আজ : সোমবার, ২৫শে জুন, ২০১৭ ইং | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মনোনীত হয়েও ভর্তিতে আগ্রহী নন ২ লাখ শিক্ষার্থী

সময় : ৯:৫৭ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১০ জুন, ২০১৭


পছন্দ না হওয়ায় মেধাতালিকায় সুযোগ পেয়েও দুই লাখের অধিক শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

মনোনীত হয়েও যারা কলেজ বয়কট করেছেন তাদের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। শনিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ৬ জুন থেকে ৮ জনু রাত ১২টা পর্যন্ত কলেজে ভর্তির নিশ্চয়নের সময় নির্ধারণ করা হয়। আশানুরূপ নিশ্চয়ন না হওয়ায় সময় বাড়িয়ে ১০ জুন দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও দুই লাখ ১২ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আগ্রহ দেখাননি।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক আশফাকুস সালেহীন বলেন, প্রথম মেধাতালিকায় নির্বাচিত হওয়ার পরও যারা ভর্তি হননি তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।

তবে, প্রথম মেধাতালিকায় মনোনীত থাকার পরও এত শিক্ষার্থী কেন কলেজ নিশ্চয়ন করেনি তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

আশফাকুস সালেহীন বলেন, আগামীকাল রোববার এ বিষয়ে একটি সভা ডাকা হয়েছে। সভায় নিশ্চয়ন না করা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। প্রায় সকল আবেদনকারী একাধিক কলেজ পচ্ছন্দ দিয়েছেন। কেউ যদি নতুন করে আর আবেদন না করেন তবে তার জন্য দ্বিতীয় পচ্ছন্দের কলেজ পরবর্তী মেধাতালিকায় দেয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে।

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ভর্তি নিশ্চিত করতে হলে নিশ্চয়ন প্রক্রিয়া অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে টেলিটক, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রকেট ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১৮৫ টাকা দিয়ে ভর্তি নিশ্চয়ন বা নিশ্চিত করতে হবে। আবেদনের সকল প্রক্রিয়া ও নির্দেশনা স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ড ও ভর্তির ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৬ জুন থেকে কলেজ ভর্তির প্রথম মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৮ শিক্ষার্থীর নিশ্চয়ন বা বুকিং প্রক্রিয়া শুরু হয়।

নিশ্চয়ন শেষ হলে মাইগ্রেশনের জন্য আবেদন চলবে। এ সময় যারা পছন্দমতো কলেজ পাননি তারা ছাড়াও যারা কোনো কলেজ পাননি তারাও আবেদন করতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী একটি কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বোর্ডের ফি বাবদ ১৮৫ টাকা প্রদান করে ভর্তি নিশ্চয়ন করতে ব্যর্থ হলে তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে তার আবেদনটিও বাতিল হয়ে যাবে।

প্রথম দফায় মনোনীতদের নিশ্চয়নের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে মাইগ্রেশনের আবেদন ও নতুন আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

প্রথম পর্যায়ে ভর্তি নিশ্চয়নকারীরাই কেবল অন্য কলেজে মাইগ্রেশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে দ্বিতীয় মেধাতালিকায় কাঙ্খিত কলেজে (মাইগ্রেশনের জন্য আবেদন করা) মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে আসন শূন্য না থাকলে মাইগ্রেশন আবেদনকারীর প্রথম মেধাতালিকায় সুযোগ পাওয়া কলেজে মনোনয়ন বহাল থাকবে।

১৩ জুন প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় মেধাতালিকা। ১৪ ও ১৫ জুনের মধ্যে দ্বিতীয় মেধাতালিকায় মনোনীতদের নিশ্চয়ন সম্পন্ন করতে হবে।

দ্বিতীয় তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চয়নের পর তৃতীয় পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ থাকছে ১৬ ও ১৭ জুন। ১৮ জুন সর্বশেষ বা তৃতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে। তৃতীয় তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চয়ন সম্পন্ন করতে হবে ১৯ জুনের মধ্যে।

২০ থেকে ২২ জুন প্রথম দফায় এবং ২৮ থেকে ২৯ জুন দ্বিতীয় দফায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করবে কলেজগুলো। ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই।

উল্লেখ্য, গত ৯ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলে অনলাইন ও মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া। ৩০ মে পুনঃনিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা ৩০ ও ৩১ মে ভর্তির আবেদনের সুযোগ পান।

ভর্তির জন্য আবেদন করেন মোট ১৩ লাখ নয় হাজার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থী।

Top