আজ : শনিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করুন: মালয়েশিয়ায় মিলন

সময় : ৭:৪৬ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২৬ এপ্রিল, ২০১৭


মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও উত্তরণ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রবাসে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব এবং শিক্ষাঙ্গনকে নকল ও সন্ত্রাসমুক্ত করে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

সোমবার বিকেলে কুয়ালালামপুর ডি-পালমা হোটেলের বলরুমে বাংলাদেশী ছাত্র কাউন্সিলের উদ্যোগে আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। ফয়সাল খানের উপস্থাপনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. তোফায়েল আহমদ তালুকদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এহছানুল হক মিলন বলেন, একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্মত লেখাপড়া হতো। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়তে যেত। ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক হোস্টেলগুলো সে সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে। আর এখন বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশে পড়তে যাচ্ছে; মেধার বিকাশ ঘটাতে। আমাদের দেশে কি ভালো শিক্ষাব্যবস্থা নেই?

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে গবেষণাসহ উচ্চশিক্ষা প্রদান করা হয়। সে সময় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যথেষ্ট মানসম্পন্ন গবেষণা হতো। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে পড়ালেখা করতে যেতো, কিন্তু সেই সংখ্যাটা ছিল হাতেগোনা এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা এমফিল বা পিএচডি বা পোস্ট ডক্টরাল গবেষণার জন্য। বলাবাহুল্য এই উচ্চশিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই বিদেশে লেখাপড়া করতেন বিভিন্ন সংস্থার স্কলারশিপের টাকায়।

বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা ডা. আহমদে বুরহান বলেন, কালের পরিক্রমায় বাংলাদেশে এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও খোদ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানই এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সেখান থেকে উত্তরণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভায় আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। কিন্তু জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব থাকায় প্রতিবছরই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে আসে। তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মালয়েশিয়ায় পড়তে আসে। কেন বাংলাদেশ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসে।

তারা আরো বলেন, একটি দেশের উন্নতির জন্য মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা থাকা খুবই জরুরি। একটা সময় বাংলাদেশে ‘নকল’ শব্দটি খুবই পরিচিত ছিল। এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষা আসলেই নকল উপযোগী পকেট সাইজের ম্যাজিক গাইড বের হতো, পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে ফটোকপির দোকানগুলোর ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠতো। শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে নকল করতো। বাংলাদেশ থেকে নকল দূর করে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছিল ২০০১ সালের নির্বাচিত সরকার।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ভিসা ও আবাসন সমস্যার সমাধানে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থাকতে কমিউনিটি নেতা ও হাই কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান আলোচকরা।

আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মাহাশা ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ার অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবুল বাশার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ডেভেলপমেন্ট স্টুডেন্ট বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ড. মোহাম্মদ মেহেদী মাসুদ। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন কমিউনিটি নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন, আলমগীর হোসেন।

স্টুডেন্টদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন আব্দুল বাছিত, কাউসার আহমেদ, নেছার আহমেদ, ফয়েজ নূর, ফরহাদ হোসাইন, মাহিয়া মাহি, সাজ্জাদ আহমেদ, নাইম আহমেদ প্রমুখ।

Top