আজ : মঙ্গলবার, ২৭শে জুন, ২০১৭ ইং | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন

সময় : ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২২ মার্চ, ২০১৭


২০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী-এমপি, ১০০ আসনে নতুন মুখ, সব স্থানেই আছে বিকল্প, দল পুনর্গঠনের সঙ্গে খোঁজা হচ্ছে প্রার্থী, তৃণমূল-বিচ্ছিন্নদের প্রার্থী নয়একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। অন্তত ২০০ আসনে প্রার্থী হিসেবে সাবেক মন্ত্রী এমপিরা নির্বাচন করার সম্ভাবনাই বেশি। বাকি ১০০ আসনে নতুন মুখ খোঁজা হচ্ছে। বিতর্কিত সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হতে পারে। বার্ধক্যের কারণেও বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতার আসনে নতুন মুখ আসবে। সে ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতার পাশাপাশি নারীদের এসব আসনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে সব আসনেই একাধিক বিকল্প প্রার্থী বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আসনপ্রতি তিন-চার জন প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। নেতাদের এলাকায় সময় দিতে বলেছেন। তৃণমূলের অনেক নেতা গুলশান অফিসে বার বার আসা-যাওয়া করায় তিনি তাদের ধমকও দিয়েছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলেছেন। জেলা পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা নেতাদেরও কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য

প্রার্থীকে গুরুত্ব দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। জেলা কমিটি করার ক্ষেত্রে বিএনপি-প্রধানের নির্দেশনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। তাই সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। বিএনপির মতো সবচেয়ে বড় দলে একাধিক প্রার্থী আছে, থাকবে। নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা থাকবে— এটাই গণতন্ত্রের শোভা। নির্বাচন যখনই হোক, সরকারকে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে এখন গণতন্ত্র অপরিহার্য। জনগণের জবাবদিহিতামূলক সরকার জরুরি। এজন্যই ক্ষমতাসীনদের উচিত, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া। ’ বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে সরকার নির্বাচন দিতে পারে। একই সঙ্গে দলের বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতাকেও নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখতে সাজা দেওয়া হতে পারে। এরপর তড়িঘড়ি নির্বাচন দেওয়া হতে পারে। এজন্যই সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নেতা-কর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আগাম নির্বাচনও দেওয়া হতে পারে— অনুমান করছেন বিএনপি নেতারা। নেতাদের কেউ কেউ এও বলছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে কোনো নির্বাচনেই যাবে না বিএনপি। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেও নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলছেন তারা। নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর। জানা যায়, এরই মধ্যে তৃণমূল বিএনপিতে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাবেক এমপি-মন্ত্রীর পাশাপাশি অনেক তরুণ নেতাও দলের সবুজ সংকেত পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও নিজ নিজ নেতার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকেই গুলশান ও নয়াপল্টন কার্যালয়ে শোডাউন দিচ্ছেন। দলের প্রধান বেগম জিয়া, সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি কেউ কেউ দলীয় টিকিট পেতে লন্ডনেও যোগাযোগ করছেন। ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিলেও কেউ প্রকাশ্যে মাঠে নামেননি। জানা যায়, নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি নিয়ে মাঠে থাকবে বিএনপি। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে শিগগিরই একটি রূপরেখাও দেবেন বেগম খালেদা জিয়া। কাজও প্রায় শেষ। সংবিধানের মধ্য থেকে দেওয়া এ প্রস্তাবে বেশকিছু বিকল্পও থাকবে। তবে দাবি-দাওয়া যাই থাকুক, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যাবে বিএনপি। তৃণমূল নেতা-কর্মীদেরও সেভাবেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ‘সহায়ক’ সরকারের দাবিতে থাকা বিএনপি নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতেও পড়েছে। পরপর দুটি সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে নিবন্ধন বাতিল হবে— নির্বাচনী এমন বিধি নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে নানা আলোচনা চলছে। কোনো কারণে নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী অধিকাংশ দলেরই নিবন্ধন বাতিলের শঙ্কা রয়েছে। অবশ্য বিএনপি বিষয়টি পাত্তা না দিয়ে বলছে, এটা আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক অপকৌশল। এগুলো শেষ পর্যন্ত ধোপে টিকবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচনে না গেলে দলের নিবন্ধন থাকবে না— বিএনপিকে এ ধরনের জুজুর ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন-সংগ্রামেরও বিকল্প নেই। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর বাকি থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির করা সম্ভাব্য তালিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কারা ছিলেন, তা যাচাই-বাছাই হচ্ছে। এ ছাড়া বিগত আন্দোলনে কার কী ভূমিকা, কার কত মামলা, ত্যাগ, দলের প্রতি আনুগত্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিগত ইমেজ সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের প্রার্থী না করার দিকনির্দেশনা রয়েছে হাইকমান্ডের। যারা সারা বছরই ঢাকায় থাকেন, দুঃসময়ে নেতাদের পাশে থাকেন তাদেরও ভাগ্যবরণ করতে হবে। প্রার্থী নির্বাচনে বিগত আন্দোলনসহ সাধারণ মানুষের কাছে কার কতটুকু জনপ্রিয়তা— সে বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দল পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত বিএনপি নেতারা জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩টি জেলা কমিটি দেওয়া হয়েছে। অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও জাসাসের কমিটি দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে দল গুছিয়ে আন্দোলনের জন্যও প্রস্তুত রাখা হবে।

Top