আজ : মঙ্গলবার, ২৭শে জুন, ২০১৭ ইং | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

প্রথম অটোমেটিক ব্যাগিং প্ল্যান্ট উদ্বোধন ২৪ মার্চ

সময় : ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২১ মার্চ, ২০১৭


চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকতা পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ প্রথমবারের মতো দেশের এই শীর্ষ বন্দরে চালু হচ্ছে নিউমেটিক কনভেয়ার বেল্ট অ্যান্ড অটোমেটিক ব্যাগিং প্ল্যান্ট। আগামী ২৪ মার্চ নৌপরিবহন মন্ত্রী এম শাহাজান খান বহুল প্রত্যাশিত এই প্ল্যান্টের উদ্বোধন করবেন। সিস্টেমটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা অনেকগুণ বাড়বে বলে মনে করছেন বন্দর কর্মকর্তা ও ব্যবহারকারীরা।

চট্টগ্রাম বন্দরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়ছে। আমরা বিশ্বের বন্দরগুলোর মধ্যে ক্রমাগত অগ্রসর হচ্ছি। একশ’ বন্দরের তালিকায় গতবছর আমরা ৮৬তম হয়েছিলাম। শুধু এই কনভেয়ার বেল্ট স্থাপন এবং খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং এ আধুনিকায়নের ফলে এবছর আমরা আরো বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবো।’

বন্দরের কর্মকর্তারা বলেন, সিস্টেমটি চালু হলে জাহাজের হ্যাজের ভিতর থেকে কনভেয়ার বেল্ট খোলা পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপরে তুলে নিয়ে ব্যাগিং প্ল্যান্টে দেবে। এই প্ল্যান্টে ওজন শেষে তা নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্যাগিং করে ট্রাকে তুলে দেয়া হবে। আগে জাহাজের হ্যাজের ভিতরে শ্রমিক গিয়ে গায়েগতরে খেটে ১২ দিনে যে কাজ করতো এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে মাত্র তিনদিনে সেই একই পরিমাণ পণ্য হ্যান্ডলিং করা যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত লাখ লাখ টন খোলা পণ্য খালাস হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই জাহাজগুলো জেটিতে নোঙর করার পর সংশ্লিষ্ট বার্থের শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। তারা ম্যানুয়েলি জাহাজের হ্যাজের ভিতরে নেমে সেখানে চাল, গম, সার, চিনি, ছোলা ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য বস্তা ভর্তি করেন। ওই বস্তা উপরে তোলা হয়। তারপর ওখানকার গুদামে সংরক্ষণ করা হয় অথবা সরাসরি ট্রাকে পরিবহণ করা হয়।

পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিশ্রমের, সময়সাপেক্ষ এবং কিছুটা মানবেতরও। এছাড়া গম-সারসহ বিভিন্ন পণ্য জাহাজের খোপের ভিতরে ঢুকে হাতে বস্তা ভর্তি করতে গিয়ে শ্রমিকদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে গত একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এভাবে পণ্য হ্যান্ডলিং হলেও বিশ্বের উন্নত বন্দরগুলো বহু আগেই নিউমেটিক কনভেয়ার অ্যান্ড অটোমেটিক ব্যাগিং সিস্টেমে পণ্য হ্যান্ডলিং করতো। বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকার বন্দরগুলোতে ম্যানুয়েলি খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয় না।

বেলজিয়াম থেকে আমদানিকৃত প্ল্যান্টটি ইতিমধ্যে স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বন্দরের এনসিটি-৫ বার্থে প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হয়েছে। এটি স্থানান্তরযোগ্য বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বার্থিংয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নয়া এই প্ল্যান্টের ফলে আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই জাহাজ জেটিতে নোঙর করার পর জাহাজের হ্যাজের ভিতরে নিউমেটিক কনভেয়ার বেল্ট পাঠিয়ে দেয়া হবে। ওই বেল্টের সাহায্যে জাহাজের হ্যাজ থেকে গম তুলে নিয়ে আসা হবে ব্যাগিং প্ল্যান্টে। সেখানে ওজন করে ব্যাগ ভর্তি করে মুখ সেলাই করা হবে। তারপর সরাসরি ব্যাগ তুলে দেয়া হবে ট্রাকে। জাহাজ থেকে সরাসরি ট্রাকে ব্যাগ বোঝাই করতে কয়েক মিনিট সময়ের প্রয়োজন হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ৩৫/৪০ হাজার টন খোলা পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ থেকে ম্যানুয়েলি খালাস করতে ১২ দিনের মতো সময় লাগে। এখন নিউমেটিক কনভেয়ার এন্ড অটোমেটিক ব্যাগিং প্ল্যান্টের মাধ্যমে মাত্র তিনদিনে পুরো জাহাজের পণ্য ট্রাকে তুলে দেয়া সম্ভব হবে। আগে যেখানে শত শত লোক লাগতো এখন সেখানে মাত্র কয়েকজন মানুষ মেশিন এবং কম্পিউটার অপারেট করবে। ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই প্ল্যান্টের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের খোলা পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

এই লক্ষ্যে সরকারি খাতে রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত গমবাহী জাহাজ এমভি জিডিএফ সুয়েজ গ্যান্টকে জরুরি ভিত্তিতে এনসিটি-৫ নম্বর বার্থে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

Top