আজ : বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং | ২রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বরিশালে দুর্বল আ’লীগের জন্য বিশাল ধাক্কা ইউএনও বিতর্কের ঘানি টানতে হতে পারে সাদিক আবদুল্লাহকে!

সময় : ৫:০৮ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৩ আগস্ট, ২০১৭


‘বরিশালের মাটি, বিএনপির ঘাটি’Ñ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত এ উক্তিটি ২০১৩ সালে সত্য রূপে স্বীকৃতি পায় দেশব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে খ্যাতি পাওয়া সাবেক জননন্দিত মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরন ১৮ হাজার ভোটে বিএনপি প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের কাছে পরাজিত হওয়ার পর। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন, বিগত ৫ বছরের

উন্নয়নের পরিপূর্ণ ফুলঝুড়িসহ দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জনপ্রিয়তার চূড়ায় অবস্থান করেও শওকত হোসেন হিরন পরাজয় বরণ করেছিলেন বিএনপির রাজনৈতিক কারিশমার কাছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যকার সেই কারিশমা প্রদর্শনের সময় ফের এসে গেছে। এখনও প্রায় বছর খানেক বাকি থাকলেও ভোট প্রার্থনা, প্রচারনা এবং দলীয় মনোনয়ন নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে আরো আগে থেকেই। বরিশালে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে একাধিক নেতার নামে কানাঘুষা চললেও ক্ষমতাসীন আ’লীগের মনোনয়ন প্রশ্নে মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র একক নাম ধ্বনিত হচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক ইউএনও তারিক সালমনকে নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে সাদিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যত এবং মেয়র হওয়ার আশায় ভাটা পড়ার উপক্রম হয়েছে। বরিশালে দুর্বল আ’লীগকে আঘাত করার গুরুতর ইস্যু তৈরী হয়ে গেছে বিএনপির জন্য। সূত্র মতে, বরিশালে ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির মামলা এবং জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচিত ঘটনাটির মূলে স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের আ’লীগ নেতারাই ইন্ধনদাতা হিসেবে প্রতীয়মান হয়। তবে দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে টু-শব্দটি না করায় স্থানীয় আ’লীগের রাজনীতিতে এর অশুভ ও অমঙ্গলজনক প্রভাবের আশংকা দেখা দিয়েছে।

 

সাবেক বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস, সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান এবং ভুক্তভোগী ইউএনও তারিক সালমনের বক্তব্য পর্যালোচনায় স্পষ্ট যে, আ’লীগ নেতার ছেলেকে অসদাচরণের জন্য কারাদন্ডাদেশ দেওয়ায় স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের বেশ জোরালো কু-নজর ছিল ইউএনও ওপর। সেই রেশ ধরেই তারিক সালমনকে হতে হয় বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির ভিত্তিহীন মানহানী মামলার আসামি। বিতর্কের ঘানি ঘাড় থেকে নামাতে মামলাকারী মহানগর আ’লীগের ধর্ম সম্পাদক জেলা আইনজীবী সমিতির

সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার এবং দুই জেলা প্রশাসক ও আদালতের বিচারককে প্রত্যাহার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বৃহদাকার এ অঘটনের অন্তরালের ক্ষমতাসীন নেতারা রয়ে গেছেন চাপমুক্ত। আর এখান থেকেই আগামি সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জন্য দুশ্চিন্তা বাসা বেঁধেছে। দল চাপমুক্ত রাখলেও ইউএনও’র সাথে ঘটে যাওয়া অবিচার সাধারণ মানুষ সহজে ভুলবে বলে মনে করছে কেউই। পাশাপাশি যাদের হাতের কলকাঠির নাড়ানাড়িতে এ অঘটন ঘটেছে বলে খোদ ভুক্তভোগী ইউএনও তারিক সালমন ইঙ্গিত দিয়েছেন সেই স্থানীয় আ’লীগের অভিভাবক, জেলা আ’লীগ সভাপতি, স্থানীয় সরকার বিষয়ক

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সন্তান সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহরই সিটি মেয়রের মনোনয়ন প্রাপ্তির ঢের সম্ভাবনা। ক্ষমতাসীন দল হলেও বরিশালে বিএনপির কাছে আ’লীগের দুর্বল অবস্থানের মাঝে ইউএনও তারিক সালমনের সমালোচিত বিষয়টি মেয়র প্রার্থীর জন্য ক্ষতিকরই হবে বলে দলীয় নেতারাই মন্তব্য করেছেন। নেতারা বলছেন, এই বিতর্ক বরিশালে আ’লীগের অবস্থান আরো বেশিমাত্রায় নড়বড়ে করে দিয়েছে। এ ঘটনা স্থানীয় আ’লীগকে আরো বেশি দুর্বল ও বিতর্কিত করেছে। যাদের প্রভাব ও কারিশমার ওপর ভর করে সাদিকের মেয়র হওয়ার স্বপ্ন পূরণের নির্ভরতা, তারাই এখন বিতর্কের কান্ডারী হয়েছেন। যদিও অগোচরে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনার অন্তরালের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা কিংবা কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে এ ঘটনা বিএনপির কারিশমায় রসদের যোগান দেবে বলে ধারণা নেতাদের।

অপরদিকে শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর সাদিক আবদুল্লাহ দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের আগলে রেখে জনপ্রিয়তার উচ্চতায় অবস্থান করলেও ২০১৩ সালের নির্বাচন থেকে অবশ্যই তার শিক্ষনীয় কিছু বিষয় আছে বলে খোদ দলীয় নেতারাই মনে করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওইসব নেতাদের মন্তব্য, ক্ষমতাসীন দল হওয়ায় আ’লীগ নেতা সাদিকের পক্ষে জনপ্রিয়তার জোয়ার দেখা গেলেও ভোটের রাজনীতির হিসাব ভিন্ন। কারণ সাদিকের আশপাশে এখন যাদের দেখা যাচ্ছে, এইসব নেতাদের কারণেই শওকত হোসেন হিরনকে পরাজয় বরণ করে কপাল চাপড়াতে হয়েছিল।

Top