আজ : মঙ্গলবার, ২৭শে জুন, ২০১৭ ইং | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে ঘরবাড়ী ভাংচুর, লুটপাট এক নারীসহ আটক দুই

সময় : ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২২ মার্চ, ২০১৭


প্লাবন গুপ্ত শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার কানাহার খালাসীপাড়া গ্রামে গত মঙ্গলবার (২১মার্চ)

সন্ধ্যা ৬টায় এক অসহায় দিনমজুর পরিবারের ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাটসহ মারপিটের ঘটনা

ঘটেছে। এতে গৃহবধূ খাদিজা বেগম (৩৫) ও লতিফা আক্তার লিপি (২৯) আহত হন। এদের মধ্যে

লিপিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ওই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ওই রাতেই একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত

পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে শারমিন আক্তার খুশি (২৫) ও ছেলে ফারুক হোসেনকে

(৩৫) আটক করেছে।

হামলার শিকার গৃহবধূ খাদিজা বেগম বলেন, প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য

জাহাঙ্গীর আলমের সাথে এক শতাংশ ভিটেমাটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ

চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে ওই দিন জাহাঙ্গীর আলমের (৫৫) নেতৃত্বে তার স্ত্রী ফাতেমা

বেগম (৫০), ছেলে ফারুক হোসেন (৩৫), মেয়ে মনিরা আক্তার বেবী (৩০), পারভিন আক্তার (৩২),

শারমিন আক্তার খুশি (২৫), ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী মনি আক্তার (২৫) ও উপজেলার রামচন্দ্রপুর শিয়ালী

ডাঙ্গা গ্রামের ফুলচাঁন মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৫)সহ অজ্ঞাত ৭/৮জনের একটি দল

আস্মিকভাবে তার ছোট বোন লতিফা আক্তার লিপি (২৯) কে রেল ঘুটটি সংলগ্ন টেইলারিং

দোকানের সামনে বেধড়ক মারপিট করে। এর পরপরই ওইসব সন্ত্রাসীরা তার (খাদিজার) বাড়িতে

হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাটসহ তাকেও মারপিট করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা এলাকায়

ত্রাসের সৃষ্টি করায় প্রতিবেশিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের

করা হয়েছে। যার মামলা নং ২৬ তারিখ ২১/০৩/২০১৭ইং। জমিজমা ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর

আলম তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম, ছেলে ফারুক হোসেন, মেয়ে মনিরা আক্তার বেবী, পারভিন আক্তার

ও শারমিন আক্তার খুশি পৃথক পৃথক বাদি হয়ে তাদের পরিবারের সকল নারী-পুরুষসহ প্রতিবেশি

প্রায় সকল নারী ও পুরুষের নামে অন্তত ১৬ থেকে ১৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে দীর্ঘদিন

থেকে হয়রানী করে আসছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রতিবেশী নারী ও পুরুষা বলেন, জাহাঙ্গীর আলম

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য এবং তার ছেলে পুলিশে চাকরি করার ক্ষমতায় দীর্ঘদিন থেকে খাদিজা

বেগমের পরিবারের সাথে কারণে অকারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন। খাদিজা

বেগমদের পক্ষে কথা বলায় গ্রামের ছয়টি পরিবারের কমবেশি সকল নারী ও পুরুষকেই মিথ্যা

মামলার আসামী হয়ে কোট-কাচারীর বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। হয়রানীর ভয়ে জাহাঙ্গীর আলমের

নির্যাতন ও হয়রানীর ভয়ে কেউই প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি কলেজ-

বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া এবং বিবাহিতা মেয়েদেরকে বাড়িতে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন

অভিভাবকরা। কারণ বাড়িতে আসলেই তাদেরকেও মিথ্যা মামলার আসামী করে হয়রানী করবেন

জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবারের লোকজন।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোতাহার হোসেন বলেন, মিমাংসার জন্য মেয়রসহ

একাধিকবার পৌরসভা ও গ্রামে বিরোধ মিমাংসার শালিস করা হয়েছে। কিন্তু জাহাঙ্গীর

আলম সেটি না মেনে গ্রামবাসীদের নামে অন্তত দেড় ডজন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে

আসছেন। মিথ্যা মামলাগুলোর প্রায় সবগুলোই চার্জসীট দিয়েছে পুলিশের তদন্তকারি

কর্মকর্তারা।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বাবুল বলেন, অসহায়

পরিবারটির ওপর অবসর পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের হয়রানী ও নির্যাতনের বিষয়টি মেনে

নেয়া যায় না। ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাটসহ মারপিট ঘটনায় থানায় মামলা নেয়ার জন্য ওসিকে

বলা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়কেও জানানো

হয়েছে।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই এসরাকুল ইসলাম বলেন, মামলা সূত্র ধরে ওই রাতেই

জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ফারুক হোসেন ও মেয়ে শারমিন আক্তার খুশিকে আটক করা হয়েছে।

অন্যদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাসিম হাবীব বলেন, ঘরবাড়ি ভাংচুর,

লুটপাটসহ মারপিট ঘটনায় ইতোমধ্যেই দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতারের

চেষ্টা চলছে।

Top