আজ : বৃহস্পতিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৯ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বরিশালে শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্তিতে কোটি টাকার বাণিজ্য ॥ আদালতে মামলা

সময় : ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৪ মার্চ, ২০১৭


বরিশাল:কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন জাতীয় করন করা স্কুলে শিক্ষকদের নামের তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার নয়টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (২০০৯ সালে জাতীয়করন করা) ২৩জন শিক্ষককে জাতীয়করণের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিতে এক কোটি ১০লাখ টাকা উৎকোচ নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্রমতে, এরমধ্যে ৭০ লাখ টাকা স্থানীয় সাংসদের ভাই উপজেলার পাতারহাট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মনোজ নাথের রূপালী ব্যাংকের হিসাব নম্বরে জমা রয়েছে। অভিযোগে জানা গেছে, বাকি ৪০ লাখ টাকা মনোজ নাথ থেকে শুরু করে গতবছর (২০১৬ সালে) ইউএনও, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, নিয়োগ কমিটির সভাপতি এবং যেসব স্কুলে নিয়োগ দেখানো হয়েছে ওইসব স্কুলের প্রধানশিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, উপজেলার চিলমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর রতনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ আন্ধারমানিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ভংগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ঘোড়াঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ সুলতানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য আন্দারমানিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম চাঁদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর আজিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, উল্লেখিত দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনায় উপজেলার বিদ্যান্দনপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সঞ্জয় চন্দ্র বাদী হয়ে গত ৫ মার্চ বরিশালের স্পেশাল জজ আদালতে শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৪১ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আদালত মামলাটি দুদককে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩০ জুন সরকারের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষক জাতীয়করণে নামের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়। ওই আদেশে ২০০৯ সালের ১০ জুন এবং ৩০ জুলাই এর পূর্বে যেসব নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন কিন্তু এমপিওভুক্ত নয় তাদের তথ্যাদি (প্রমাণসহ) তালিকা দেয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন আহম্মেদকে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই বছরের ৫ জুলাই জেলা শিক্ষা অফিসার উপজেলা শিক্ষা অফিসার পুতুল রানী ম-লকে তালিকা দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ৯ আগস্ট পুতুল রানী ওই নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩জন ভুয়া শিক্ষকের নামের তালিকা তৈরি করেন যারা আদৌ ওই সকল স্কুলে কর্মরত ছিলেন না এবং এখনও নেই। এরমধ্যে ভংগা গ্রামের মৃত মোসাররফ হোসেন মুন্সির পুত্র মনির হোসেন, পাতারহাট মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মোশাররফ হোসেনের বড় মেয়ে মিমি ও তার জামাতা রয়েছে।
জাতীয়করণে শিক্ষক তালিকাভূক্ত উৎকোচ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে স্থানীয় সাংসদের ভাই মনোজ নাথ এবং তৎকালীন নিয়োগ কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম ভুলু জানান, সঞ্জয় চন্দ্রকে কাজীরহাট থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ না দেয়ায় সে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।

Top