আজ : বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের দাপটে চাপে ভারতই

সময় : ৫:৫০ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৮ জুন, ২০১৭


ভাগ্য থাকে সাহসীদের সাথে। লাতিন প্রবাদটা কতোখানি সত্য তা বুঝতে পারবেন পাকিস্তান দলের দিকে তাকালে। এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগে খুব কম লোকই তাদের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা দেখেছে। এমনকি সেমি-ফাইনালে বীরত্বের সাথে উঠে গিয়েও ফেভারিট ছিল না। আর প্রথম পর্বের প্রথম ম্যাচেই তো টুর্নামেন্টের নক আউট পর্ব অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ভারতের কাছে হেরে। সেই ভারতের বিপক্ষেই ওভালের ফাইনালে রোববার তারা খেলছে ফেভারিটের মতো। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ফেভারিট ভারতের বোলিং প্রবল চাপে পাকিস্তানের সামনে। তবে রান আউটের সুবাদে একটি উইকেট তারা ফেলতে পেরেছে ২৩তম ওভারের শেষ বলে।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় ২৫ ওভারে ১ উইকেটে ১৩৪ রান পাকিস্তানের। ফখর জামান ৬১ ও বাবর আযম ১ রানে ব্যাট করছেন।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে ফাইনালে মাত্র একবারই আগে ব্যাট করা দল শিরোপা জিতেছে। সেটাও এই ভারত। ২০১৩ তে। সপ্তম এই আসরে পাকিস্তান ইতিহাস বদলাবে নাকি? প্রথমবার এই আসরের ফাইনালে উঠে চিরশত্রু ভারতের সাথে তো প্রথমবার আইসিসি ওয়ানডে আসরে ফাইনালের মঞ্চে নেমেছে। সেখানে পাকিস্তানের ফর্মে থাকা দুই ওপেনার আজহার আলি ও ফখর জামান প্রায় কাঁদিয়ে ছেড়েছেন ভারতের টুর্নামেন্টসেরা বোলিং অ্যাটাককে।
কিন্তু ভাগ্য আসলে প্রথমে বিরাট কোহলির দিকে হাত বাড়ালেও পক্ষ বদলেছে খেলা শুরু হতেই! ভুবনেশ্বর কুমারের মেডেন, ইনসাইড এজ, রান আউটের চান্স মিস, প্রথম তিন ওভারেই এমন নার্ভাস সব কাণ্ড পাকিস্তানের ইনিংসে। চতুর্থ ওভারে জসপ্রিত বুমরাহের ওভারে ফখর আউট! না। ওটা ‘নো’ বল বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান ফখর। তারপর আর থামেন না। তিনি ও আজহার টার্গেট বানিয়ে ফেলেন বুমরাহকিন্তু ১০ ওভারে ৫৬ বা ১৫ ওভারে ৮৬ ঠিক পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের দাপটা বোঝাতে পারছে না। কারণ আসলে ওখানে আছে নতুন বলে ভুবনেশ্বরের প্রথম ৫ ওভারে ২ মেডেনে ১০ রান! বুমরাহর ৫ ওভারে ৩৬, অশ্বিনের ৪ ওভারে ২৮। কি বুঝলেন?
কিন্তু সাহসী ভাগ্যবানদেরও শেষ আছে তাই না? পাকিস্তানের মতো নিজের পায়ে কুড়াল মারতে আর কোন দলই বা জানে? দুই ওপেনারের ফিফটি হয়েছে। সেট দুজনই। আজহার লেগ সাইডে খেলে রান নিতে ছোটেন, ফখর তখন বল দেখছেন, জায়গা থেকে নড়েন না! আজহার অবিশ্বাস্য এক রান আউটের শিকার হয়ে কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে ফেরেন ৫৯ রান করে। ফখর তখন ৫৬ রানে। ২৩ ওভারের জুটি তাদের, ম্যাচের প্রায় অর্ধেক। ১২৮ রানের যে জুটি পাকিস্তানকে ৩০০ রানের বেশি সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছে। সেই জুটিটা এভাবে ভাঙবে? তখন তো রানের চাকা শ্লথ হওয়ার চাপেও ছিল না দলটা!কেই। অষ্টম ওভারেই তাই বুমরাহকে বদলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ডাকেন বিরাট কোহলি।

Top