আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বিএনপির গলার কাঁটা জামায়াত

সময় : ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৮ মে, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় বাধা জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি সরকারেরও রয়েছে নানামুখী চাপ। ফলে জোট সম্প্রসারণে অনেক দূর এগিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। সিপিবি, গণফোরাম, জেএসডি, বাসদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্যসহ বেশকিছু বাম ও প্রগতিশীল দল কেবল জামায়াতের কারণে বিএনপি জোটে যোগ দিতে চাইছে না। এমনকি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারাও একই কারণে পিছুটান দিয়েছে। জোট সম্প্রসারণ কিংবা যুগপৎ আন্দোলন প্রশ্নে বিএনপিকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে বলেছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের বিএনপি জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে এই দলগুলো জোটে না এলেও ‘সহায়ক সরকারের অধীনে’ অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালনে একমত পোষণ করেছে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। রোজার ঈদের পর যুগপৎ কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত দুই মাসে এরশাদের জাতীয় পার্টি আর আওয়ামী লীগ ছাড়া বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বেশির ভাগ দলই জামায়াত সম্পর্কে বিএনপির সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে। তবে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘সহায়ক সরকারের’ দাবি আদায়ের বিষয়ে দলগুলো একমত পোষণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল আর উল্লিখিত রাজনৈতিক দলগুলোর তাগিদেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১০ মে রাজধানীর একটি হোটেলে দলের ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা করেছেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। তার পরও জোট সম্প্রসারণের বাধা দূর করতে পারেনি দলটি। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গত সপ্তাহে এক সেমিনারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে প্রকাশ্যেই জামায়াতের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন। জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোটের বিষয়টি স্রেফ রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া অন্য কিছু নয়। তবে কোনো কোনো নেতা হেফাজতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোটের জোট বাঁধার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার পরদিনই আওয়ামী লীগ তাদের ‘বগলদাবা’ করবে। জোট গঠনের ব্যাপারে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, তৃতীয় ধারার একটি জোট গঠনের বিষয়ে তারা অনেক আগে যে উদ্যোগটি নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি এখনো আশাবাদী। তার পরও রাজনীতিতে যেহেতু শেষ কথা বলে কিছু নেই তাই নির্বাচনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত রাজনৈতিক মেরুকরণ কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মাহমুদুর রহমান মান্না এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা আর গণতন্ত্রে উত্তরণের লড়াইয়ে আমরা একই সঙ্গে অনেক দূর হাঁটতেও পারি। তবে অনেক বিষয়ে বিএনপির অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। সেগুলো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনো জোট নয়। ’ জানা গেছে, রাজপথের আন্দোলন, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর একসঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কিছু হয়নি। এ ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জোট অবশ্যই সম্প্রসারণ করা হবে। সমমনা ও দেশপ্রেমিক সব দলের জন্যই আমাদের দরজা উন্মুক্ত। ’ এ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো কাজ করছি। সময়মতোই সবকিছু জানতে পারবেন। ’ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ক্যাপ্টেন সুজাউদ্দিন (অব.) এবং বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার দায়িত্ব পেয়েছেন। জানা যায়, বিএনপি নেতারা অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় দুটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। এর একটি বিএনপিকে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তথা ভিশন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া এবং অন্যটি জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রাখা-না রাখার বিষয়টি পরিষ্কার করা।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top