আজ : শুক্রবার, ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং | ৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মসজিদের জমি ও সরকারি দান আত্মসাতে পাল্টা অভিযোগ

সময় : ৬:৩১ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২০ মে, ২০১৭


স্টাফ রিপোর্টার ॥ নগরীতে মসজিদের জমি এবং সরকারি দান আত্মসাতে পাল্টা অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে।নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের দিয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদ নিয়ে এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর দুইটি অভিযোগ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়।সূত্র জানায়,দিয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সম্পদ আত্নসাত নিয়ে কমিটির মধ্যেও দ্বন্দ্ব রয়েছে।জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া অভিযোগে বলা হয় মসজিদের নামে ১৯৫৩ সালে ৩৮ শতাংশ জমি স্থানীয় বাসিন্দা বেলায়েত আলী খান ওয়াকফা দলিল মূলে দান করেন।২০০১ সালের ২৯ অক্টোবর মসজিদ কমিটির সভাপতি হিসেবে সুলতান আহম্মেদ খান ও সহ-সভাপতি হিসেবে জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার ওই জমি থেকে সোয়া এক শতাংশ জমি ন্যাশনাল ব্যাংকের কর্মকর্তা শহিদুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন।যার দলিল নং ৬১০১।দলিলে দাতা হিসেবে ডেফুলিয়া গ্রামের মৃত ইসমাইল খানের ছেলে সুলতান আহম্মেদ খান এবং পরিচিত হিসাবে করমজা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার স্বাক্ষর করে টাকা আত্নসাত করেন।এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তারা অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্যে মসজিদের জায়গা বরাদ্দের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন।তাদের নিজেদের নামেও রয়েছে মসজিদের একাধিক স্টল। অপর অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালের জানুয়ারী এবং ২০১২ সালের মে মাসে সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদের নামে দুই টন চাল বরাদ্দ হয়।ওই সময়ও সুলতান আহম্মেদ খান সভাপতি হিসেবে বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাত করেন।এতে গত ২৭ এপ্রিল বরিশাল জেলা প্রশাসকের দপ্তরে স্থানীয় ২৭ নংওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ হাওলাদার, আ’লীগ নেতা জাহিদ হোসেন সবুজ, নুরুল ইসলাম খান, দেলোয়ার হোসেন সরদার, লিটন হোসেন,সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল বারী খান ও জলিল মিয়া অভিযোগ দাখিল করেন।এদিকে মসজিদ কমিটি নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধ চলমান থাকায় ২৭ ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শফিকুর ইসলাম বাবু মসজিদ কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক দাবী করে বরিশাল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ও ১৪৫ ফৌঃকাঃবিঃ ধারায় মামলা দায়ের করেন।মামলা নং ৩৪/১৭। ওই মামলায় আদালত শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিরোধীয় জমির উপর স্থিতিবস্থা জারি করলে আব্দুর রশিদ হাওলাদার মসজিদ কমিটির সভাপতি দাবী করে মামলাটি নিস্পত্তির আবেদন করেন। আদালত সরেজমিন প্রতিবেদন চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।উপজেলা সমাজ কল্যান কর্মকর্তা মোঃ কামরুল আহসান সরেজমিনে পরির্দশন করেন।অভিযোগদুটির ব্যাপারে খোজ নিতে গিয়ে মসজিদের রেজুলেশন বহি হতে জানা যায়,২০০৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী এগার সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভা হয়।সভায় দুইজন সদস্য পদত্যাগ করলে দুইজনের বদলে ৫ জন সদস্য অন্তর্ভূক্ত করা হয়।ওই সদস্যদের তালিকায় শফিকুল আলম বাবুর নাম নেই।একই সালের ২ মে কমিটির সদস্য ছারাই একটি সভা করে কোষাধ্যক্ষ আনিচুল হক চুন্নুকে সাধারন সম্পাদক,সদস্য মজিবুল হক তালুকদারকে সহ সভাপতি এবং বাবু সদস্য না হলেও তার নাম সহ সম্পাদক দেখান হয়।৩১ মে মাত্র দুজন সদস্য সাক্ষর করে সিদ্ধান্ত না দেখিয়েই ৫ জন সদস্যর নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়।পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকায় সদস্য পদ বাতিলের বিধান অমান্য করে ৪ সভায় অনুপস্থিত থেকেও জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষর করে সরকারী অনুদান গ্রহন, ও মসজিদের পুকুরে থাকা মাছ বিক্রি করে উন্নয়নের কথা ঘোষনা দেয়।অনুদান ও মাছ বিক্রি হলেও মসজিদের উন্নয়ন কাজ করা হয়নি এবং আড়াই বছরে কোন সভা করা হয়নি।একইভাবে ২০১২ সালের ১৬ মে ফের সরকারী অনুদানের একটন চাল গ্রহন করে মসজিদের উন্নয়ন কাজে লাগায়নি।দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর আর কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।বিধান অনুসারে বে আইনীভাবে গঠিত হলেও পূর্ব। কমিটির বিলুপ্ত হয়।গত ১৭ মার্চ নতুন করে একটি কমিটির অনুমোদন দেয় স্থানীয় কাউন্সিলরদ্বয়।ওই কমিটিতে পূর্বের আত্নসাতকৃতদের নাম না থাকায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুকে বাদী বানিয়ে মামলা দায়ের করায়।অপরদিকে বর্তমান কমিটি বিগত দিনের হিসেব না পেয়ে পূর্ব কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন।দুইপক্ষের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানায়, মুসুল্লিরা।মসজিদের ওয়াকফা জমি বিক্রি ও ৯৯ বছরের লীজ এর ব্যাপারে বরিশাল জেলা অাইনজীবীরা বলেন, মসজিদের জমি ওযার্কফা লিল্লা হলে কমিটি বিক্রি বা ৯৯ বছরের লীজ দিতে পারবেন না।তবে ওয়াকফা অাওলাদ হলে ওয়াকফা কমিশনারের অনুমতি সাপেক্ষে বিক্রি বা ৯৯ বছরের লীজ দিতে পারবেন। মসজিদ কমিটির একক কোন সিদ্ধান্তে মসজিদের জমি বিক্রি বা ৯৯ বছরের লীজ দিতে পারবে না।এসব অভিযোগের ব্যাপারে সুলতান অাহম্মেদ খান ও জাহাঙ্গির হোসেন তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

Top