আজ : শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পাখির জন্য ভালোবাসা

সময় : ৩:০১ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৪ এপ্রিল, ২০১৭


পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত, পাখি নিধন রোধ ও পাখির প্রতি ভালোবাসায় একটি বিশাল আকৃতির বটগাছকে পাখির অভয়াশ্রম করা হয়েছে। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া দক্ষিণ পাড়ার বটগাছটিতে ভাড় ঝুলিয়ে গতকাল সোমবার সকালে পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। নিঃসন্দেহে এই উদ্যোগ অনুসরণযোগ্য। বিশেষ করে নানাবিধ কারণে যখন বিভিন্ন জাতের পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তখন পাখির প্রতি এই ভালোবাসা মনুষ্যত্ববোধেরও পরিচায়ক। এই বোধ সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে তা এক ইতিবাচক ধারা তৈরি করবে।

বটগাছে ভাড় ঝুলিয়ে উদ্বোধন শেষে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল আসাদ বলেন, বনের পাখিকে নিরাপদে নির্বিঘ্নে বিচরণ করতে দিতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু আইন প্রয়োগ করে পাখি নিধন সম্ভব নয়। এজন্য সর্বসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই প্রকৃত অর্থেই পাখি নিধন সম্ভব হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এই অভিমতও গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, বন উজাড়, পাহাড় ধ্বংস করা, জলাশয় ভরাট, জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ, পাখি শিকারসহ নানাবিধ কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। অনেক পাখি বিলুপ্তপ্রায়। অথচ সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশে মানুষের ঘুম ভাঙতো পাখির কিচিরমিচির শব্দে। আগে বনবাদাড়ে শালিক, ঘুঘু, সবুজ ঘুঘু, বুলবুলি, দোয়েল, টুনটুনি, চড়ুই, ফিঙ্গে, কাঠ-ঠোকরা, মাছরাঙা, জংলি টুনি, ইষ্টিকুটুম, চন্দনা, ডালা ঘুরানি, কোকিল, চৈতার বৌ প্রভৃতি পাখির দেখা মিলতো। এছাড়া হাওর, বিল, ডোবা, মজাপুকুরে ডাহুক, কালিম, লাল বক, বিভিন্ন প্রজাতির সাদা বক, কুড়াসহ নাম না জানা অসংখ্য পাখি ঘুরে বেড়াতো।

শীতকালের বিকালে বাঁশ বাগান সাদা হয়ে যেতো ঝাকে ঝাকে বক পাখির আগমনে। বাড়ির উঠান থেকে ঘরের বারান্দা পর্যন্ত শালিক, চড়ুই অবাধে বিচরণ করতো। পল্লীর ছনের চালায় বাসা বাঁধতো চড়ুই ও কবুতর। বর্ষা মৌসুমে ধানের ক্ষেত ও কচুরিপানায় বাসা বানাতো লাল বক, সাদা বক, ডাহুক, কালিম, কুড়াসহ নানা প্রজাতির পাখি। এখন বনজঙ্গলের গাছেও তেমন পাখি চোখে পড়ে না। বিদেশি জাতের বৃক্ষরোপণ করায় সেগুলোও পাখির বসবাসের অনুপযোগী। বাসস্থান হারিয়ে পাখির এখন ছন্নছাড়া অবস্থা।

এ অবস্থায় দেশীয় পাখি সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। হাওর এলাকায় বেশি করে হিজল ও কড়ই গাছ লাগালে পাখির আশ্রয়স্থল সৃষ্টি হবে। বাড়ির আঙ্গিনায় বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকে যেন পাখির ক্ষতি না হয় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য দেবহাটা উপজেলার মানুষজন পাখির প্রতি ভালোবাসার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তাও ছড়িয়ে দিতে হবে সর্বত্র।

Top