আজ : শনিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বিটেকে নিহত শিক্ষার্থীর দাফন সম্পন্ন : গ্রেফতার দুই

সময় : ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ০৬ জুন, ২০১৭


টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বিটেক) ছাত্রদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত মো. মাসুম সিকদার সরকারের (২২) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৫ জুন) বাদ মাগরিব জানাজা ও রাতে তার গ্রামের বাড়ি কালিহাতীর বাড্ডা-কোকডহরা এলাকায় দাফন করা হয়।

এ সময় টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, কালিহাতী থানা ইনচার্জ মীর মোশাররফ হোসেন, ওসি (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিটেকের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় আহত আরেক শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল ইসলামের বাবা বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় শনিবার (৩ জুন) মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৬। মামলায় খোকন-মামুন গ্রুপের ১৩ জনকে আসামি ও ৪৫ জন অজ্ঞাতনামার কথা উল্লেখ করা হয়।

এদিকে পুলিশ দুই আসামিকে (সাব্বির -২য় বর্ষ ও ছানোয়ার-১ম বর্ষ) রোববার (৪ জুন) টাঙ্গাইল শহর ও আশেপাশের এলাকা থেকে আটক করেছে। কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানাজার সময় সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী বলেন, মাসুমকে তো আর আমাদের মাঝে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ওর হত্যাকারী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ও যত বড় শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের বিচার করা হবে। এ সময় তিনি মাসুমের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং মাসুমের ছোট ভাই-বোনের লেখাপড়ার সব দায়-দায়িত্ব নেন।

ওসি (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আগামীকাল (৬ জুন) তাদেরকে টাঙ্গাইল কোর্টে চালান করা হবে। মামলায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ইন্ধনদাতাসহ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাকি আসামিদেরও আটক করা হবে।

এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থী জানায়, মাসুমের বাবা মো. হজরত আলী। পেশায় কৃষিকাজ করেন। মা সাজেদা বেগম। মাসুমরা দুই ভাই ও দুই বোন। সবার বড় মাসুম। ছোট ভাই শাকিল আহমেদ কোকডহরা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পাস করেছে।

উল্লেখ্য, বিটেকের ১ম বর্ষের ছাত্ররা সোসাইটি অব বিটেক স্টুডেন্টস (এসবিএস) নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার জন্য শুক্রবার (২ জুন) একটি কমিটি গঠন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন শনিবার (৩ জুন) দুপুরে ১ম ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ ২য় বর্ষের স্টুডেন্টস ইউনিটি অব বিটেক (সাবটেক) এর অনুসারী খোকন-মামুন গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র রড, হকিস্টিক, লাঠি নিয়ে ক্যাম্পাসের বিপরীতে গফুর মেসে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।

এতে এসবিএস কমিটির সভাপতি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুম সিকদার মারাত্নক জখম হয়। পরে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা আশরাফুল ও মাসুমকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আর মাসুমের অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে প্রেরণ করলে রোববার (৪ জুন) বেলা ৩টার দিকে মাসুম মারা যায়।

এদিকে সময় স্বল্পতা ও লাশের অবস্থা ভালো না হওয়ায় আজ (৫ জুন) বিটেক ক্যাম্পাসে মাসুমের জানাজা করা হয়নি। নিজ গ্রামে জানাজা সম্পন্ন হয়। মাসুমের অকাল মৃত্যুতে বিটেক ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতার জন্য শিক্ষার্থীদের অনেকেই হল ত্যাগ করছেন। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে ক্যাম্পাস ও হোস্টেল বন্ধ করা হয়নি। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Top