আজ : শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঁধ ভেঙ্গে ডুবে গেল শনি, তলিয়ে গেল ১৫ হাজার হেক্টর বোর জমির ধান

সময় : ৭:৩২ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২৩ এপ্রিল, ২০১৭


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:বাড়ন্ত পানির সঙ্গে ২৩ দিন যুদ্ধ করেও ঠেকানো গেলনা হাওরের বাঁধ

’’ডুবে গেল শনি’’ তলিয়ে গেল ১৫ হাজার হেক্টর বোর জমির ধান।

শনিবার মধ্যরাতে শনি হাওরের লালুর গোয়ালা ক্লোজার বাঁধের উত্তরপাশে

ও রবিবার ভোর ৭ টায় রামজীবনপুর গ্রামের সামনে হাওরের বেড়ি বাঁধ

উপচে ও একই সাথে বেড়ী বাঁধের নীচে ঈদুরের গর্ত দিয়ে প্রবাহিত

পাহাড়ি ঢলের প্রবল পানির তোরে বাঁধ দুটি ভেঙ্গে তলিয়ে যায় বোর

জমির কাঁচা পাকা ধান। সবে মাত্র পাকতে শুরু করেছিল ব্রি আর ২৮ ও

দেশী জাতের ধান। ব্রি আর ২৯ পাকতে আরও দেরী ১৫ দিন। পর পর

দু’বারবোর ফসল ডুবিতে কৃষক সর্বহারা। দু’বছর একমাত্র বোর ফসল

হারিয়ে মনের সাধ মেটাতে সামন্য কৃষক কাটছেন কাচা ধান,আবার

কেহ দাড়িয়ে দাড়িয়ে তার ডুবে যাওয়া ফসল দেখছেন আর সেই সাথে

হাওরের জলে বিসর্জন দিচ্ছেন কফোটা চোখের জল। জানা যায়, অকাল

বন্যায় গত ১ মাসের ব্যবধানে ডুবে যায় সিলেট, মৌলভিবাজার,

হবিগঞ্জ, নেত্রকনো ও সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি বোর ফসলি হাওর।

তন্মধ্যে গত ৩১ মার্চ থেকে তাহিরপুর উপজেলার বৃহৎ বোর ফসলি শনির

হাওরটিকে হাওরপারের অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজার হাজার কৃষক

প্রতিদিন স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে কোন রকম ঠিকিয়ে রাখেন।

সপ্তাহখানেক ঠিকে থাকলে হয়তো কৃষক কিছুটা ধান কাটতে

পারতেন। কিন্তু কৃষকের সে স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। ২০১৬ সালে ১৯

এপ্রিল হাওরের ঝালখালি ও ২০১৭ সালের ২২ এপ্রিল রাতে লালুরগোয়ালা ও

২৩ এপ্রিল সকালে রামজীবনপুর গ্রামের সামনে বেড়ী বাঁধটি ভেঙ্গে

পর পর দুবার তলিয়ে যায় হাওরের ১৫ হাজার হেক্টর বোর জমির ফসল। গতকাল

রবিবার সরজমিনে শনির হাওরে গিয়ে দেখা যায় ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ দুটি

দিয়ে প্রবল বেগে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। সেখান থেকে ফিরে শনির

হাওরের মধ্য তাহিরপুর অংশের জাঙ্গালে গিয়ে দেখা যায় সামান্য কৃষক

কোমর সমান পানিতে কিছু পাকা, কিছু কাঁচা ধান কাটছেন, সে

সময় কথা হয় উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক হাদিস মিয়ার সাথে

তিনি জানান, বিগত ফসল ডুবির কারেন তিনি বিগত বছরও ফসল

পাননি এবারও হাওরের ফসল পাকার মুহুর্তে ডুবে গেল, তাই মনের

মায়াতেই হাওরে নিজের জমির কাঁচা,পাকা ধান কাটছি যদি এর মধ্য

থেকে দু’এক মন পাই। জাঙ্গাল ধরে কিছু দূর সামনে যাওযায় পর দেখা

যায় একাধিক কৃষক বিষন্ন মনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে তাদের ফলানো বোর

ফসল পানিতে ক্রমান্বয়ে তলিয়ে যাওয়া দেখছেন,এদের মধ্যে মধ্য তাহিরপুর

গ্রামের কৃষক খেলু মিয়া ও শামছু মিয়া বলেন, ১৫ দিন আগে যদি

হাওরটি ডুবে যেত তাহলে এত মায়া হত না ,আজ সত্যি মন খারপ

লাগছে। অনেক কৃষক মন খারাপের কারেণ হাওরে এসে আর কোন খোজ

খবর নিচ্ছেন না নিজের জমির। এসে কি করবেন যারা ব্রি আর ২৮ জাতের

ধান রোপন করেছেন তাদের মনে কিছুটা আশা ছিল হয়তো এ সপ্তাহেই

কাটাতে পারবেন যারা ব্রি আর ২৯জাতের ধান যারা রোপন করেছেন

তাদেরতো কোন আশাই নেই। তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, বিশ^ম্ভরপুর তিন

উপজেলার এ হাওরটিতে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষাবাদ করা

হয় এর মধ্যে ব্রিআর ২৮ জাতের ৭ হাজার হেক্টর, ব্রিআর ২৯ জাতের ৭

হাজার হেক্টর এবং অবশ্ধিসঢ়;ষ্ট ১ হাজার হেক্টরের মত জমিতে দেশীয় জাতের

ধান চাষাবাদ করেছেন বলে বিভিন্ন তথ্য মুত্রে জানা গেছে। তাহিরপুর

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ধান পাকার

মুহুর্তে হাওরটি ডুবে গেল, কৃষক না পারছে ধান কাটতে না পারছে

ফেলতে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল

ইসলাম বলেন, নদ নদীতে অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল পানির চাপে

লালুর গোয়ালা ও রামজীবনপুর গ্রামের সামনে বাঁধটি ভেঙ্গে শনি

হাওরের বোর ফসল তলিয়ে যায়। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

কামরুজ্জামান কামরুল বলেন ৩১ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল সন্ধ্যে পর্যন্ত

দিন রাতে হাজারো মানুষ নিয়ে বাঁধে কাজ করছি হাওরটি ঠিকিয়ে

রাখার জন্য, শনিই ছিল শেষ ভরসা হাওর কেন্দ্রিক জেলা উপজেলার । রাতের

আধারে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ দুটো দেখতে আজও এসেছি হাওরে।

Top