আজ : বৃহস্পতিবার, ২৪শে মে, ২০১৭ ইং | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নিলামে উঠছে সোনা!

সময় : ২:৩১ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৮ মে, ২০১৭


গত ৪৬ মাসে অবৈধভাবে আমদানির দায়ে জব্দ করা ১ হাজার ১০১ কেজি সোনা নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বরাবর ‍শুল্ক গোয়েন্দার ডিজি ড. মইনুল খান চিঠি দিয়েছেন।
ড. মইনুল খানের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের (বাজুস) পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে সোনা সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাজুসের নেতারা এনবিআরের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে আলোচনা করেছেন। সোনা চোরাচালানবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাগেজ রুলের আওতায় শুল্ক করাদি পরিশোধ সাপেক্ষে ২৩৪ গ্রাম বা প্রায় ২০ ভরি সোনা আনার সুযোগ রয়েছে। এভাবে প্রতি ভরিতে ৩০০০ টাকা শুল্ক দিয়ে সোনা আনছেন যাত্রীরা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক চোরাচালানের দায়ে আটক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাকৃত এবং পরবর্তীতে বাজেয়াপ্ত সোনা নিলামে বিক্রি করার বিধান রয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাজেয়াপ্তকৃত সোনার নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে এ সব সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে জমা পড়ে আছে। সোনা ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের ভেতরে বৈধ কোনো উৎস থেকে সোনা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তারা ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সোনা নিষিদ্ধ কোনো পণ্য নয়। আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ এর অনুচ্ছেদ ২৬ (২২) অনুযায়ী বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সোনা আমদানির সুযোগ রয়েছে। তবে ওই আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি, এ ধরনের অনুমতি সহসা পাওয়া যাচ্ছে না এবং তারা বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈধ ও অবাধে সোনা সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাজেয়াপ্তকৃত সোনা নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা যেতে পারে। আমদানি নীতি অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে আমদানির আবেদন ইতিবাচকভাবে দেখে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হলে সোনা ব্যবসায়ে অসাধুতা রোধ হবে বলে মনে করে সংস্থাটি।
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪৬ মাসে দেশের প্রধান দুই বিমানবন্দর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ১০১ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। সেই সঙ্গে ১৪৪ জন চোরাচালানিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সব সোনার দাম প্রায় ৫২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
৪৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় চালান ও বেশি সোনা জব্দ হয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে। এ অর্থবছরে প্রায় ৫৬৫ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। এ সব সোনার মূল্য প্রায় ২৫৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে প্রায় ১১৫ মণ সোনা জমা আছে। এর অর্ধেকেরই মালিকানা কেউ দাবি করেনি। বাকি কিছু অংশের মালিকানা নিয়ে মামলা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশেষ ২০০৮ সালে নিলামের মাধ্যমে আটক করা সোনা বিক্রি করেছিল।
এসব বিষয়ে ড. মইনুল খান বলেন, আইন অনুযায়ী দেশে সোনা আমদানির সুযোগ আছে। কিন্তু প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় ব্যবসায়ীর অবৈধ পথে ঝুঁকছেন। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের বৈধ সোনা কেনা-বেচা নিশ্চিত করতে জব্দ করা সোনা নিলামে তোলা যেতে পারে।

Top