আজ : শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ পাপিয়ার

সময় : ৫:২৯ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৪ মে, ২০১৭


মাহবুব হাসান টুটুল,লিটন মাহমুদ মেহেরপুর থেক: ছোট থেকে স্বপ্ন তার বড় হয়ে সে শিক্ষক হবে। দুই হাত অকেজু হওয়ায় পা দিয়ে লিখে সেই স্বপ্ন জয়ের পথে আজ পাপিয়া আক্তার ববির। মেহেরপুরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিয়েছিল পাপিয়া আক্তার ববি ।মেহেরপুর সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের থেকে পড়াশুনা চালিয়ে হার না মানা এই শিক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরীক্ষায় ভাল করেছে।তার রেজাল্ট জিপিএ ২.৫০।তার রোল নং ২২৪৩৭৯।যশোর শিক্ষা বোর্ড।

বৃহস্পতিবার এসএসসির পরীক্ষার রেজাল্ট বাহির হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়ীতে ভিড় করে এলাকার মানুষ।তাকে এক নজর দেখতে উসুক জনতাও সহপাঠিরা পাপিয়াকে অভিনন্দন জানায়।এখন বর্তমানে কেউ এসএসসি পরীক্ষায় পাস করলে দেখতে আসেনা।তবে পাপিয়ার বেলায় একটু অন্যরকম।এলাকায় সবার মাঝে আশা আনন্দো বিরাজ করছে।যেন ঈদ এসছে সবার মাঝে।এর আগে এই অদম্য শিক্ষার্থীর পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দেওয়ায় ইচ্ছা ও চর্চা শক্তি দেখতে মেহেরপুর শহরের সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে ভিড় জমিয়েছিল অনেকেই। পরীক্ষায় পাপিয়ার পা দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে লেখা দেখে বিস্মিত সকলেই।
এর আগে সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মাঝে পা দিয়ে পরিক্ষার খাতায় মনোযোগ সহকারে লিখে চলেছেন পাপিয়া। অন্য পরিক্ষার্থীরাও তার এই মনোবল দেখে অবাক হয়েছেন।
পাপিয়া বান্ধুবী শিমলা আক্তার জানান, আমরা সুস্থ্য শরীরে পরিক্ষা দিতে গিয়ে একটু ভয় ভয় লাগছিল। কিন্তু পাপিয়া কে দেখে মনে হচ্ছিল স্বাভাবিক ভাবে সে পরিক্ষা দিয়ে চলেছে। তার এই অদম্য ইচ্ছা দেখে মনে হয়েছে আমাদের থেকে সে ভালো পরিক্ষা দিয়েছিল। তাই তার এমন ভাল রেজাল্ট হয়েছে।তবে পাপিয়ার এমন রেজাল্টে আমি খুব খুশি হয়েছি।তার স্বপ্ন পূরন হোক।তার হাত না থাকলেও তার মনোবল তাকে আজ এই যায়গায় নিয়ে এসেছে। আর তার সাথে পরিক্ষা দিতে পেরে আমরাও অনেক খুশি।

সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ছিলেন অজিত কুমার রায় তার সাতে কথা হয় তিনি জানান,পাপিয়া নামের এক জন শিক্ষার্থী পা দিয়ে লিখে আমার কেন্দ্রে পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করেছিল।তার এমন রেজাল্টে আমরা সবাই খুমি হয়েছি।তবে পরীক্ষায় আমরা তাকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করছি। এছাড়া বোর্ড নির্ধারিত প্রতিবন্ধীদের জন্য যে সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে সে গুলো তাকে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় ছাড়াও ২০ মিনিট বেশি সময় তাদের জন্য নির্ধারন করা হয়েছিল।

পাপিয়া আক্তার ববি সাংবাদিকদের জানান, পরিক্ষা খুব ভালো দিয়ে ছিলাম।ইংরেজি পরীক্ষা একটু ভয় ছিল আল্লার রহমতে আমার আশা পূর্ন করেছেন। পরিক্ষায় অংশ নেওয়া সহপাঠি ও শিক্ষকদের কাছ থেকে সে সব ধরনের সহযোগীতা পেয়েছিলাম। পড়াশনা শেষে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আছে বলে জানান পাপিয়া। পাপিয়া আরো বলেন, আমার মত শারীরিক প্রতিবন্ধি যারা তাদের নিয়ে ভর্বিষ্যতে কিছু করতে চাই । জেলায় এবার মোট এসএসসি পরিক্ষার্থী ৮ হাজার ৮শ জন ছিল।
পাপিয়ার পিতা পিয়ারুল ইসলাম জানান, জন্মের পর ২ বছর বয়সে পাপিয়া দুই হাতের শক্তি হারিয়ে ফেলে। তারপরও থেকে পা দিয়ে লেখা চর্চা করে সে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পা দিয়েই সমস্ত কাজ করে পাপিয়া।
ঝাউবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক মিনারুল ইমলাম জানান.পাপিয়ার রেজাল্ট দেখে আমরা খুশি হয়েছি।এবার পরীক্ষার রেজাল্ট তেমন ভাল হয়নি তবে পাপিয়া ভাল রেজাল্ট করেছে তার চলার পথে সর্ব মঙ্গল কামনা করি।তার আশা যেন আল্লাহ তাওয়ালা পূরন করে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ সাংবাদিকদের জানান,পাপিয়ার ইচ্ছাশক্তি ও পড়াশনার অদম্য আকাংখার কারনে আজ সে এত প্রতিকুলতার মধ্য এই যায়গায় আসতে পেরেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে। এছাড়া পাপিয়া যতদিন তার পড়াশনা চালিয়ে যাবে ততদিন জেলা প্রশাসন তার পড়াশনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সহযোগীতা করবে।

Top