আজ : শনিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মালিকরা বাস বন্ধ রাখলে পারমিট বাতিল : বিআরটিএ চেয়ারম্যান

সময় : ৯:১৬ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৭ এপ্রিল, ২০১৭


চলমান বিশেষ অভিযানের কারণে বাস চালানো বন্ধ রাখলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে হঁশিয়ার করে দিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান। দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সামনে বিশেষ অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।
সিটিং সার্ভিস, গেইটলক, ডাইরেক্ট জাতীয় বিভিন্ন সার্ভিস নামধারী বাস চলাচল বন্ধ করতে রোববার থেকে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির পাঁচটি টিম বিআরটিএর সঙ্গে যোগ দেয়। মালিক সমিতির কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর সড়কে বাস চলাচল ছিল একেবারে নগন্য। পরিবহন সংকটের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বিষয়টি আমলে নিয়ে বিআরটিএর চেয়াম্যান হুঁশিয়ার করে আরও বলেন, যারা রাস্তায় বাস নামায়নি তাদের তালিকা করা হচ্ছে। এ সপ্তাহের মধ্যে প্রথমে নোটিশ দেওয়া হবে। এরপরও না মানলে বাতিল করা হবে রুট পারমিট।
রুট পারমিট বাতিল প্রক্রিয়াটি আইনগতভাবে সম্পন্ন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন মাঠে থাকবো। অভিযানের ভয়ে যে মালিক বাস নামাবেন না তার বাসের ‍রুট পারমিট বাতিল হবে। বাতিল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর পাঁচ স্থানে বিআরটিএ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দায়ী পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধ জেল জরিমানাসহ আইনত শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মশিয়ার রহমান।
সকাল থেকেই বাসে সংকটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি চোখে পড়ে। হঠাৎ তৈরি হওয়া এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয় অফিস যাত্রীদের।
পরিবহন মালিক সমিতির তথ্যে জানা যায়, রাজধানীতে ১৫৫ টি কোম্পানির অধীনে প্রায় সাড়ে চার হাজার বাস চলাচল করছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিতে গেলে এমনও তথ্য পাওয়া যায় যে, রুটপারমিট পাওয়া কোন কোন কোম্পানির ব্র্যান্ড ব্যবহার করে পাঁচ থেকে পচিশজন মালিকের বাস চলাচল করছে।
বেশকয়েকজন মালিকের গাড়ি নিয়ে গঠিত আলিফ পরিবহন কোম্পানিটি। আলিফ পরিবহনের একজন বাস সুমনের কাছে বাস বন্ধ রাখার কারণ বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, ঢাকায় যানজটের কারণে এমনিতেই বেশি ট্রিপ মারা সম্ভব হয় না।
তাই যাত্রীদের বিশেষ সেবা দেওয়ার মাধ্যমে যদি বেশি ভাড়া না নেয়া হয় তাহলে খরচ পোষাতে পারবেন না মালিকরা। এছাড়া লোকাল হিসেবে চালাতে গেলে লোকসানসহ যাত্রীদের সঙ্গে দু’টাকা একটাকা নিয়ে বিতণ্ডায় জড়াতে হয়। তাই মালিকেরা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বাস বন্ধ রেখেছেন।
নাম পরিচয় প্রকাশ না করলেও এক পরিবহন মালিক জানান তার দুটি বাস একটি সিটিং সার্ভিস কোম্পানির ব্র্যান্ডে চলাচল করছে।
তিনি বলেন, বেশির ভাগ বাস মালিক শ্রমিকদের কাছে জিম্মি। নিজেদের তত্বাবধানে বাস চালাতে গেলে শ্রমিকদের দুর্নীতির কারণে লোকসানের শিকার হোন।
তাই দৈনিক ভাড়া চুক্তি হিসেবে বাস পরিচালনার দায়িত্ব শ্রমিক বা কথিত স্টাফদের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হোন তারা।
তিনি আরও জানান, চালক, হেলপার, কন্ডাকটর ও লাইন ম্যানেজারদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট তাদের বাস কখনো লোকাল কখনো সিটিংসহ বিভিন্ন সার্ভিসের নাম দিয়ে নিজেদের সুবিধা মত চালায়। তাদেরই সিদ্ধান্তে বাস বন্ধ আছে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে মোহম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় বাস বন্ধ থাকার সুযোগে ছুটির আমেজে আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায় বেশ কিছু শ্রমিককে। তাদের কাছে জানতে চাইলে বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের দায় মালিকদের ওপরই চাপান তারা।
সিটিং সার্ভিস, গেইট লক, বিরতিহীন কিংবা স্পেশাল সার্ভিস জাতীয় যাত্রী পরিবহনের বিরুদ্ধ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন গণমাধ্যমে হরহামেশাই যা উঠে এসেছে।

কিন্তু মুোটরযান আইন অনুসারে, সিটিং সার্ভিস বলে কিছু নেই। শুধু তাই নয় চালকের আসনসহ মিনিবাসে ৩১টি আসনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নগরীর প্রায় প্রতিটি মিনিবাসকে অন্তত ৩৬ সিটে রুপান্তর করা হয়েছে।
মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেই, পরিবহন খাতের ২০টি বিষয়ে ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণ করে বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ। তাই অতিরিক্ত ভাড়া কোনোভাবেই আদায় করতে পারে না বলে জানান বিআরটিএ চেয়ারম্যান।
সিটিং সার্ভিসসহ বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধ করতে পরিবহন মালিক সমিতির পাঁচ টিমের বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় রোববার। বিআরটিএর নিয়মিত অভিযানের সঙ্গে মালিক সমিতির দুঢ় অবস্থান যুক্ত হওয়ার দ্বিতীয় দিনেই এই তীব্র পরিবহন সংকটের তৈরি।

এর আগে গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি। ওইদিন সমিতির পক্ষ থেকে বিআরটিএ নির্ধারিত চার্ট অনুসরণ করে ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয় গণপরিবহনগুলোকে। যা ১৫ এপ্রিল শনিবার থেকে মেনে চলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

Top