশের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান অবকাঠামো সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরছে; কিন্তু রাজনীতিতে গুণগত মানের যে পরিবর্তন হওয়া দরকার ছিল, তা কি হতে পেরেছে? নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসবে, এমন অনেক প্রশ্ন সামনে চলে আসবে। এখনই আলোচিত হচ্ছে সুশাসনের বিষয়টি। আওয়ামী লীগের মতো একটি দল কেন সুশাসন নিশ্চিত করতে পারবে না?

প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই বলেছেন, আগামী নির্বাচন তিনি প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেবেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, এমনটিই আশা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আবারও ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু দলের বিতর্কিত সংসদ সদস্যরা মনোনয়ন পেয়ে গেলে আওয়ামী লীগের সদিচ্ছা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কাজেই দলের স্বার্থে ব্যর্থ, বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন ও দলীয় নেতাকর্মী, বিশেষ করে জনবিচ্ছিন্নদের মনোনয়ন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে দলে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে।

Top