আজ : বুধবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ

সময় : ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ৩১ মে, ২০১৭


সকল নিউজ আপডেট পেতে লাইক বাটনে ক্লিক করুন

আজ ৩১ মে, বুধবার, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘তামাক উন্নয়নের অন্তরায়’। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট রোগ, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতার মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার লক্ষ্যেই প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বলেছেন, তামাকের ব্যবহার হ্রাস করতে পারলে জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের প্রয়োজন একটি সুস্থ-সবল জনগোষ্ঠী। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী তামাকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে এবং এতে সৃষ্ট রোগের কারণে যে অর্থ ব্যয় হয়, তা দেশের উন্নয়নে লাগানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

তামাক ব্যবহারজনিত ব্যাপক মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অন্যতম অন্তরায়।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক খরচের পাঁচ শতাংশ তামাক ব্যবহারে এবং ১০ শতাংশ তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়। তামাকজনিত কারণে মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব ছাড়াও আরও ৬৫২ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়।

কাজেই তামাক ব্যবহারে দরিদ্র মানুষ আরও দরিদ্র হয়। তবুও তামাকের উৎপাদন কমেনি। হিসেব অনুযায়ী, ২০১১ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে তামাক চাষের জমি তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় এক লাখ আট হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান তামাক চাষের কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে। টেকসই উন্নয়নে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও লিঙ্গ সমতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশের বিড়ি ও তামাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছে মূলত শিশু ও নারী শ্রম ব্যবহার করে। কারখানার শিশুশ্রমিকরা শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে না। বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে প্রায় এক কোটি নারী। এই বিপুল বৈষম্য টিকিয়ে রেখে টেকসই উন্নয়ন কখনই সম্ভব নয়। এছাড়া তামাক ব্যবহারের কারণে কর্মক্ষম মানুষের বিরাট অংশ অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের শিকার হন, যা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বৈষম্য কমানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যুর পরিমাণ বছরে ৮০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এই মৃত্যুর মিছিল শতকরা ৮০ ভাগই হবে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। তাছাড়া বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা শহরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি হলেও পাবলিক প্লেসে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার চিত্র ঠিক উল্টো। শহরের আবদ্ধ স্থানে বায়ু দুষণের অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান, যা অধিবাসীদের নিরাপদ রাখার বড় অন্তরায়।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনটি সংশোধন করে। এরপর ২০১৫ সালে প্রকাশ করে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা। আইন ও বিধি বাস্তবায়নে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ নীতি, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি ইত্যাদি প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব নীতি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার। তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর ও দফতরের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করছে।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top