আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পুলিশি হয়রানিতে এলাকাছাড়া সাংবাদিক, এবার ক্রসফায়ারের হুমকি

সময় : ৬:৫৪ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২৬ আগস্ট, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানা পুলিশের অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্ণীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক মু: মনিরুজ্জামান মুনিরকে ত্রুসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়েছে পুলিশ। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ঝালকাঠী জেলার আলোচিত সাংবাদিক মুনিরুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেন, নলছিটি থানার ওসি সুলতান মাহমুদ কর্তৃক ৮ম শ্রেণীর দুই ছ্ত্রাকে সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গারদ ঘরে অভুক্ত অবস্থায় আটক রেখে পিতা মাতার সামনে বেধড়ক পেটানো, ভূয়া ওয়ারেন্টের কাগজ তৈরী করে নিরিহ লোকজনকে থানায় আটক করে এনে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেয়া, আদালতের জামিন থাকা ব্যক্তিকে পুনরায় আটক করে মোটা অংকের অর্থ আদায়, জামায়াতের নামে নিরিহ লোকজনকে ধরে এনে অর্থ আদায়, কথিত বাল্য বিয়ের নামে বাসরঘর থেকে মহিলা পুলিশ ছাড়াই গভীর রাতে বর-কনে ও কনের মাকে থানায় ধরে এনে চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায়, হ্যান্ডকাপ পরিহিত আসামী পলায়নের ঘটনায় নিরিহ লোকজনকে থানায় ধরে আনার প্রেক্ষিতে জনতা কর্তৃক থানা ঘেরাও, জাতীয় গণহত্যা দিবসে ওসি প্রধান অতিথি হিসেবে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আনন্দ ভোজনে নাচ-গান ও লটারী করাসহ অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতির ব্যাপারে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ এবং নিজে বাদী হয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিএন্ডপিএস শাখায় অভিযোগ দায়ের করায় পুলিশ কর্তৃক নেয়া জনগণের ঘুষের টাকা ফেরত প্রদান করে। এতে নলছিটি থানা পুলিশ মুনির সাংবাদিকের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল।

সাংবাদিক মুনির নলছিটি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়রের ভাতিজা শীর্ষ সন্ত্রাসী রেজাউল চৌধুরী কর্তৃক বোরখা পরিহিত স্কুল ছাত্রীর বোরখার মুখোশ খুলতে কান ও পা ধরাণো এবং শ্লীলতাহাণীর ভিডিও পত্রিকায় প্রকাশ ও ফেসবুকে প্রচার করে। বিষয়টি ভাইরাল হলে র‌্যাব-৮ রেজাউল ও তার বাহিনীকে আটকের জন্য নলছিটিতে অভিযান চালায়। বিষয় জানতে পেরে সন্ত্রাসী রেজাউলের বিভিন্ন বাণিজ্যের সাথে জড়িত ওসি সুলতান তাকে আটক করে থানায় এনে রাতেই ছেড়ে দেয়। গত ৬ মার্চ রাতে সন্ত্রাসী রেজাউল তার ফেসবুক আইডি থেকে মুনির সাংবাদিকের বিরুদ্বে আজেবাজে মন্তব্য করে পোষ্ট দেয় এবং ৭ মার্চ সাংবাদিক মুনিরসহ আরো চার সাংবাদিকে বিরুদ্বে ঝালকাঠী আদালতে চাদাবাজির মামলা দায়ের করে। ঝালকাঠী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য সন্ত্রাসী রেজাউলকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন এবং ম্যাজিষ্ট্রেট এইচ এম কবির হোসেন বাদী হয়ে রেজাউলের বিরুদ্বে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় নলছিটি পৌর মেয়রকে জড়িয়ে ইলেকট্্রনিক ও প্রিন্ট্র মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার হলে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র সাংবাদিক মুনিরের উপর ক্ষুব্ধ হয়।

নলছিটি কতিপয় নামধারী সংবাদকর্মী কর্তৃক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্ণীতি করায় মুনির সাংবাদিক তা প্রকাশ করায় কতিপয় নামধারী সংবাদকর্মীরা ক্ষুব্ধ ছিল।

নলছিটি হাসপাতালের আয়া হালিমা কর্তৃক ক্লিনিক পরিচালনা ও হাসপাতালে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক মুনিরের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। গত ৮/৪/১৭ তারিখ সকাল ১১ ঘটিকায় নলছিটি হাসপাতালের প্রায় সকল কক্ষে তালা ঝুলানো, ময়লা আবর্জনায় ভরপুর, ২/৩ বছর পরিচ্ছন্ন না করায় পাবলিকের বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগীর সচিত্র প্রতিবেদন মুনির সাংবাদিক তার ফেইসবুক আইডি থেকে পোষ্ট করলে তা ভাইরাল হয়। পরদিন নলছিটি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা কিছুটা দূরীভূত হয়্। কিন্তু দুর্ণীতিপরায়ণ রাজনৈতিক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি, কতিপয় কথিত সংবাদকর্মী, দুর্ণীতিপরায়ন পুলিশ একত্রিত হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে নলছিটি থানায় ৯/৪/১৭ তারিখ একটি অভিযোগ দায়ের করে।দায়েরকৃত অভিযোগে সাংবাদিক মনিরুজ্জামান(মনির) উল্লেখ করা হলেও পিতা,মাতা ও ঠিকানা দেয়নি। নলছিটি থানা পুলিশ তদন্ত ছাড়াই এজাহার গ্রহণ করে। এজাহারেও কোন ঠিকানা নাই। কিন্তু পুলিশ ৯/৪/১৭ তারিখ রাতেই মুনির সাংবাদিককে আটকের জন্য তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পরদিন ১০/৪/১৭ তারিখ রাতেও পুলিশ বরিশালে আমাদের বরিশাল পত্রিকা অফিসে সাংবাদিক মুনিরকে আটকের অভিযান চালালেও দুদিনই অলৌকীকভাবে আটক থেকে রক্ষা পান সাংবাদিক মুনির। সাংবাদিক মুনির জানিয়েছেন, পুলিশ তাকে আটক করতে পারলে সাংবাদিকতা শেখাবে, ত্রুসফায়রে হত্যা করবে কিম্বা চিরতরে পঙ্গু করবে বলে আগে থেকেই হুমকি দিয়ে আসছে।

ওই ঘটনার পর থেকেই সাংবাদিক মুনির পুলিশী হয়রানীর ভয়ে প্রায় পাঁচ মাস যাবত পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পাঁচ মাস অতিবাহিত হতে চললেও পুলিশ ওই মিথ্যা মামলার কোন রিপোর্ট দিচ্ছে না। এদিকে সাংবাদিক মুনির জাতীয় মানবাধিকার কমিশন,প্রেস কাউন্সিলসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top